সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ সেপ্টেম্বর: উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তুঙ্গে। তারই মধ্যে এবার ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সম্প্রতি রাজভবনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মী উপাচার্যের নির্দেশই মেনে চলবেন, অন্য কারও নয়। সরকার তাঁদের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। এই ঘোষণার পরেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্থায়ী উপাচার্যের অভাবে পড়ুয়ারা যাতে সার্টিফিকেট পাওয়া বা অন্যান্য কাজে বাধা না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে বলেই জানা গেছে। এর মধ্যেই শনিবার আরও একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে রাজভবনের তরফে।
আরও পড়ুন সংসদের বিশেষ অধিবেশনের আগে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে

সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আচার্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপাচার্যই। তাঁর অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মী উপাচার্যের নির্দেশই মেনে চলবেন, অন্য কারও নয়। সরকার তাঁদের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি।’ এই নির্দেশিকার ফলে যে নতুন করে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে উঠবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রসঙ্গত, উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য ও রাজ্যপাল সংঘাত নতুন কিছু নয়। এর আগেও রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অস্থায়ী ১৪ জন উপাচার্য নিয়োগ করেছেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপরই রাজ্যপাল যে ১৪ জন উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন, তাঁদের উপাচার্য হিসেবে পারিশ্রমিক ও ভাতা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর। জানা গিয়েছে, রাজ্যের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা না করেই ওই উপাচার্যদের নিয়োগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন সংসদের বিশেষ অধিবেশনের আগে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডাকলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে
কার্যত সেকারণেই রাজ্যপাল নিযুক্ত উপাচার্যদের বেতন ও ভাতা বন্ধের নির্দেশ জানিয়ে সে নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছিল। এরপর উপাচার্য নিয়োগের বৈধতা তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। সেসময় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, রাজ্যপাল যে উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন তা বৈধ। রাজ্যপালের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন সনৎ কুমার ঘোষ। তাঁর বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট আইন না মেনে অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা না করেই রাজ্যপাল উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগের যে সময়সীমা তা অগ্রাহ্য করেই রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের সঙ্গে পরমর্শ করার বিষয়টি আইনসভার অন্তর্ভুক্ত একটি আইন। সেই আইনকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। রাজ্য এই উপাচার্যদের বেতন দেয়। সে ক্ষেত্রে নিয়োগ যদি বেআইনি হয়, তাহলে সরকার টাকা দেবে কীভাবে? সেই প্রশ্ন তোলেন মামলাকারী।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের