Home » শববাহী যান মেলে না শ্রমিকের, ভরসা প্রতিবেশীদের কাঁধ

শববাহী যান মেলে না শ্রমিকের, ভরসা প্রতিবেশীদের কাঁধ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ আগস্ট : শেষদিনেও প্রতিবেশীরাই বন্ধু ,যাদের সঙ্গে সারাজীবন পাশাপাশি বাস তাঁরাই শবযাত্রায় সঙ্গ দিলেন, নইলে যে শেষকৃত্য সম্পন্ন হত না। প্রতিবেশীরাই পায়ে হেঁটেই ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকের দেহ শ্মশানে নিয়ে গেলেন। শববাহী যান বা অ্যাম্বুলেন্স চেয়ে পাওয়া দায়।সৌভাগ্যবান কেউ কেউ পান, তবে আর্থিক প্রতিপত্তি বা রাজনৈতিক দলের অনুগ্রহ না থাকলে বিপদকালে শববাহী যান বা অ্যাম্বুলেন্স মেলে না উত্তরবঙ্গের নিম্নবিত্ত ছাপোষা মানুষদের। এরকম আরেকটি উদাহরণ দেখা গেল ধূপগুড়িতে যেখানে আরও একবার,  শববাহী যানের প্রার্থনা হল ব্যর্থ । মুখ ঘুরিয়ে নিল পুরসভা। ধূপগুড়িতে তিন কিলোমিটারের  বেশি রাস্তা ধরে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকের শবদেহ কাঁধে নিয়ে শ্মশানে পৌছালেন প্রতিবেশীরা।

নিজভূমে যেন পরবাসী ছিলেন কারণ তিনি ছিলেন কর্মহীন পেটের দায়ে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়াই হল কাল। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে শিল্প নেই । জেলায় সে ভাবে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার এখনও ঘটেনি। জীবনজীবিকার তাগিদে প্রায় ৫ বছর আগে গোয়া গিয়েছিলেন ধূপগুড়ির বলরাম সেন (৪০)। তবে বাড়িতে ফিরল তাঁর নিথর দেহ।জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ ডক্টর জয়ন্ত কুমার রায় নিজ উদ্যোগে গোয়া থেকে প্রথমে বাগডোগরা এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বিমানে ও পরে সড়কপথে ধূপগুড়ি ব্লকের বারঘড়িয়া অঞ্চলের বিদ্যাশ্রম এলাকার বাড়িতে দেহ পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করেন।

দেহ এলেও তা শ্মশানে নিয়ে যাওয়াও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। বাড়িতে স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। একজনের বয়স দুই বছর ও অন্যজন মাত্র ৮ মাস। ফলে শববাহী যান বা অ্যাম্বুলেন্স চেয়ে আবেদন করে পরিবার।মৃত বলরামের প্রতিবেশীদের অভিযোগ, পুরসভার কাছে শববাহী গাড়ি চাওয়া হলেও পুরসভা তাদের ডাকে সাড়া দেয় নি ।  বাধ্য হয়ে  তিন-চার কিলোমিটার রাস্তা যেতে উদ্যোগী হলেন প্রতিবেশীরাই ।বিদ্যাশ্রমের বাড়ি থেকে বিডিও অফিস- রেলগেট হয়ে  পুরসভা ও ধুপগুড়ি পুলিশ স্টেশনের সামনে দিয়ে কাঁধে করে শবযাত্রা।

উত্তরবঙ্গে বারংবার শববাহী যান নিয়ে একাধিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। জলপাইগুড়িতে অত্যাধিক  ভাড়া চাওয়ার কারণে ক্রান্তি এলাকায় মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরফে মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছানো হয় যা ঘিরে একাধিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।শিলিগুড়িতেও দেখা গিয়েছিল শববাহী যান না পেয়ে নিজের শিশুসন্তানকে ব্যাগে ভরে নিয়ে যেতে হচ্ছে পিতাকে । এবার ধুপগুড়িতে একই দৃশ্যর অবতারণা হল।

পুরসভা ঘুরেও তাকায় নি অভিযোগ ওঠায় তৃণমূলের বিষয় চলেই আসছে।ধুপগুড়ি তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছে, শাসক দলকে কালিমা লিপ্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি।এদিকে মৃতদেহ কাধে নিয়ে যাওয়ার সময় দেখা গেল তৃণমূলের প্রচার চলছে এলাকা জুড়ে।প্রচারে ঢালাও মানবসেবার অঙ্গীকার। কিন্তু জেগেও যদি চোখ বন্ধ থাকে তাহলে কী আর প্রাপ্তি হবে সাধারণ মানুষের ? বলরাম সেনের মত পরিণতি হতে পারে যেকোনও মৃত মানুষের আর ভুগতে হতে পারে  শোকসন্তপ্ত পরিবারকে। শববাহী যান সাধারণ নিম্নবিত্তের ভবিতব্য নয়। তাঁদের ভরসা প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন। তাঁদের কাঁধেই মৃতের শেষ গন্তব্যের দিকে যাত্রা।।

About Post Author