Home » লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে তল্লাশি চালিয়ে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২টি ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট বাজেয়াপ্ত ইডির

লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে তল্লাশি চালিয়ে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২টি ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট বাজেয়াপ্ত ইডির

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ আগস্ট:   নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থায় সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ পেয়েছিল ইডি। এসবের মাঝেই শনিবার ইডির বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতি করার অভিযোগ এনেছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থা। এবার লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট বাজেয়াপ্ত করল ইডি। একইসঙ্গে আরও অনেক নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। ওই নথিগুলির মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে রুজিরার অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট পাওয়া গিয়েছে। ওই একই ব্যাঙ্কে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকা এলাহাবাদ শাখার অ্যাকাউন্টেরও ১৪২ পাতার স্টেটমেন্ট বাজেয়াপ্ত করেছেন ইডির আধিকারিকরা। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ওই সংস্থার ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন হিসাব নিকাশের নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এমনকী সংস্থার কর্মীদের প্রোফেশনাল ট্যাক্স সংক্রান্ত নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও আলিপুর এবং বিষ্ণুপুরে নথিভুক্ত হওয়া বেশ কিছু জমির দলিল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন      যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর জের, র‍্যাগিং রুখতে ক্যাম্পাসে আসছে ইসরোর টিম

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থায় সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ পেয়েছিল ইডি। এসবের মাঝেই শুক্রবার ইডির বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতি করার অভিযোগ আনল লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থা। জানা গিয়েছে, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার হিসেবরক্ষক চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগকারীর বক্তব্য, তাঁদের কাছে সংস্থার কম্পিউটারে ১৬টি নতুন ফাইল চলে এসেছে। এই ফাইলগুলি তাঁদের কাছে নতুন। সোমবার গভীর রাতে ওই ফাইলগুলি ডাউনলোড হয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি। ২২ আগস্ট রাত ১২টার থেকে ১২ টা ১১ মিনিটের মধ্যে ওই ফাইলগুলি ডাউনলোড করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীর।  তিনটি ডেস্কটপ ইডি খতিয়ে দেখেছে এবং একটি ডেস্কটপের হার্ডডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছে। বাকি দুটি ডেস্কটপ অফিসে দেখার সময়েই এই ১৬টি নতুন ফাইলের বিষয় তাঁদের নজরে আসে। সেই সময়েই এই নতুন মাইক্রোসফ্ট এক্সেল ফাইল তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ চন্দন বাবুর। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি।

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে,ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। গত ২১ আগস্ট নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে কালীঘাটের কাকুর পুরনো অফিসে চিরুনি তল্লাশি চালায় ইডি। কালীঘাটের কাকুর মেয়ে-জামাইয়ের ফ্ল্যাট সহ ৩টি জায়গায় একযোগে তল্লাশির পর ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর পুরনো অফিস ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এ হানা দেয় ইডির আধিকারিকরা। টানা ১৮ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে ওই অফিস থেকে বেশ কিছু নথি বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা।  কালীঘাটের কাকুর সঙ্গে যোগ রয়েছে, এমনই কিছু জায়গায় যান তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর পদে ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। তাঁরই সংস্থা এসডি কনসালটেন্সি। ইডির চার্জশিটে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দফায় এসডি কনসালটেন্সির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস-এর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ৯৫ লাখ ১ হাজার টাকা সেই অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে বলেই সূত্রের খবর।

About Post Author