সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বরঃ দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার লোকসভা ও রাজ্যসভা-সংসদের দুই কক্ষেই পাশ হয়ে যায় বহু বিতর্কিত মহিলা সংরক্ষণ বিল। এবার লোকসভা ভোট ও পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে জাতি গণনার দাবি নিয়ে মোদি সরকারের উপর আরও চাপ তৈরি করতে নেমে পড়ল কংগ্রেস। শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে রাহুল গান্ধি মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে বলেন, ‘ মোদি সরকার মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে। এই মহিলা সংরক্ষণ আইন আগামী দশ বছরেও বাস্তবায়িত হবে না। এই বিলের ফলে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি তথা ওবিসি মহিলাদের কোনও উপকার হবে না। সুতরাং এক, মহিলা সংরক্ষণের মধ্যেই ওবিসি মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়া হোক এবং দুই এই আইন এখনই বাস্তবায়িত হোক। সরকার দেশের সামনে এই বিল পেশ করল কিন্তু এটা ১০ বছর বাদে কার্যকর করবে’। একইসঙ্গে রাহুল এদিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে ওবিসি। বিজেপি ওবিসিদের ক্ষমতায়নের উপর অতীতেও বড় বড় কথা বলে। কিন্তু বাস্তব হল, ওবিসিদের আর্থ সামাজিক উন্নতি ও ক্ষমতায়ণের উদ্দেশে সরকার কিছু করেনি। এটা শুধুমাত্র বিভ্রান্ত করা ও বিভাজনের চেষ্টা’।
https://x.com/ANI/status/1705121437273801051?s=20
উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর, সংসদের বিশেষ অধিবেশনের প্রথম দিনই ১২৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল হিসেবে লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী অর্জুন সিং মেঘওয়াল। এই বিল পাস করার পক্ষে সওয়ালও করেছিল বিরোধী দলগুলি। এদিন রাতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে মহিলা সংরক্ষণ বিলটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই বিলের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নারী শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিলটির নাম দেন ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। অবশেষে বুধবার সকাল ১১ টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত লোকসভায় বহু বিতর্কিত মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে ভোটাভুটি শুরু হয়। বিলটি লোকসভায় পাস করানোর জন্য দুই তৃতীয়াংশের ভোট প্রয়োজন ছিল। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৫৪জন।
আরও পড়ুন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না ইডি, রক্ষাকবচ হাইকোর্টের

অন্যদিকে, এই বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই- ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’-এর দুই সাংসদ।এদিন অধিবেশন শুরুর আগেই রণকৌশল স্থির করতে বৈঠকে বসেছিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। লোকসভায় তৃণমূলের তরফে বক্তব্য রাখেন মহুয়া মৈত্র ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অন্যদিকে, কংগ্রেসের তরফে বক্তব্য পেশ করেন সনিয়া গান্ধি।বিলটিকে কংগ্রেস পূর্ণ সমর্থন করে বলেই জানান তিনি। যদিও, কেন জনগণনা এবং আসন পুনর্বিন্যাসের উপর এই সংরক্ষণ নির্ভরশীল, তা নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন সনিয়া। তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে জাতিভিত্তিক জনগণনা প্রয়োজন বলেই জানান তিনি।


More Stories
আবার বাড়ল পেট্রোল, ডিজেলের দাম
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?