পুরন্দর চক্রবর্তী ও সানী রায়,সময় কলকাতা , ৩ সেপ্টেম্বর : উপনির্বাচনের আগে শেষ লগ্নে জমজমাট ধূপগুড়ি। আসনটি বিজেপির ছিল, এবার বিনাযুদ্ধে মাটি ছাড়তে নারাজ তৃণমূল। ভোটপ্রচারের শেষ লগ্নে প্রধান প্রতিপক্ষ তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি প্রচারে গতি বাড়িয়েছে। আর তারমধ্যে দুই দলথেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিশ্রুতি। উন্নয়নের পরিশ্রুতির পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি। এলাকা প্রশাসনিক ভাবে নতুনভাবে সীমানির্দেশ করা,এলাকার নতুন মানচিত্র গড়ার প্রতিশ্রুতি। তৃণমূল থেকে ধূপগুড়িকে আলাদা মহকুমার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কয়েকঘন্টার মধ্যেই বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ পরিষ্কার করে দিলেন তিনি তাঁর তোলা আলাদা রাজ্যের দাবি থেকে সরছেন না। বিজেপির অন্য নেতারা যাই বলুন, অনন্ত মহারাজ রাজ্য ভাগের দাবিতে অটল।
ধূপগুড়িতে শেষ লগ্নে প্রচারে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন আগামী তিনমাসের মধ্যে ধূপগুড়িকে আলাদা মহকুমার স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একইদিনে বিজেপির শীর্ষ নেতা দীপেন প্রামানিক তৃণমূলে যোগ দিলেন।পাশাপাশি, ধূপগুড়িতে শনিবার শেষ বেলায় প্রচারে তাপসী রায়ের সমর্থনে আসেন অনন্ত মহারাজ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে যেন ফুৎকারে নস্যাৎ করলেন অনন্ত মহারাজ।তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কলকাতাকে নিয়ে এলেও এখানে কিছু হবে না। তিনি বলেন ” যা হওয়ার সব হবে তবে অন্য কাউকে এখানের জন্য ভাবতে হবে না”। এখানে অন্য কেউ বলতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস, মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেকের কথা বলেছেন তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবুও অনন্ত মহারাজের পৃথক রাজ্যের বক্তব্য যা কিছুদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে, সেই বিতর্ক থেকেই গেল। তিনি যে দাবি থেকে সরছেন না পরিষ্কার হয়ে গেল তাঁর বক্তব্য থেকে।
সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় শপথ নিয়েই সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের অনন্ত মহারাজ বলেছিলেন, পৃথক রাজ্যের দাবি তুলতে হবে, সেটাই মানুষ চাইছে।গ্রেটার কোচবিহারকে যেন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা যায় সেই দাবি কেন্দ্রের কাছে তুলতেই হবে।তিনি সেদিন বলেন, “গ্রেটার কোচবিহারের দাবি তো উঠছেই। সেটা নিয়ে কেন্দ্র সরকারের কাছে যেতে হবে। সরকারের যা করণীয় তা করতে হবে। সে বিষয়ে আমি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব। গ্রেটার কোচবিহারকে যাতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা যায়, সেই দাবি কেন্দ্রের কাছে তুলতেই হবে। সেখানকার সাধারণ মানুষ যেটা চাইছে… সঙ্গে শুধু উত্তরবঙ্গেই নয় অসমও চাইছে, বিহারও চাইছে, সবাই চাইছে। ”
তৃণমূল এই দাবিকে বিচ্ছিন্নতাবাদের চক্রান্ত বলে আখ্যা দেয়।বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব অনন্ত মহারাজের বক্তব্যকে তাঁর নিজস্ব মতামত জানিয়ে বলে এসেছে রাজ্য বিভাজনকে বিজেপি সমর্থন করে না। তবুও অনন্ত মহারাজ সরছেন না নিজের দাবি থেকে। দিল্লি থেকে ধূপগুড়ি – এগারো দিনে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরোধিতায় তাঁর ভাবনার কোনও পরিবর্তন করতে পারে নি।
দিল্লিতে রাজ্য বিভাজনের যে তত্ত্ব দিয়েছিলেন ধূপগুড়িতে এসেও সেই তত্ত্বকথায় অবিচল থাকলেন অনন্ত মহারাজ।শনিবার তিনি প্রচারমঞ্চে মানুষকে ধৈর্য ধরতে বললেন। তিনি বললেন শুধু সময়ের অপেক্ষা এবং ভালো কিছু ঘটতে চলেছে।সাংবাদিকদের সামনে অনেকটাই খোলামেলা ভাবে বললেন কলকাতা এসেও কিছু করতে পারবে না।যা হচ্ছে তা হচ্ছে, তবে “অন্য কাউকে এখানের জন্য ভাবতে হবে না – সব এখানে হবে, ” বলেন অনন্ত মহারাজ। এরপরেই তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেনপৃথক রাজ্যের কথা। তাঁর বক্তব্য পৃথক রাজ্যের দাবি -“পার্লামেন্ট শুনবে, উচ্চকক্ষে আলোচনা হবে। ”


More Stories
পাথরের দেবতাকে পুজো না করে জীবন্ত দেবতা মোদি ও যোগীকে পুজো করার নিদান বিজেপি বিধায়কের
জয়শ্রীরাম বললেই রোগীর পাঁচশো টাকা ছাড়- বিতর্ক চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?