Home » যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর দিন পুলিশকে কেন ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা? বিশ্ববিদ্যালয়কে জবাবদিহির নির্দেশ হাইকোর্টের

যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর দিন পুলিশকে কেন ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা? বিশ্ববিদ্যালয়কে জবাবদিহির নির্দেশ হাইকোর্টের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ আগস্ট: ৯ আগস্ট রাতে পুলিশ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছলেও তাঁদেরকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের তরফে পৃথক একটি মামলা রুজু করে তদন্তও শুরু হয়েছে। এবার এই ঘটনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কৈফিয়ত চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের প্রশ্ন, যাদবপুরে ৯ আগস্ট রাতে কেন পুলিশকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়? আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ইউনিয়নকেও মামলায় পার্টি করার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। জানা গিয়েছে, ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেন তৃণমূলের সুদীপ রাহা। এরপরই হস্টেলে পুলিশ কে ঢুকতে না দেওয়ার কারণ জানানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষর কৈফিয়ত তলব করেন বিচারপতি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৮ আগস্ট বলেই জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য,যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। তদন্তে নেমে একের পর এক তথ্য উঠে আসছে পুলিশের হাতে। যাদবপুর পড়ুয়ার মৃত্যুকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। রাজ্য সরকারের ভর্ৎসনা করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যকে অবশ্যই মানতে হবে হাইকোর্টের নির্দেশ। কোনও ছাত্রের ব়্যাগিং করার অধিকার কারোর নেই।’ যদিও যাদবপুরে প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। এই ঘটনার পরই রাজ্য-রাজনীতিতে শুরু হয় জোর চর্চা। এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। এরকম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্রেরই ব়্যাগিং করার অধিকার নেই। র‍্যাগিং রুখতে আর.কে রাঘবন কমিটি, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট, ইউজিসি কারও নির্দেশই মানেনি রাজ্য। রাজ্য সরকারের অবশ্যই হাইকোর্টের নির্দেশ মানা উচিত। এটা ওদের দায়িত্ব।’

আরও পড়ুন   ছাত্রমৃত্যুর জের, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটির বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত

এদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটির সুপারিশ কার্যকর করার আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী সায়ন বন্দোপাধ্যায়। আইনজীবীর সেই আবেদনেই কার্যত সায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ। র‍্যাগিংয়ের বিরোধিতায় জনস্বার্থ মামলা দায়েরের আবেদন জমও পড়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, র‍্যাগিংয়ের বিরোধিতায় সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে আর.কে রাঘবন কমিটি যে গাইডলাইন তৈরি করেছে, তা প্রয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাক্তন কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করে গাইডলাইন কার্যকরের কথাও জানানো হয়েছে। মামলাকারীর মতে, অ্যান্টি  র‍্যাগিং কমিটির সুপারিশ হলে কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের দাপট কমবে।

About Post Author