Home » মণিপুরে অশান্তির ঘটনায় ২৭টি মামলা সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

মণিপুরে অশান্তির ঘটনায় ২৭টি মামলা সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ প্রায় সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে। মণিপুরে অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবার মণিপুর হিংসা মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। শনিবার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মনিপুরের ২৭ টি মামলার সাক্ষীদের বয়ান নেওয়া হবে। সিবিআই ওই ২৭টি মামলার তদন্ত করছে। মণিপুরে সাক্ষীদের বয়ান গ্রহণ করার পর সেই রেকর্ডিং পাঠিয়ে দিতে হবে অসমের নির্দিষ্ট আদালতে। অসমে বিচার প্রক্রিয়া স্থানান্তরিত করার যে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছিল, তার ব্যাখ্যা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন মণিপুরের রেজিস্ট্রার জেনারেল। সেই চিঠি দেওয়ার পরই এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এর পাশাপাশি মণিপুরের যৌন হেনস্থার মামলার ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা জরুরি বলেও শীর্ষ আদালতের তরফে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তপ্ত মণিপুরে ২ মহিলাকে নিগ্রহের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। এই ঘটনার পরেই তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। ঘটনার পরই ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়ো দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্ত হুইরেম হেরোদাস মেইতি সহ সাতজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনায় সিটও গঠন করে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকদের নেতৃত্বে সিট গঠন করে সিবিআই। প্রসঙ্গত,গত ৩ মে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপূর্বের এই রাজ্যে৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতিভুক্ত করার বিরোধিতা করছে কুকি সম্প্রদায়৷ আর এ নিয়ে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে৷

আরও পড়ুন     ইন্ডিয়ান সুপার লিগের আগে ধাক্কা মোহন শিবিরে, চোট পেয়ে পুরো মরশুম মাঠের বাইরে তারকা ফুটবলার

তারপর থেকে প্রায় তিন মাস হতে চলল৷ এই প্রথম কংগ্রেস নেতা অশান্ত মণিপুরের অবস্থা নিজের চোখে দেখতে যাচ্ছেন৷ বর্তমানে মণিপুরে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ৩০০ টিরও বেশি ত্রাণশিবিরে বাস করছেন৷ ৩ মে পাহাড়ে ‘ট্রাইবাল সলিডারিটি মার্চ’ হচ্ছিল৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতির স্বীকৃতি যাতে না-দেওয়া হয়, তার প্রতিবাদে এই মিছিল হচ্ছিল৷ সেখানে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে৷ মেইতেইরা মণিপুরের জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ এবং তারা ইম্ফলের উপত্যকায় বাস করে৷ এদিকে আদিবাসী নাগা ও কুকিরা জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ৷ তারা সাধারণত পাহাড়ি জেলাগুলিতে থাকে৷ মণিপুরে সংঘর্ষের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪৫জনের প্রাণ গিয়েছে। আহত অসংখ্য। এলাকা ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। প্রাণ রক্ষায় আশপাশের রাজ্যে পালিয়েছে বহু পরিবার। হিংসার আগুনে পুড়েছে প্রায় ২৫০টি গির্জা এবং ১৭টি মন্দির।

About Post Author