সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩১ অগস্ট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। তদন্ত যতই এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূতে হচ্ছে রহস্য। ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার যাদবপুর ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর খরচ বাবদ প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করতে চলেছে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন গোটা বিষয়টি অর্থ দপ্তরের বিচারাধীন ছিল। শেষমেশ সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অর্থ দপ্তর সবুজ সংকেত দেওয়ায় এই অর্থ বরাদ্দে কোনও বাধা রইল না। অর্থ দপ্তর সূত্রের খবর, মৌখিকভাবে শিক্ষা দপ্তরকে অর্থ বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক কাজকর্ম মিটলেই যাদবপুরে সিসিটিভি বসানোর জন্য বরাদ্দ টাকা সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর কাজ কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।

আরও পড়ুন পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের ১২টি পুরসভাকে নোটিস ইডির
উল্লেখ্য, যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা থেকে খালি মদের বোতল ও মাদক ব্যবহারের সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। এই অবস্থায় ইউজিসির গাইডলাইন অনুযায়ী কেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হস্টেলে সিসি ক্যামেরা নেই, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কার্যত সেকারণেই ক্যাম্পাস ও হস্টেল সিসি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বুদ্ধদেব সাউ যাদবপুরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হস্টেল মিলিয়ে ১০ জায়গায় মোট ২৬টি সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যেই সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশ সিসিটিভি লাগানোর বিরোধিতায় সরব হয়েছে। গত মঙ্গলবারই সিসিটিভি বসানো নিয়ে ছাত্র ঘেরাওয়ের মুখে পড়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর বৈধ অনুমতি আছে কি না, তা জানতে চেয়ে তারা উপাচার্যর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল। কিন্তু উপাচার্য মিটিং-এ ব্যস্ত থাকায় তাদের সঙ্গে দেখা তো করেননি। উল্টে অশ্লীল ব্যবহার করেন বলেই অভিযোগ। কার্যত সেকারণেই উপাচার্যের কক্ষ ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি অধ্যাপকরাও পড়ুয়াদের এমন আচরণের প্রতিবাদ জানান। সূত্রের খবর, ক্যাম্পাসের ১ থেকে ৫ নম্বর গেটে নজরদারি চালাতে ১০টি সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গাড়ির নজরদারিতে ২টি এএনপিআর ক্যামেরা বসানো হবে। জানা গেছে, ১, ২ ও ৩ নম্বর গেটে ২টি করে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। ৪ ও ৫ নম্বর গেটে ২টি করে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি ১টি করে এএনপিআর ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও হস্টেলে ১১টি সিসি ক্যামেরা ও ৩টি এএনপিআর ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ছেলেদের মেন হস্টেলে ২টি সিসি ক্যামেরা ও একটি এএনপিআর ক্যামেরা বসানো হবে। মেয়েদের মেন হস্টেলে ৩টি সিসি ক্যামেরা বসবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের প্রধান গেট, ক্যাব গেটে ২টি করে সিসি ক্যামেরা ও একটি করে এএনপিআর ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বয়েজ হস্টেলে ২টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে।


More Stories
প্রসেনজিতের বাড়িতে অমিত শাহ
বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজপথে মমতা
তারাতলা বিপর্যয় কাণ্ডে ববি হাকিমের গ্রেফতারের দাবি