সময় কলকাতা ডেস্ক: ১২ আগস্ট: রাজ্য- রাজ্যপাল সংঘাতের আবহের মধ্যেই এবার হাইকোর্টের দারস্থ হলেন স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য অপসারিত উপাচার্য সুহৃতা পাল। কিছুদিন আগেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের নির্দেশে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পর থেকে অপসারিত করা হয় সুহৃতা পালকে। এরপরই সুহৃতা পাল স্বাস্থ্য সচিব, বিশেষ স্বাস্থ্য সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার , ওএফডির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে এই সংঘাতের মধ্যেই স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্য নিযুক্ত করল স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ থেকে আগেই অপসারিত হয়েছেন সুহৃতা পাল। এবার চিকিৎসক দেবাশিস বসুকে সহ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রির অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উপাচার্য পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সুহৃতা পাল। আর এসবের মধ্যেই অভিভাবকহীন স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্য নিয়োগ করল স্বাস্থ্য ভবন।

আরও পড়ুন দৈনিক রাশিফল: ১২ আগস্ট কেমন কাটবে?
প্রসঙ্গত, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। তারই মধ্যে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে নজর ছিল রাজভবনের। এরপরই স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নিয়োগ সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল রাজ্যপাল। কিছুদিন আগে এই নিয়ে আদালতে মামলাও দায়ের হয়। তারপরেই স্বাস্থ্যভবনে নিয়োগ সংক্রান্ত চিঠি পাঠায় রাজ্যপাল। এরপরই স্বাস্থ্যভবনে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুহৃতা পাল। তিনি পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনাও করেন। জানা গিয়েছে, রাজভবন থেকে এই চিঠি আসার পরই চিকিৎসক সংগঠন, ৯টি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ রাজভবনের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশকিছু খামতি রয়েছে। আর সেই অভিযোগ উঠছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলকে জড়িয়ে।

এর আগেও রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন রাজ্যপাল। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি। যা নিয়ে রাজভবনের সঙ্গে উচ্চ শিক্ষা দফতরের তুমুল সংঘাত শুরু হয়। এমনকী রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করে রাজ্য। সেসময় রাজ্যপালের সিদ্ধান্তেই আস্থা জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।


More Stories
অহংকার মমতার পতনের কারণ বললেন জগন্নাথ দয়িতাপতি
দলবদল করে বিজেপিতে তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ
তোমার বিছানায় নাচি নি,দরকার হলে ওটাও করব: মমতাকে হুমকি দিলীপের