সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৫ আগস্ট: যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। তদন্তে নেমে একের পর এক তথ্য উঠে আসছে পুলিশের হাতে। ইতিমধ্যেই তদন্তের স্বার্থে উঠে এসেছে এক চিঠি। সেই চিঠি কার লেখা তা পুলিশকে ভাবাচ্ছিল। এবার সেই রহস্যেরই সমাধান সূত্র হাতে পেয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। জানা গিয়েছে, ধৃত দীপশেখর দত্তই ওই চিঠিটি লিখেছিলেন! গত বুধবার রাতে যাদবপুরের মেন হস্টেলের এফ-২ ব্লকের তিনতলা থেকে নীচে পড়ে মৃত্যু হয় স্বপ্নদীপ কুণ্ডু নামের এক পড়ুয়ার। মৃত পড়ুয়ার বাবার অভিযোগ, র্যা গিংয়ের শিকারের বলি হয়েছে তার ছেলে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সৌরভ চৌধুরী, দীপশেখর দত্ত ও মানস ঘোষ নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার চারদিন পর সামনে আসে হলুদ রঙের একটি ডায়েরির কথা। কী ছিল ওই ডায়েরিতে সেই নিয়ে রহস্য দানা বাঁধতে থাকে। পরে জানা যায়, চিঠিটি ‘ডিন অফ স্টুডেন্টস’-এর উদ্দেশে লেখা। সেই চিঠির নীচে ছিল মৃত পড়ুয়ার সই, এমনকী চিঠির শুরুতে তাঁর নামও লিখেছেন। চিঠির পরতে পরতে ছিল র্যা গিংয়ের অভিযোগ। অভিযোগ করা হয়েছে, সিনিয়ররা হস্টেলের পরিবেশ নিয়ে ভয় দেখিয়েছেন। এমনকী চিঠিতে একজনের নামেরও উল্লেখ করা হয়েছে। মৃতের বাবার দাবি ছিল, ওই চিঠি তাঁর ছেলের লেখা নয়। সূত্রের খবর, ধৃত দীপশেখর পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছেন যে, চিঠিটা তাঁরই লেখা। কিন্তু কী উদ্দেশ্য নিয়ে দীপশেখর ওই চিঠি লিখেছিলেন, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।

যদিও প্রথম থেকেই কেননা ওই চিঠির তারিখে গোলমাল রয়েছে বলেই দাবি করা হয়েছিল। কেননা ওই চিঠিতে তারিখ ছিল ১০ আগস্ট। কিন্তু ৯ আগস্ট রাতেই হস্টেলের বারান্দা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়া। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বৃহস্পতিবার হাসপাতালেই মারা যান তিনি। তা হলে চিঠি কবে লেখা হল, তা নিয়েই তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। চিঠিটি যেহেতু ডিনের উদ্দেশে লেখা, তা হলে সেটি ডায়েরির পাতায় কেন লেখা হল? কেন সাদা এ৪ কাগজে লেখা হল না? ইতিমধ্যেই সেসব প্রশ্ন উঠতেও শুরু করেছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, হস্টেল থেকে ডায়েরি উদ্ধার হওয়ার পর শনিবার মৃত পড়ুয়ার মামাবাড়ি নদিয়ার রানাঘাটে গিয়েছিল যাদবপুর থানা এবং কলকাতা পুলিশের চার সদস্যের একটি দল। তদন্তের স্বার্থে ওইদিন প্রায় ঘণ্টাখানেক পড়ুয়ার মামার সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাঁর বয়ানও রেকর্ড করা হয়।
আরও পড়ুন যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ধৃত সৌরভ চৌধুরীকে জেরা করতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মামার বাড়ি থেকে এমন দুটি খাতাও তদন্তকারীরা সংগ্রহ করেছেন, যে খাতায় পড়ুয়ার হাতের লেখা রয়েছে। এরপরই মৃতের বাবা দাবি করেন, ওই চিঠি তাঁর ছেলের লেখা নয়। চিঠিতে থাকা মৃত ছাত্রের দুটি স্বাক্ষরেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, উদ্ধার হওয়া ডায়েরির পাতায় চিঠির প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়ার একাধিক সইও মিলেছে। কিন্তু চিঠির হাতের লেখা এবং সই কার? তা জানতেই পড়ুয়ার হাতের লেখা এবং সই রয়েছে, এমন বেশ কিছু খাতা, ডায়েরি এবং নথি ভাল করে খতিয়ে দেখা হয়। হাতের লেখা বিশারদকে দিয়ে সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা হয় বলে খবর পুলিশ সূত্রে খবর। এরপর ধৃত দীপশেখর দত্ত স্বীকার করে সে নিজেই ওই চিঠিটি লিখেছিলেন!


More Stories
তারাতলা বিপর্যয় কাণ্ডে ববি হাকিমের গ্রেফতারের দাবি
মৃত্যু মিছিলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ এবং কালীর “কালা কার্তুত!”
গভীর বিপাকে অরূপ বিশ্বাস, খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের