Home » ছাত্রমৃত্যুর জের, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটির বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত

ছাত্রমৃত্যুর জের, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটির বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ আগস্ট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। তদন্তে নেমে একের পর এক তথ্য উঠে আসছে পুলিশের হাতে। যাদবপুর পড়ুয়ার মৃত্যুকাণ্ডে এই নিয়ে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পরেই সোমবার অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটির বৈঠক ডেকেছিলেন নবনিযুক্ত উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ। ওই বৈঠকে রযাহ গিং এবং বুলিং বন্ধ করতে অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটিকে আরও তৎপর হতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন এনজিওর থেকেও সাহায্য নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। জানা গিয়েছে, যে সমস্ত অধ্যাপকরা ছাত্রছাত্রীদের মেন্টর হিসেবে কাজ করেন, তাঁদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করা হবে। র‍্যাগিং রুখতে ইউজিসির নিয়ম মেনে অ্যান্টি  র‍্যাগিং কমিটির তরফে স্নাতক স্তর থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত সমস্ত পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলা হবে বলেই জানা গিয়েছে। র‍্যাগিং রুখতে পড়ুয়াদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করার পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলা হবে। উপাচার্য জানিয়েছেন,বিশ্ববিদ্যালয় এবং হস্টেলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। র‍্যাগিং রুখতে ইতিমধ্যেই ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম চালু করার কথা ভাবা হয়েছে। এছাড়াও হস্টেলের আবাসিকদের জন্য আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। বহিরাগত কাদের ঢুকতে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গেটে লগবুক রাখা হবে। তাতে নাম লিখে তবেই ঢোকা যাবে হস্টেলে।


প্রসঙ্গত,যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার জেরে উত্তাল রাজ্য। এই অশান্তির আবহের মাঝেই শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ঠিক করেন যাদবপুরের আচার্য তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। জানা গিয়েছে,গণিত বিভাগের অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব দিয়েছেন রাজ্যপাল। এখন থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য পদের দায়িত্ব সামলাবেন বুদ্ধদেব সাউ। গণিত বিভাগের অধ্যাপকের পাশাপাশি তিনি জাতীয়তাবাদী অধ্যাপক ও গবেষক সঙ্ঘের পশ্চিমবঙ্গ ইউনিটের রাজ্য সভাপতিও। যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার পরই হস্টেলে র্যা গিংয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তারপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এই প্রেক্ষিতে যাদবপুরে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী উপাচার্য না থাকার বিষয়টিও সামনে আসে। এহেন পরিস্থিতিতে বুধবারই বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষপদস্থ আধিকারিকদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপরই এ বিষয়ে পদক্ষেপ করেন রাজ্যপাল।

আরও পড়ুন    বিডিও শঙ্খদীপ দাসের পরে জেনারেল অবজারভার সুহাস কৃষ্ণা দিওয়াসে , আবার প্রশাসনিক রদবদল ধূপগুড়িতে

যদিও, রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে বেনজির সংঘাতের সাক্ষী থেকেছে গোটা বাংলা। সেই আবহেই যাদবপুরে উপাচার্যের দায়িত্ব সেই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অধ্যাপকের হাতে দিলেন রাজ্যপাল। এর আগে গত ৩১ মে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন সুরঞ্জন দাস। তারপর থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অমিতাভ দত্তর হাতে অস্থায়ী উপাচার্যের দায়িত্ব দিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এসবের মাঝেই গত ৪ আগস্ট রাজ্যপাল অমিতাভ দত্তকে ইস্তফা দিতে বলেন। তারপর থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে স্থায়ীভাবে কাউকে নিয়োগ করা হয়নি।

About Post Author