Home » চলে গেলেন সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার-জয়ী কবি জয়ন্ত মহাপাত্র

চলে গেলেন সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার-জয়ী কবি জয়ন্ত মহাপাত্র

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৮ আগস্ট : সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পাওয়া তাঁর কাছে বড় বিষয় ছিল না, কবিতা দিয়ে মানুষের মন ছুঁয়ে যাওয়া তাঁর কাছে ছিল তাঁর রচনার এবং প্রাপ্তির যথাক্রমে প্রধান শর্ত এবং মাত্রা। তাঁর কাছে কোনও পুরস্কার আদর্শের চেয়ে বড় ছিল না, নাহ’লে কেউ পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েও ফিরিয়ে দিতে পারে! তিনি পেরেছেন। মানুষের মন ছুঁয়েছেন, তাঁর কবিতা দিগন্ত ছুঁয়েছে আর তিনিও প্রতিবাদী থেকেছেন।তিনি চলে গেলেন। চলে গেলেন ভারতীয় সাহিত্যের একটি ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জয়ন্ত মহাপাত্র। জয়ন্ত মহাপাত্রের প্রয়াণ অর্থাৎ একটি যুগের অবসান। তিনি ভারতীয় হয়ে ইংরেজি ভাষায় কবিতা রচনাকে আলাদা এবং বিশেষ মাত্রা দিয়েছিলেন। তিনি প্রথম ভারতীয় যিনি ইংরেজি ভাষায় কবিতা লিখে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার’ বিরুদ্ধে তার ভিন্নমত প্রকাশ করতেন । ২০০৯ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছিলেন কিন্তু বিজেপি শাসিত সরকারের নীতি-আদর্শে  চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৫ সালে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন পদ্মশ্রী সম্মান। এই আগুন, এই প্রতিবাদ থেকেছে আজীবন ৯৫ বছর জীবনকাল ধরে আর তাঁর কবিতা মানুষের কথা বলেছে । জয়ন্ত মহাপাত্রের কবিতা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও লাভ করেছিল।

প্রবীণ কবি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওড়িশার কটকের এসসিবি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  রবিবার প্রয়াত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রচারিত হয়।  জয়ন্ত মহাপাত্র বেশ কিছু দিন ধরে এসসিবি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

জয়ন্ত মহাপাত্র সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন না।একজন পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক মধ্য তিরিশে এসে ইংরেজি কবিতার প্রেমে পড়েন। লিখতে আরম্ভ করেন কিছুদিনের মধ্যেই। ৪৩ বছর বয়সে,১৯৭১সালে, তাঁর প্রথম সংকলন স্বয়ম্বর এবং অন্যান্য কবিতা প্রকাশের পর, তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।তাঁর কবিতা সংকলন “ক্লোজ দ্য স্কাই টেন বাই টেন” তাঁকে  শীর্ষস্থানীয় লেখকের মর্যাদা এনে দেয়।” ইন্ডিয়ান সামার এন্ড হাঙ্গার ” -তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। জয়ন্ত মহাপাত্র পঞ্চাশ বছরের বেশি সাহিত্য জীবনে মাত্র সাতাশটি বই লিখেছেন, এরমধ্যে কুড়িটি বই ইংরেজি এবং অন্য সাতটি বই ওড়িয়া ভাষায় লেখেন ।উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। নবীন পট্টনায়েক বলেছেন, “তিনি সফলভাবে ওড়িয়া সাহিত্যের পরিধিকে একটি বিস্তৃত বৃত্তে উন্নীত করেছিলেন।তাঁর বুদ্ধি এবং জ্ঞান অনেক তরুণের জন্য ইংরেজি সাহিত্যে লেখার জন্য একটি পথপ্রদর্শক ছিল।”

 

About Post Author