সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ আগস্ট: ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে এবার উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীকে গুলি করে খুন। নিহত তৃণমূল কর্মীর নাম সাহেব আলী। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া থানার অন্তর্গত সামলা এলাকার ঘটনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকাজুড়ে। ঘটনার পরই এলাকা থেকে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। হাড়োয়ায় তৃণমূল নেতাকে খুনের ঘটনায় দলেরই অপর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছে নিহতের পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, শেখ সায়েব আলী ছিলেন কিষান ক্ষেতমজুর সেলের হাড়োয়া এক নম্বর ব্লক সভাপতি। শনিবার রাতে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির বাড়ি থেকে বাইকে চেপে বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। ঠিক সেসময়ই তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায় ১০ থেকে ১৫ জন দুষ্কৃতী। এরপর তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। আট থেকে দশ রাউন্ড গুলি লাগে তাঁর গায়ে। বুক, পিঠ এমনকী মাথাতেও গুলি লাগে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি হাড়োয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সায়েব আলীকে উদ্ধার করে। এরপর তাঁকে হারবাগ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরাই মৃত বলে ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হাড়োয়া থানার পুলিশ।
আরও পড়ুন ধূপগুড়িতে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে ,জাতীয় সড়কের ওপর হাতাহাতি

এদিকে, এই ঘটনার পর থেকেই বড়সড় অশান্তি এড়াতে ঘটনাস্থলে মোতায়ন রয়েছে হাড়োয়া থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনার তদন্তের জন্য হাড়োয়া থানার পুলিশ শেখ সাহেব আলী বাইক চালক মোর্শেদ শেখকে আটক করেছে। পাশাপাশি, হাড়োয়া তৃণমূল নেতা খুনে সামলা বাজার এলাকায় কর্তবযশেরত দুই সিভিক ভলেন্টিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের দাবি, পরিকল্পনা করে দলেরই অপর গোষ্ঠী সাহেব আলীকে খুন করেছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরকারি চাকরির আবেদন জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।


More Stories
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
রং যেন মোর মর্মে লাগে – উৎসবে সমাজকর্মী কাউন্সিলরের আহ্বান
লক্ষ্মীর ভান্ডারে লক্ষীলাভ : নববারাকপুরে মহামিছিল