Home » সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল রাজ্যের সব শিক্ষক নিয়োগ মামলার শুনানি

সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল রাজ্যের সব শিক্ষক নিয়োগ মামলার শুনানি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ সেপ্টেম্বর: নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এর ফলে রাজ্যের সব শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানি বারবার সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে যাচ্ছে। বুধবার ফের এই মামলার শুনানি স্থগিত করে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিল রাজ্য। কিন্তু, এদিন আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আগামী ৫ অক্টোবর থেকে সুপ্রিম কোর্টে একযোগে শুরু হবে নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ-সহ রাজ্যের সব শিক্ষক নিয়োগ মামলার চূড়ান্ত শুনানি। জানা গিয়েছে, সব মামলাই চলবে বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস ও বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদীর ডিভিশন বেঞ্চে। বুধবার জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ওএমআর শিট সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল শীর্ষ আদালতে।

আরও পড়ুন    রাজ্যে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে অস্বচ্ছতা! নিয়োগের প্যানেল বাতিলের নির্দেশ হাইকোর্টের

শুনানির শুরুতেই মুলতুবির আবেদন করেন রাজ্য সরকারের আইনজীবী। প্রতিবাদ করেন ‘বঞ্চিত’ চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, পরপর মামলা পিছিয়ে যাওয়ার ফলে ‘অযোগ্য’রা চাকরি করেই চলেছে। অথচ যোগ্যরা বঞ্চিত হচ্ছে। এরপরই শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, অক্টোবরের শুরুতেই রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত সব মামলার একসঙ্গে শুনানি করা হবে। এই সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট এখনও পর্যন্ত যা যা রায় দিয়েছেন, সেই সব রায়ের প্রতিলিপি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। গত সপ্তাহে সেই মামলায় হাইকোর্টে বড়সড় স্বস্তি পান প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষিকা। হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত বাতিল হচ্ছে না নিয়োগ। নতুন করে আর কোনও ইন্টারভিউ দিতে হবে না। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে ইন্টারভিউ নেওয়ার নির্দেশ খারিজ করে দিয়ে সেই মামলা হাইকোর্টে পাঠিয়েছিল। হাইকোর্টেই এখনও চলছে মামলার শুনানি। অভিযোগ ছিল, প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অ্যাপটিটিউড টেস্ট নেওয়া হয়নি। তাই ওই নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে তাঁদেরকে ইন্টারভিউ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপরই হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৩২ হাজার শিক্ষকদের চাকরি বাতিল করা যাবে না। এমনকী নিয়ম মেনে তাঁরা বেতনও পাবেন।


প্রসঙ্গত, গত ১২ মে এক নির্দেশে ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও পরে বিচারপতি তাঁর নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করে জানান, ৩৬ হাজার নয়, ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হচ্ছে। বিচারপতি আরও জানান, তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে এই শূন্যপদে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। চাকরিহারারা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। সেই মামলায় বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ কিছুটা পরিবর্তন করে। জানায়, এখনই চাকরি যাবে না ৩২ হাজার শিক্ষকের। কিন্তু পর্ষদকে নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবে সেই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে ওই ৩২ হাজার শিক্ষককে। এই মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সেখানেই কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দেওয়া হয়।

About Post Author