স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বর: জয় দিয়ে দশম ইন্ডিয়ান সুপার লিগের অভিযান শুরু করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টাস। ঘরের মাটিতে মোহনবাগান ৩-১ গোলে হারাল পঞ্জাব এফসিকে। মোহনবাগানের হয়ে গোল করেন জেসন কামিংস, দিমিত্রি পেত্রাতোস ও মানবীর সিং। পঞ্জাবের হয়ে একমাত্র গোলটি আসে অধিনায়ক ম্যাসেনের পা থেকে।

দশম ইন্ডিয়ান সুপার লিগে অভিষেক হল পঞ্জাব এফসির। একটা সময় ভারতীয় ফুটবলের সাপ্লাই লাইন বলা হত পঞ্জাবকে। অতীতে জার্নেল সিং, ইন্দার সিং থেকে শুরু করে বর্তমানে গুরপ্রীত সিং সান্ধু, হারমানজোৎ সিং খবরা প্রত্যেকেই উঠে এসেছেন পঞ্চ নদের রাজ্য থেকে। তবে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের বিগত নয়টি সংস্করণে পঞ্জাব থেকে একটিও দল অংশ নেয়নি। গত মরশুমে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে, প্রথম দল হিসেবে সেই নজির গড়ল পঞ্জাব এফসি।
যুবভারতীতে চলতি ইন্ডিয়ান সুপার লিগে এই দলটির বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। পঞ্জাবের দলটির বিরুদ্ধে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাননি মোহন কোচ। শনিবার প্রথম একাদশে পাঁচ জন ডিফেন্ডারকে রেখে শুরু করেন জুয়ান ফেরান্দো। দুই বিদেশী ডিফেন্ডার ব্রেন্ডন হ্যামিল ও হেক্টর উতসের সঙ্গে প্রথম একাদশে শুরু করেন জেসন কামিংস ও দিমিত্রি পেত্রাতোস। অনিরুদ্ধ থাপা ও আশিক কুরুনিয়ন দলে নেই। তাই মাঝমাঠের বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সাহাল আব্দুল সামাদের উপর। খেলার ১০ মিনিটে তাঁর বাড়ানো পাস থেকে প্রথম গোলটি পায় মোহনবাগান। গোলদাতা বিশ্বকাপার জেসন কামিংস। প্রথমার্ধে দুই অস্ট্রেলিয়ানের সঙ্গে জুটি বেঁধে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করলেন সাহাল-লিস্টনরা। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে ফের ব্যবধান বাড়ায় মোহনবাগান। বক্সের মধ্যে কামিংসের থ্রু বল ব্যাকপাস করেন লিস্টন। সেই বলকে জালে জড়ান পেত্রাতোস। এর আগেই গোলের খাতা খুলতে পারতেন তিনি। তবে অনেকগুলি সুযোগ নষ্ট করেন। গোটা ম্যাচে কখনও দুটি প্রান্তে গিয়ে, কখনও মাঝমাঠে নেমে পরিশ্রমী ফুটবল খেলেন পেত্রাতোস। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যান মোহনবাগান ফুটবলাররা।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলশোধের জন্য মরিয়া লড়াই চালাতে থাকে পঞ্জাব এফসি। একটা সময় ইস্টবেঙ্গলে খেলা যাওয়া খুয়ান মেরার নেতৃত্বে মোহনবাগান রক্ষণের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে পঞ্জাব ব্রিগেড। ৫৩ মিনিটে বিশাল কাইথকে ব্যাক পাস করতে গিয়ে ভুল করেন গ্লেন মার্টিন্স। বলের গতি কম থাকায় বল চলে যায় পঞ্জাব অধিনায়ক ম্যাসেনের পায়ে। আগুয়ান গোলরক্ষক বিশালকে পরাস্ত করে তিনি বল জড়িয়ে দেন জালে। ৬০ মিনিটে খুয়ন মেরার ফ্রিকিক থেকে হেডে সমতা ফিরিয়েছিলেন আশিস প্রধান। কিন্তু অফসাইডের জন্য গোলটি বাতিল হয়।

আরও পড়ুন: গভীর নিম্নচাপ! কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় তুমুল দুর্যোগের পূর্বাভাস
দ্বিতীয়ার্ধের ৬২ মিনিটে মোহন কোচের মাস্টারস্ট্রোক। অধিনায়ক শুভাশিসকে তুলে নামান মানবীর সিংকে। নিজের রাজ্যের দলের বিরুদ্ধে নেমেই গোল করেন মানবীর। বাঁ প্রান্ত থেকে গোলের বলটি সাজিয়ে দিয়েছিলেন সেই দিমিত্রি পেত্রাতোস। দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জোড়া পরিবর্তন করেন মোহনবাগান কোচ। দুই গোলদাতা জেসন কামিংস ও পেত্রাতোসকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান হুগো বুমো ও আর্মান্দো সাদিকুকে। ৮৫ মিনিটের মাথায় এদিনের সব থেকে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন সাদিকু। পঞ্জাব গোলরক্ষককে একা পেয়েও জালে বল জড়াতে পারেননি এই আলবেনিয়ার ফুটবলার। গোলটি বাদ দিলে দ্বিতীয়ার্ধে জমাট ফুটবল খেলে মোহনবাগান রক্ষণ। তাই দ্বিতীয়ার্ধে পঞ্জাব বেশ কয়েকবার গোল করার মত জায়গায় পৌঁছে গেলেও, বিপদ বাড়েনি মোহনবাগানের।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার