Home » ট্রেনচালকের তৎপরতায় আরেকবার প্রাণে বাঁচল গজরাজ

ট্রেনচালকের তৎপরতায় আরেকবার প্রাণে বাঁচল গজরাজ

সানি রায়, সময় কলকাতা,২১ আগস্ট :ট্রেনচালকের তৎপরতায় আরেকবার প্রাণে বাঁচল গজরাজ। আরেকবার এড়ানো গেল বিপর্যয়, প্রাণে বাঁচল হাতি । রেললাইনে মাঝেমাঝেই উঠে এসেছে গজরাজ । প্রায় প্রতি ক্ষেত্রেই বড়সড় বিপর্যয় এড়াতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ন হচ্ছেন চালক ।ফলে বড় বিপর্যয় রোধ করা যাচ্ছে।প্রাণে বাঁচছে এক বা একাধিক গজরাজ  ।

গত আট দিনে রেলচালকরা দক্ষতা ও তৎপরতা না দেখালে প্রতিটি ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি হতে পারত ডুয়ার্সের রেলপথে বিন্নাগুড়ির বা চাপড়ামারির ঘটনার। ২০১০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মোরাঘাটে রেললাইন পার হতে গিয়ে ঝাঁজা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় মারা যায় সাতটি হাতি। ২০১৩ সালের ১৫ ই নভেম্বর আবার সাতটি হাতি মারা পড়ে। একসঙ্গে সাতটি হাতির মৃত্যু৷ পাঁচটি পূর্ণবয়স্ক, দু’টি শাবক৷ সেই উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলে একচুলের জন্য আবার সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভবপর হল যেখানে প্রানহানি হতে পারত  হাতির।

এই নিয়ে আরেকবার জরুরিকালীন ব্রেক কষে চাপরামারি অভয়ারণ্যের রেললাইনে উঠে পড়া হাতির প্রাণ বাঁচালেন দুই চালক। রবিবার বিকেলের ঘটনা। বিজনি স্টেশনগামী একটি আপ কন্টেনার ট্রেনের লোকো পাইলট ডি সিং ও অ্যাসিট্যান্ট লোকো পাইলট পি দাস হঠাৎই একটি মাকনা হাতিকে রেললাইনের ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা জরুরিকালীন ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে দেন। হাতি লাইন পেরিয়ে একদিকের জঙ্গল থেকে অন্যপাশের জঙ্গলে যাওয়ার পরই তাঁরা গন্তব্যে রওনা দেন।

গত ১৬ আগস্ট শিলিগুড়ি জংশন থেকে ধূবুড়িগামী ডেমু এক্সপ্রেসকেও ওই রেলপথেই লোকো পাইলট জীতেন্দ্র কুমার ও অ্যাসিট্যান্ট লোকো পাইলট ডি কুমার একটি হাতিকে লাইনের ওপর দেখতে পান। সেদিনও সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে দেন। ৪ মিনিট ওই যাত্রীবাহী ট্রেনটি দাঁড়িয়ে থাকে। গজরাজ লাইন ছেড়ে জঙ্গলে ঢোকার পরই ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তার আগের ঘটনাটি ঘটে ১১ অগাস্ট রাতে৷ জলঢাকা সেতুর সামনে একইভাবে হাতির প্রাণ বাঁচিয়ে ছিলেন আপ কাপল লাইট ইঞ্জিন নামে একটি ট্রেনের দুই চালক অনিল কুমার ও আর কে মাহাতো।

রেলপথে বন্যপ্রাণীদের রক্ষায় রেলদপ্তর উদ্যোগী হয়ে নিয়েছে পাইলট প্রজেক্ট ।বারবার  রেল চালকের সতর্কতার সৌজন্যে ট্রেনের সঙ্গে হাতির সংঘর্ষ এড়ানো যাচ্ছে ।উল্লেখ্য,গত তিনবছরে ট্রেনচালকদের সতর্কতায় হাতিদের মৃত্যু এসে প্রায় শূন্যতে ঠেকেছে।একটি গর্ভবতী হাতি ছাড়া ট্রেন ও হাতির সংঘর্ষের  খবর নেই সাম্প্রতিককালে । আগেই রেলের তরফে জানানো হয়েছিল যে , ‘বন্যপ্রাণীদের রক্ষায় রেল দপ্তর ও ট্রেনচালকরা সবসময়েই সতর্ক রয়েছেন। এদিনের ঘটনা ফের তা প্রমাণ করল। ট্রেনচালকদের এজন্য পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।’ তবে ট্রেনচালকরা যা করে চলেছেন তা পুরস্কারের উর্দ্ধে তা বলাই বাহুল্য।।

 

About Post Author