Home » নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির বিরুদ্ধে লালবাজারে অভিযোগ দায়ের লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির বিরুদ্ধে লালবাজারে অভিযোগ দায়ের লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ আগস্ট: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থায় সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ পেয়েছিল ইডি। এসবের মাঝেই এবার ইডির বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতি করার অভিযোগ আনল লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থা। জানা গিয়েছে, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার হিসেবরক্ষক চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগকারীর বক্তব্য, তাঁদের কাছে সংস্থার কম্পিউটারে ১৬টি নতুন ফাইল চলে এসেছে। এই ফাইলগুলি তাঁদের কাছে নতুন। সোমবার গভীর রাতে ওই ফাইলগুলি ডাউনলোড হয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি। ২২ আগস্ট রাত ১২টার থেকে ১২ টা ১১ মিনিটের মধ্যে ওই ফাইলগুলি ডাউনলোড করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীর। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার হিসেবরক্ষক চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ইডির তল্লাশি অভিযানের সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অফিসে তিনটি ডেস্কটপ রয়েছে। সেই তিনটি ডেস্কটপ ইডি খতিয়ে দেখেছে এবং একটি ডেস্কটপের হার্ডডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছে। বাকি দুটি ডেস্কটপ অফিসে দেখার সময়েই এই ১৬টি নতুন ফাইলের বিষয় তাঁদের নজরে আসে। সেই সময়েই এই নতুন মাইক্রোসফ্ট এক্সেল ফাইল তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ চন্দন বাবুর। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি।

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। গত ২১ আগস্ট নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে কালীঘাটের কাকুর পুরনো অফিসে চিরুনি তল্লাশি চালায় ইডি। কালীঘাটের কাকুর মেয়ে-জামাইয়ের ফ্ল্যাট সহ ৩টি জায়গায় একযোগে তল্লাশির পর ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর পুরনো অফিস ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এ হানা দেয় ইডির আধিকারিকরা। টানা ১৮ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে ওই অফিস থেকে বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। কালীঘাটের কাকুর সঙ্গে যোগ রয়েছে, এমনই কিছু জায়গায় যান তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর পদে ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। তাঁরই সংস্থা এসডি কনসালটেন্সি। ইডির চার্জশিটে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দফায় এসডি কনসালটেন্সির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস-এর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ৯৫ লাখ ১ হাজার টাকা সেই অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে বলেই সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন     চাঁদে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মহাকাশচারী, মজার ভিডিও নিয়ে মশগুল সোশ্যাল মিডিয়া

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ৩০ মে ইডির হাতে গ্রেফতার হন কালীঘাটের কাকু। কয়েকদিন আগেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কালীঘাটের কাকুর বেহালার বাড়ি, অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। যেদিন এই তল্লাশি চলছিল, সেদিন আবার নিজাম প্যালেসে হাজিরা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কালীঘাটের কাকুর বাড়ি ও অফিস থেকে ইডি বেরিয়েছিল ১৬ ঘণ্টা পর। জানা গিয়েছিল, প্রচুর নথি নাকি নিয়ে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন অভিষেকের অফিসের কর্মচারী। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। লিপস অ্যান্ড বাউন্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর এএমডি পোস্টে ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কোম্পানিরই ডিরেক্টরস বোর্ডের একটি তালিকায় নাম ছিল সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের। কিন্তু,লোকসভা ভোটের আগেই এই কোম্পানি থেকে ইস্তফা দেন কালীঘাটের কাকু। প্রাথমিক তদন্তে ইডি-র অনুমান,কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে ঘুরপথে কালো টাকা সাদা করত।

About Post Author