Home » যাদবপুরে র‍্যাগিং রুখতে ফের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কড়া চিঠি ইউজিসি-র

যাদবপুরে র‍্যাগিং রুখতে ফের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কড়া চিঠি ইউজিসি-র

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ সেপ্টেম্বরঃ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। উঠেছে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসির অনেক নিয়মই মানেনি কর্তৃপক্ষ, এমন অভিযোগও উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়ে পাঠায় ইউজিসি। এরপরই ইউজিসির প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে। যাদবপুরে র‍্যাগিং রুখতে এবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কড়া চিঠি দিল ইউজিসি। জানা গিয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ইউজিসি’র র‍্যাগিং সংক্রান্ত কোনও নিয়মাবলি মানেনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। র‍্যাগিং বিরোধী নিয়মবলী কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে মানা হয়নি? ছাত্রমৃত্যুর পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? প্রাক্তনীরা হস্টলে থাকছে, কর্তৃপক্ষ জানা সত্ত্বেও কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এসবেরই জবাব তলব করেছে ইউজিসি। এইসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আগামী ১৫ দিন সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউকে সোমবারই রাজভবনে ডাকেন রাজ্যপাল। এদিন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউয়ের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপরই রাজ্যপাল যাদবপুরের উপাচার্যকে ইউজিসির নির্দেশিকাগুলি সময়সীমার মধ্যে পূরণ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইউজিসির নির্দেশিকাগুলি মানতে র‍্যাপিড অ্যাকশন সেল গঠন করার কথাও বলেছেন রাজ্যপাল। উপাচার্য তা নিয়মিত মনিটরিং করবেন। এদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এমনকী র‍্যাগিং-এর অভিযোগও উঠেছে। কার্যত সেকারণেই গত ১৫ সেপ্টেম্বর যাদবপুরে নয়া অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটি গঠন করা হয়। জানা গিয়েছে, এই কমিটিতে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য থেকে শুরু করে আরও অনেকে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটিতে মোট ৩৩ জন সদস্য থাকছেন। সেইসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ডিন অফ স্টুডেন্টস-সহ প্রত্যেক সদস্যের ই-মেইল আইডি ও ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের নতুন অ্যান্টি র‍্যাগিং হেল্পলাইন নম্বর, ইউজিসির হেল্পলাইন নম্বর ও অনলাইনে অভিযোগ জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটের ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন       রাজস্থানের রামগড় : নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনে গ্রেফতার ২, আটক নাবালক

প্রসঙ্গত, ছাত্রমৃত্যু থেকে শিক্ষা পেয়ে গত শনিবার থেকেই যাদবপুরে সিসিটিভি বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। ওয়েবেল টেকনোলজি লিমিটেড থেকে সদস্যদের ১০ জনের টিম এসে ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু করেছেন। জানা গিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ৩ ধরণের মোট ২৯টি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনেশন ক্যামেরা। এই ক্যামেরা বসছে মোট ৬টি। এই ক্যামেরা দিয়ে ক্যাম্পাসে যে সমস্ত গাড়ি আসবে ও বেরোবে সেগুলির নম্বর প্লেট ক্যাপচার হবে,মানুষ জন কে ক্যাপচার করবে। ক্যামেরার মধ্যে থাকা সফটওয়্যার ওই নম্বরটি পাঠিয়ে দেবে ডেটাবেসে। সেখানে নম্বরটি সেভ হবে। এছাড়াও বসছে বুলেট ক্যামেরা। এই ক্যামেরা বসছে মোট ২১টি। এগুলি বসবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের সমস্ত গেটে। আর একটি ক্যামেরা থাকবে সার্ভার রুমে। যেখানে ক্যামেরাগুলি পরিচালিত হবে। দুর্গাপুজোর আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি বসানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

About Post Author