Home » ‘ আচার্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপাচার্যই’, রাজভবনের নতুন বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক

‘ আচার্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপাচার্যই’, রাজভবনের নতুন বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ সেপ্টেম্বর: রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তুঙ্গে। তারই মধ্যে রবিবার রাজভবনের নতুন বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ফের বিতর্কের সৃষ্টি।  রাজভবনের  নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আচার্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপাচার্যই। তাঁর অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মী উপাচার্যের নির্দেশই মেনে চলবেন, অন্য কারও নয়। সরকার তাঁদের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। রাজভবনের নতুন এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হল। সূত্রের খবর, শনিবার এই বিজ্ঞপ্তি রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর নির্দেশেই কাজ করবেন সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও অন্যান্য কর্মীরা। তাঁরা সরকারের নির্দেশ মানতে বাধ্য নয়। সরকারি নির্দেশ যদি উপাচার্য মান্যতা দেন, তবেই সেটা কার্যকর করা হবে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার সময়ে রাজভবন থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের যে ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদ খালি পড়ে রয়েছে, সেখানে উপাচার্যের পদ রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস নিজে সামলাবানে। জানা গিয়েছে,পড়ুয়াদের ডিগ্রি সংশাপত্র এবং অন্যান্য নথি পেতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাদের সুবিধার জন্য রাজ্যপাল নিজে আচার্য হিসাবে তাঁর ক্ষমতায় ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়েও যাবেন। শিক্ষার্থীদের কোনও অভিযোগ থাকলে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিযোগগুলি amnesaamne.Rajbhavankolkata @gmail.com ঠিকানায় ইমেল বা পিএইচ নং-এ পিস রুমে যোগাযোগ করতে পারবেন বলেই জানা গিয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আইনি পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যিনি আচার্য, তিনিই আবার উপাচার্য। কোন আইনে এটা রয়েছে? আমরা আইনি পদক্ষেপ করব বলে ভাবছি। রাজ্য খুব শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে।’

আরও পড়ুন    যাবতীয় গুজবের আশায় জল ঢেলে অবশেষে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লেন প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার হিথ স্ট্রিক

উল্লেখ্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর পরই অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে বুদ্ধদেব সাউকে নিযুক্ত করেছিলেন রাজ্যপাল। এরপরই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড: রাজেশ দাস রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাকারীর অভিযোগ, ‘ইউজিসির নিয়ম ভেঙে রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বতী উপাচার্য নিয়োগ করেছেন রাজ্যপাল। ইউজিসির আইনে অন্তর্বর্তী ভিসি করার কোনও নিয়ম নেই। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় আইনে উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য করা গেলেও তাকে কোন ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রী বা শিক্ষা দফতরের অনুমতি নিতে হয়। রাজ্যপালের সিদ্ধান্তে বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ১৩ জন অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিযুক্ত হয়েছেন। যারা বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’ প্রধান বিচারপতির ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, যেহেতু এই সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, ফলে তার নিষ্পত্তি হলে এই মামলা শুনবেন তিনি। এসবের মাঝেই এরপর গত বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কার্যকরী উপাচার্য হিসেবে ডঃ রাজকুমার কোঠারিকে নিযুক্ত করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।

About Post Author