সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ আগস্ট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তদন্ত যতই এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূতে হচ্ছে রহস্য। ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার সেনার পোশাকে যাদবপুরে ঢুকে পরা সেই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজি সাদেক হোসেনকে গার্ডেনরিচ এলাকা থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার রাতে কাজি সাদিক হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাদবপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পরেই গ্রেফতার করা হয় তাকে। জানা গিয়েছে, গত দু’দিন আগেই সেনার ছদ্ম পোশাকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়েছিল একদল যুবক-যুবতী। সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করতেই দাবি করে, তারা নাকি ‘বিশ্ব শান্তি সেনা ভলান্টিয়ার্স’। ‘এশিয়ান হিউম্যান রাইটস সোসাইটি’ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এটি। জনৈক কাজি সাদেক হোসেন এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গিয়েছে। যেখানেই ঝামেলা হয়, শান্তির বার্তা নিয়ে তাঁরা নাকি সেখানে গিয়ে হাজির হন। কিন্তু কেন এ ধরনের পোশাকে তারা ঘোরে, কী উদ্দেশ্য, এ সবকিছুরই খোঁজ শুরু করে পুলিশ। এমনকী মামলা রুজু করে। এরপরই এই ঘটনায় যাদবপুরের উপাচার্যকেও চিঠি দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

এদিকে, ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষা পেয়ে র্যা গিং-মুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে ইতিমধ্যেই ইসরো-র চেয়ারম্যান এস সোমনাথের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে কীভাবে র্যা গিং আটকানো যায়, তা নিয়ে শুক্রবার দীর্ঘক্ষণ ইসরোর সঙ্গে বৈঠক করেন উপাচার্য। এদিন ইসরোর চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন দিকগুলি নিয়ে কথা বলেন তিনি। কীভাবে প্রযুক্তিগত সুবিধা ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলিকে র্যা গিং থেকে মুক্ত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে উভয়ের মধ্যে। শুধু ইসরোর চেয়ারম্যানের সঙ্গেই নয়, এর পাশাপাশি হায়দ্রাবাদের একটি সংস্থার সঙ্গেও এই নিয়ে আলোচনা করেছেন রাজ্যপাল বোস। ভিডিয়ো অ্যানালিসিস, ইমেজ ম্যাচিং, অটোমেটিক টার্গেট রিকগনিশন ও রিমোট সেন্সিংয়ের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রগুলিকে ব্যবহার করে এই সমস্যার থেকে মুক্তির একটি যথাযথ উপায় বার করার বিষয়ে ইসরো ও হায়দ্রাবাদের ওই সংস্থা সাহায্যের বার্তা দিয়েছে রাজভবনকে।
আরও পড়ুন কোপেনহেগেনে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে থেমে গেলেন প্রণয়

এই নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার জন্য রাজ্যপাল যাদবপুরের উপাচার্যকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে র্যা গিং থেকে মুক্ত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছে ইসরো। ইতিমধ্যেই যাদবপুর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গিয়েছে,আপাতত হস্টেলের গেটে ও মেন গেটে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কথা ভাবছে। ইতিমধ্যেই যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় প্রথম রিপোর্ট জমা করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট মারফত জানা গিয়েছে, গত ৯ আগস্ট রাতে রাগিংয়েরই শিকার হয়েছিলেন প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়া। আগামী সপ্তাহেই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়বে বলেই জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি।


More Stories
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস