Home » ডুরান্ড ফাইনালের পর ফের ধাক্কা ইস্টবেঙ্গলের

ডুরান্ড ফাইনালের পর ফের ধাক্কা ইস্টবেঙ্গলের

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর: ডুরান্ড কাপ ফাইনালে হারের ধাক্কা এখনও তাজা। তাও আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। ডুরান্ড ফাইনালের সেই রেশ কাটতে না কাটতে ফের ধাক্কা ইস্টবেঙ্গলের। চোট পেয়ে আগামী কয়েক মাসের জন্য দল থেকে ছিটকে গেলেন দলের নির্ভরযোগ্য অজি ডিফেন্ডার জর্ডন এলসে। সোমবার ক্লাবের তরফ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে এলসের চোটের কথা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ” ডুরান্ড কাপের ফাইনালে অপ্রত্যাশিতভাবে হাঁটুতে চোট পেয়েছেন জর্ডন এলসে। আগামী কয়েকমাস চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাঁকে। এই কঠিন সময় ক্লাব এলসের পাশে থাকবে। আশা করব, দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন এলসে।’’ যদিও চোটের কারণে ঠিক কতদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে ২৯ বছরের এই ফুটবলারকে সেটা স্পষ্ট করেনি ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

কার্লেস কুয়াদ্রাতের শিবিরে নির্ভরযোগ্য নাম জর্ডন এলসে। গত কয়েক মরশুমে গোল হজম করার রোগ থেকে মুক্তি পেতে তাঁকে আনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া লিগ থেকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে কলকাতায় এসেছেন জর্ডন। দলের সঙ্গে মানিয়েও নিয়েছেন। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ আর্মির বিপক্ষে কিছু ভুল করেছিলেন। তবে, মোহনবাগানের বিপক্ষে সাদিকু, জেসন কামিংস, পেত্রাতোস সমৃদ্ধ মোহনবাগানের আক্রমণ ভাগকে রুখে দিয়েছিলেন জর্ডন।

আরও পড়ুন   “গম্ভীর কো ইতনা গুসসা কিউ আতা….”

ডুরান্ড কাপে ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের পিছনে তাঁর অবদান রয়েছে। অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞের মতে রবিবার ফাইনালে জর্ডন প্রথমার্ধে চোট পেয়ে মাঠ না ছাড়লে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেই পারত। ইতিমধ্যে ইস্টবেঙ্গল জনতার মন জয় করে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই ডিফেন্ডার। দীর্ঘ চার বছর ইন্ডিয়ান সুপার লিগে ব্যর্থতাকে সঙ্গী করে মরশুম শেষ করতে হয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। আলেজান্দ্রো মেন্ডেজ, রবি ফাওলার, মানোলো দিয়াজ, স্টিফেন কনস্ট্যান্টটাইনের-মত পোড়খাওয়া কোচদের দায়িত্ব দিয়েও সুদিন ফেরেনি ইস্টবেঙ্গলের। বাকিরা যা করতে পারেননি, তা করেছেন নতুন কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত।

দীর্ঘদিন পর জাতীয় প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠেছিল ইস্টবেঙ্গল। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের দলগুলির বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে জিততে ভুলে যাওয়া দলটা। সমর্থকদের আশা এবার আইএসএলেও দেখা যাবে মশালের তেজ। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েকদিন আগে এলসের হাঁটুর চোট ইস্টবেঙ্গল শিবিরের ধাক্কা বলেই মনে করছে ফুটবল মহল। যদিও বিদেশী নিয়োগের পর, তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করে বিদেশের নামী ক্লাবগুলি। ভারতীয় ফুটবলে এই নিয়মের চল নেই। ফলে অতীতে অনেক ফুটবলার চোট লুকিয়ে এদেশে খেলতে এসে দলকে ডুবিয়েছেন। এখন এলসের হাঁটুর চোট অল্পদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে গেলে ভালো। নাহলে, লাল-হলুদ হেডস্যারের কপালের ভাঁজ যে আরও চওড়া হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

About Post Author