সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর :সব খেলা দ্রুত শেষ করেছিলেন তিনি। যে বয়সে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ মাপের টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপে নায়ক হয়ে উঠেছিলেন তার নজির বিশ্ব ফুটবলে খুব কম। তার উত্থান অভাবিত ভাবে এবং খুব দ্রুত, তাঁর রঙের অবসান ও খুব দ্রুত। যে বিদ্যুৎ গতিতে বিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ঘোরাফেরা করতেন, তিনি সেভাবেই তড়িৎ গতিতে ফুটবল দুনিয়াকে জয় করেছিলেন এবং দূরে সরে গিয়েছিলেন। জীবনের রঙ্গমঞ্চ থেকে তাঁর বিদায়ও খুব দ্রুত এবং অসময়োচিত। তিনি ইতালির এবং বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার পাওলো রোসি। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপের অন্য নাম পাওলো রোসি।
ঘাত প্রতিঘাতে ভরা পাওলো রোসির ফুটবল জীবন। এত বর্ণময় ফুটবল জীবনও খুব কম ফুটবলারের। ১৯৫৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জন্মেছিলেন পাওলো রোসি। ২০২০ সালে মাত্র ৬৪ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন ।বেঁচে থাকলে আজকের দিনে তিনি ৬৫ বছরে পা দিতেন। শেষের দিকে বেশ কিছুদিন রোগে ভুগতে হয়েছে তাঁকে। ময়াদানি জীবনে ডিফেন্ডারদের ভুগিয়েছেন তিনি, না হ’লে পেলে ২০০৪ সালে সেসময় তাঁকে সেরা জীবিত ১২৫ ফুটবলার তালিকায় ফেলতেন না। সাধে তো আর ১৯৮২ সালে ব্যালন ডি ‘অর পান নি পাওলো রোসি।
আরও পড়ুন হস্তশিল্পের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার নারীদের স্বনির্ভর করতে উদ্যোগ রাজ্যসরকারের
চোট আঘাতকে এভাবে কে জয় করে বিশ্বজয় কে করেছেন তাঁর মত? কে তাঁর মত রাইট উইঙ্গার থেকে স্ট্রাইকার হয়ে জয় করেছেন বিশ্ব?১৯৭৩ সালে জুভেন্টাসে তাঁর শুরু হলে কী হবে,তার ক্যারিয়ারের প্রথম বছরগুলো চোট আঘাতের সঙ্গে আপোস করেই কাটছিল, তার হাঁটুতে তিন-তিনবার অপারেশন করতে হয়, কোমোতে যান তিনি , যেখানে তাঁর সেরি এ অভিষেক । বিশেষ উল্লেখযোগ্য কিছুই হয়নি সেসময়। তারপর ১৯৭৬-৭৭ মরশুমে,সেরি বি দলের ভিসেনজায় লোনে যান , রাইট উইঙ্গার থেকে সেন্টার ফরোয়ার্ডে খেলতে শুরু করেন তা তাঁর বাকি ফুটবল জীবনের জন্য বিরাট বড় মোড় ছিল। রোসি সে বছর সেরি বি-এর সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন,দলের প্রমোশন হয়েছিল মূলত তার কৃতিত্বে।আর্জেন্টিনায় ১৯৭৮ বিশ্বকাপের জন্য এনজো বেয়ারজোটের ইতালি স্কোয়াডে ডাক পান। সেরি বি- র তারকা হয়েও পাওলো রোসি টুর্নামেন্টে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন , তিনটি গোল করেন,ইতালি চতুর্থ হয়।
বিশ্বকাপের অসামান্য পারফরমেন্স সত্ত্বেও এরপরে তাঁর ফুটবল জীবনে আসে গ্রহণকাল, রাহুদশা। তাঁকে ম্যাচ ‘টোটোনেরো স্ক্যান্ডালে’ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে তাঁকে তিন বছরের জন্য ব্যান করা হয়। ১৯৮০ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে পারেননি তিনি। তাঁর ক্রমাগত ম্যাচ ফিক্সিংয়ে যোগ না থাকার দাবি তাঁর নিষেধাজ্ঞা দু বছরে কমিয়ে নিয়ে আসে। ১৯৮২ সালে বিশ্বকাপে ইতালি দলের হয়ে তাঁকে দেখা যায়। ১৯৮২ সালের শেষ তিনটি ম্যাচে তিনি হয়ে ওঠেন ভয়ংকর যা ইতালিকে কাপ এনে দেয়। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে তাঁর অসামান্য হ্যাটট্রিক ইতালিকে সেমিফাইনালে নিয়ে যায় , সেমিফাইনালে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে জোড়া গোল এবং ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের ম্যাচে শুরুর গোলও ছিল তাঁর। মাত্র ৩১ বছর বয়সে ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি।তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক মানের ফাইনাল ম্যাচও ছিল ট্রাজেডিতে ভরা।১৯৮৫ সালে জুভেন্টাস সেই ম্যাচে লিভারপুলকে হারালে কি হবে, ম্যাচটিতে ৩৯ জন ফ্যান মারা যায়। ইতালির হয়ে ৪৮ ম্যাচে ২০ গোল করা পাওলো রোসি ফুটবলের মধ্য গগনে থাকতে থাকতেই সরে যান। দীর্ঘজীবীও ছিলেন না তিনি। তবুও তাঁর ফুটবলের জন্য তিনি থেকে যাবেন অমর।।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার