সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ আগস্ট : মার্জার এগ্রিমেন্ট সাক্ষরের দিনটিকে কুচবিহারবাসীকে শোক দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জীবন সিংহের।কেন্দ্রীয় সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৮ আগস্ট মহারাজা জগদ্দিপেন্দ্র নারায়ণ ভারতভুক্তির ৯টি ধারা বিশিষ্ট ১৬ পৃষ্ঠার চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ এবং ভারতের গভর্নর জেনারেলের মধ্যে মার্জার এগ্রিমেন্ট (Merger Agreement বা অন্তর্ভুক্তি চুক্তি) স্বাক্ষরিত হয়।আর এই মার্জার এগ্রিমেন্ট যথাযথ ভাবে পালিত হয় নি জানিয়ে ২৮ আগস্ট দিনটিকে শোক দিবস পালন করার জন্য একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেছেন কেএলও নেতা জীবন সিংহ। ভিডিও বার্তা ভাইরাল হয়েছে, উঠে এসেছে কতগুলি প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, মার্জার এগ্রিমেন্টের প্রথম ধারায় রয়েছে যে, ‘কুচবিহারের মহামান্য মহারাজা তার কুচবিহার রাজ্যকে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করলেন এবং এই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রাজ্য শাসনের নিমিত্ত শাসন সংক্রান্ত তার পূর্ণ এবং সকল শাসনাধিকার, আইন প্রণয়ণ অধিকার ও ক্ষমতা ভারত সরকারের কাছে অর্পণ করলেন এবং ১২ই সেপ্টেম্বর ১৯৪৯ সালে রাজ্যের শাসনভার ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবেন। উক্ত দিবস থেকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার শাসন অধিকার, আইন প্রণয়ণ অধিকার ও ক্ষমতা যেমন ইচ্ছে এবং যারা দ্বারা ইচ্ছা পূরণ করতে পারবেন। ‘
এদিকে জীবন সিংহ যে ভিডিও বার্তা শেয়ার করেছেন সেখানে কোচবিহার মার্জার এগ্রিমেন্টকে তিনি যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তা ঘিরে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কেএলও নেতা ভিডিও বার্তায় বলেছেন, তাঁরা “স্বাধীন ভারতে পরাধীন।” তাঁর প্রশ্ন, ” স্বাধীনতার অমৃত স্বাদ আমরা কি গ্রহণ করতে পারব না? ” মার্জার এগ্রিমেন্টের শর্ত পালিত হচ্ছে না জানিয়ে তিনি সংক্ষেপে যে যে যুক্তি খাড়া করেছেন এবং মার্জার এগ্রিমেন্টের কার্যকর না হওয়া দিক তুলে ধরেছেন তার সঙ্গে প্রকৃত চুক্তির ফারাক দেখতে পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, কোচবিহারের রাজার সঙ্গে কেন্দ্রের যে ১৬ পাতার চুক্তি হয়েছিল তার সঠিক ব্যাখ্যা জীবন সিংহ করেন নি। সেই চুক্তি মূলত রাজার সঙ্গে হয়েছিল। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, চূড়ান্ত বিচ্ছিন্নতাবাদের নিদর্শন এই ভিডিও বার্তা।তাঁরা মনে করছেন,একটি বিশেষ চুক্তির আংশিক অপব্যাখ্যা করে সস্তা জনপ্রিয়তা ও সহানুভূতি কুড়িয়ে মার্জার দিবসকে হাতিয়ার করছেন জীবন সিংহ। কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইসেশনের সুপ্রিমোর গোপন ডেরা থেকে ভিডিও বার্তা তাঁদের অনেকটাই স্তিমিত হয়ে আসা আন্দোলনকে গতি দেওয়ার চেষ্টা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন : বাসন্তীতে স্ত্রীর ঠোঁট কামড়ে ছিঁড়ে নিল স্বামী


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?