সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ আগস্ট: নিয়োগ দুর্নীতি মামলার নয়া মোড়। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থায় সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ পেয়েছিল ইডি। এসবের মাঝেই শনিবার ইডির বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতি করার অভিযোগ এনেছিল লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার হিসেবরক্ষক চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। এবার হিসাবরক্ষক চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করল ইডি। সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেই জানা গিয়েছে। এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নিউ আলিপুরে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে চন্দনের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। মোবাইল থেকে যাবতীয় তথ্য উদ্ধারের জন্যই তাকে তলব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তলব নিয়ে মুখ খুললেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু

গত ২৬ আগস্ট লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার হিসেবরক্ষক চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে সংস্থার কম্পিউটারে ১৬টি নতুন ফাইল চলে এসেছে। এই ফাইলগুলি তাঁদের কাছে নতুন। সোমবার গভীর রাতে ওই ফাইলগুলি ডাউনলোড হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ২২ আগস্ট রাত ১২টার থেকে ১২ টা ১১ মিনিটের মধ্যে ওই ফাইলগুলি ডাউনলোড করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীর। তিনটি ডেস্কটপ ইডি খতিয়ে দেখেছে এবং একটি ডেস্কটপের হার্ডডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছে। বাকি দুটি ডেস্কটপ অফিসে দেখার সময়েই এই ১৬টি নতুন ফাইলের বিষয় তাঁদের নজরে আসে। সেই সময়েই এই নতুন মাইক্রোসফ্ট এক্সেল ফাইল তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ চন্দন বাবুর। ইতিমধ্যেই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট বাজেয়াপ্ত করল ইডি। একইসঙ্গে আরও অনেক নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির বিরুদ্ধে লালবাজারে অভিযোগ দায়ের লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের
ওই নথিগুলির মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে রুজিরার অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট পাওয়া গিয়েছে। ওই একই ব্যাঙ্কে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকা এলাহাবাদ শাখার অ্যাকাউন্টেরও ১৪২ পাতার স্টেটমেন্ট বাজেয়াপ্ত করেছেন ইডির আধিকারিকরা। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ওই সংস্থার ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন হিসাব নিকাশের নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এমনকী সংস্থার কর্মীদের প্রোফেশনাল ট্যাক্স সংক্রান্ত নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও আলিপুর এবং বিষ্ণুপুরে নথিভুক্ত হওয়া বেশ কিছু জমির দলিল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর পদে ছিলেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত কালীঘাটের কাকু। তাঁরই সংস্থা এসডি কনসালটেন্সি। ইডির চার্জশিটে আগেই বলা হয়েছে, বিভিন্ন দফায় এসডি কনসালটেন্সির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস-এর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত মোট ৯৫ লাখ ১ হাজার টাকা সেই অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে বলেই সূত্রের খবর।


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ