সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩১ আগস্ট: যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। তদন্ত যতই এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূতে হচ্ছে রহস্য। ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার দিন রাতে পুলিশকে হস্টেলে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। এবার সেই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন পড়ুয়ার জামিন মঞ্জুর করল আলিপুর আদালত। এরা হলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী জয়দীপ ঘোষ এবং দীপশেখর দত্ত এবং মনতোষ ঘোষ। এদের মধ্যে দীপশেখর এবং মনতোষের বিরুদ্ধে ছাত্র খুনের মামলাও রয়েছে। কার্যত সেকারণেই শুধুমাত্র জয়দীপের জেলমুক্তি হবে বলেই জানা গিয়েছে। বাকিরা পুলিশকে বাধা দেওয়ার মামলায় জামিন পেলেও এখনই জেল মুক্তি পাবেনা বলেই জানা গিয়েছে। বুধবার ওই তিন ছাত্রের তরফে আইনজীবীরা আদালতে জামিনের আবেদন জানান। তাঁরা দাবি করেন, পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ আনতে পারেনি। এমনকী সেই রাতে পুলিশকে হস্টেলে ঢুকতে বাধা দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। যদিও এই নিয়ে আদালতের কাছে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি সরকারি আইনজীবী। এরপরই পুলিশকে বাধা দানের মামলায় তিন ছাত্রের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

উল্লেখ্য, যাদবপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ৯ আগস্ট রাতে পুলিশ পৌঁছলেও তাঁদেরকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের তরফে পৃথক একটি মামলা রুজু করে তদন্তও শুরু হয়েছিল। এরপরই এই ঘটনায় গত ২২ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কৈফিয়ত চেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছিল প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের প্রশ্ন, যাদবপুরে ৯ আগস্ট রাতে কেন পুলিশকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়? আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করার নির্দেশও দেয় আদালত। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ইউনিয়নকেও মামলায় পার্টি করার নির্দেশ দিয়েছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। জানা গিয়েছে, ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেন তৃণমূলের সুদীপ রাহা। এরপরই হস্টেলে পুলিশ কে ঢুকতে না দেওয়ার কারণ জানানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষর কৈফিয়ত তলব করেন বিচারপতি।
আরও পড়ুন সুতপা চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের সাজা ঘোষণা বৃহস্পতিবার

প্রসঙ্গত, যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার তদন্তের স্বার্থে গত সপ্তাহেই হস্টেলে থাকা আরও ৫ পড়ুয়াকে তলব করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ৯ আগস্ট রাতে হস্টেলে যখন মৃত ওই ছাত্রের ওপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার করা হয়, সেসময় এই পাঁচ পড়ুয়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কার্যত সেকারণেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ৫ জনকে তলব করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই আবাসিকের থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, ৯ তারিখ হস্টেলের বারান্দা থেকে খুব চিৎকার শোনা গিয়েছিল। এতকিছুর পরও হস্টেল কতৃপক্ষ কেন কিছুই জানতে পারেননি,, তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। সবটা নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে, যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল সৌরভ চৌধুরীই। গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের এ২ ব্লকের তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়ার। যা নিয়ে তোলপাড় গোটা ক্যাম্পাস। মৃতের পরিবার, থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে আসে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। এই ঘটনার পিছনে র্যা গিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা