স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১২ অগস্ট: অবশেষে শাপমোচন , দীর্ঘ প্রহর গোনার অবসান ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের । ১৬৫৭ দিন পরে ডার্বিতে শাপমোচন , যেন কলঙ্কমুক্তি ইস্টবেঙ্গলের। নন্দ কুমার শেখরের করা একমাত্র গোলে দুরন্ত জয় লাল-হলুদের। শনিবার বৃষ্টিভেজা যুবভারতীর রং লাল হলুদ।
ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচ যে খাতায় কলমে হয়না, ইস্টবেঙ্গলের শাপমোচন হওয়ার দিন তার প্রমাণ আবার মিলল। ডুরান্ড কাপে মরশুমের প্রথম ডার্বিতে মুখোমুখি হয়েছিল ভারতের দুই শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব। দীর্ঘ ৮ ম্যাচ মোহনবাগানের বিপক্ষে জয় পায়নি দল। তার উপর এবার ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের নাম মোহনবাগান। ইউরো কপার, বিশ্বকাপার থেকে ভারতীয় ফুটবলের সব দামী দামী তারকা রয়েছে দলে। তবুও দলের প্রতি আবেগ ভালোবাসায় মাঠ ভরিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। দলের খেলা দেখতে। নতুন কোচের প্রশিক্ষণে কেমন খেলে নতুন দল তার সাক্ষী থাকতে। না, এদিন আর নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরবেন না তাঁরা।
ডুরান্ড কাপে রিজার্ভ দলের সঙ্গে কয়েকজন প্রথম দলের ফুটবলারকে দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করলেও, এদিন প্রথম দলটিকে মাঠে নামিয়ে দেন মোহন কোচ। অপরদিকে দলের প্রধান তারকা স্ট্রাইকার ক্লেইটন সিলভাকে মাঠের বাইরে রেখে দল সাজাতে হয় ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাতকে। প্রথমার্ধে দুই দলই হিসেবী ফুটবল খেলল। দুই প্রান্তকে কাজে লাগিয়ে একে অন্যের রক্ষণে হানা দিলেও কাঙ্ক্ষিত গোলটির সন্ধান পায়নি কোনও দলই। ম্যাচের ১৮ মিনিটে নাওরেমের ক্রস থেকে শট নিয়েছিলেন লাল হলুদের নতুন বিদেশী সিভেরিও। কিন্তু সে যাত্রায় মোহনবাগানকে রক্ষা করেন ব্র্যান্ডন হামিল। ম্যাচের ২১ মিনিটে সাদিকুর পাস থেকে নেওয়া বুমোর শট পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ২৩ মিনিটের মাথায় মোহনবাগানের পতন রোধ করেন গোলরক্ষক বিশাল। এদিন শক্তিশালী মোহনবাগান মাঝমাঠকে খেলাই তৈরি করতে দেয়নি ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। ইস্টবেঙ্গল মাঝমাঠে এদিন দুরন্ত খেলেন সউল ক্রেস্পো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ফের প্রান্ত দুটিকে ব্যবহার করে আক্রমনে ঝাঁঝ বাড়ায় সবুজ মেরুন। লিস্টন কোলাসো ও মানবীর সিং একাধিক আক্রমণ তৈরি করলেও কাজের কাজ হয়নি। এদিন মোহনবাগান জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নেমে চূড়ান্ত ব্যর্থ সাদিকু। ইস্টবেঙ্গলের অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ব্যাক জর্ডন এলসি তাঁকে সারাক্ষণ কড়া নজরে রাখলেন। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে আনোয়ারের নেওয়া মাঝমাঠ থেকে শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ওই বলটি গোলে থাকলে একটি দর্শনীয় গোল করতে পারতেন তিনি। কিছুটা ম্যাচের গতির বিপরীতে গিয়ে প্রথম গোলটি পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। একটি থ্রু বল পেয়ে ডান প্রান্ত থেকে উঠে গিয়ে মোহন গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন নন্দা। অনবদ্য ফিনিশিংয়ের উদাহরণ গোলটি। যদিও গোলটি হজম করার ক্ষেত্রে দায় বর্তায় অনিরুদ্ধ থাপার ঘাড়ে। ভারতীয় ফুটবল দলের নিয়মিত সদস্য বলটি সঠিক ভাবে ইন্টারসেপ্ট করতে পারেননি। ০-১ গোলে পিছিয়ে পরেও হাল ছাড়েনি গতবারের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ চ্যাম্পিয়নরা। যদিও মাটি কামড়ে একমাত্র গোলের ব্যবধান ধরে রাখে ইস্টবেঙ্গল। এমনকি সমতা ফেরাতে বিশ্বকাপার জেসন কামিংসকেও মাঠে নামিয়ে দেন মোহন কোচ। কিন্তু তাতেও মুখ রক্ষা হলনা। চার বছর পর ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরেই মাঠ ছাড়তে হল মোহনবাগানকে।


More Stories
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
কুপার কনোলি জেতালেন পাঞ্জাবকে