সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ আগস্ট: নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতিতে তদন্তে সোমবারই গ্রেফতার করা হয়েছে টাকা দিয়ে চাকরি কেনা মুর্শিদাবাদের চার শিক্ষককে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের গ্রেফতারির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তবে কোনও শিক্ষককে এর আগে গ্রেফতার হয়নি। এই প্রথমবার ‘অযোগ্য’ শিক্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। তারই মধ্যে মুর্শিদাবাদের পর এবার কোচবিহারের প্রাথমিকের ৩০ জন শিক্ষককে নিজাম প্যালেসে তলব করল সিবিআই। জানা গিয়েছে, ৩০ জন শিক্ষকই ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষার্থী। তাঁদের নিয়োগের সময় অর্থনৈতিক লেনদেন হয়েছিল কিনা,তা জানতেই বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট, জাতি শংসাপত্র ইত্যাদি নথি নিয়ে তাঁদের নিজাম প্যালেসে আসতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছেও ওই ৩০ জন শিক্ষকের বিষয়ে সমস্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর,মূলত টাকার বিনিময়ে কোথায় কোথায় চাকরি বিক্রি হয়েছে, সেই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতেই বিভিন্ন জেলার শিক্ষকদের তলব করছেন সিবিআই আধিকারিকরা।

এর আগে গত সোমবারই আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয় মুর্শিদাবাদের ‘অযোগ্য’ চারজন শিক্ষককে। তদন্তের ভিত্তিতেই জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ওই চার শিক্ষক ঘুষের টাকা দেন নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত তাপস মণ্ডলকে। তদন্তকারীদের ধারণা, বিভিন্ন কলেজগুলিতে চাকরিপ্রার্থীদের খুঁজে টোপ ফেলতেন দালালেরা। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চলত বেআইনি নিয়োগ। গ্রেফতার হওয়া ওই চার শিক্ষকের থেকে কীভাবে টাকা তাপস মণ্ডলের কাছে পৌঁছত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্বেই সিবিআই ও ইডি দাবি করেছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়-মানিক ভট্টাচার্যদের জুটি টাকা দিয়ে হাজার হাজার চাকরি বিক্রি করেছে। এবং এভাবে চাকরি বিক্রি করে তাঁরা কয়েক হাজার কোটি টাকা তুলেছিলেন। সিবিআই আগেই দাবি করছিল যে, একাধিক প্রার্থীর বয়ান থেকে তাপসের টাকার লেনদেন প্রকাশ্যে এসেছে। তবে কে কাকে টাকা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। এদিন আদালতে সিবিআই তদন্তকারীরা যে নথি পেশ করেন, তাতে ওই চার শিক্ষকের নাম ছিল এবং নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ওই চার শিক্ষক টাকা দিয়ে চাকরি কেনে। ঘুষের টাকা তাঁরা দেন তাপস মণ্ডলকে।
আরও পড়ুন পশ্চিমবঙ্গে মরুদেশের মরিয়ম খেজুর ফলিয়ে তাক লাগিয়েছেন বসিরহাটের হামিদ

প্রসঙ্গত,নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বারাসাতেও তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। এরপরই বারাসতে কামাখ্যা মন্দিরের কাছে মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ একটি টিচার্স ট্রেনিং সেটারের কর্ণধার তাপস মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের একটি বড় দল। প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তাপস মণ্ডল প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত রয়েছে বলেই ইডি সূত্রের খবর। জানা গিয়েছিল,মানিক ভট্টাচার্যকে জেরা করে তাঁর বাড়ি থেকে যেসব কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে তা থেকেই এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। তবে শুধু এই ট্রেনিং সেন্টারই নয়,এরকমই বেশ কয়েকটি ট্রেনিং সেন্টার নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই সব ট্রেনিং সেন্টারই মিডলম্যানের কাজ করত।


More Stories
পারিবারিক ত্রিকোণ প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে খু*ন করে আত্ম*ঘাতী স্বামী
অহংকার মমতার পতনের কারণ বললেন জগন্নাথ দয়িতাপতি
দলবদল করে বিজেপিতে তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ