সুবল সরদার, সময় কলকাতা ,১৪ অক্টোবর :যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা আর কতদিন চলবে? রণক্লান্ত পৃথিবী কবে শান্ত হবে? করোনা,যুদ্ধ, অতিপ্রাকৃতিক তান্ডবলীলাতে আজ আমরা ভীত,মুমূর্ষ। বাঁচার এই শর্তগুলো যদি না থাকতো পৃথিবী কত সুন্দর হতো! পূর্ণিমার আলোতে ,ফুলের হাসিতে রামধনু রঙা হয়ে উঠতো খুশিতে এই পৃথিবী! কবিতার দেশ হয়ে উঠতো।
মরু নদীর উপত্যকায় যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠেছে। সারা বিশ্বে পড়েছে তার ছায়া। মরু উপত্যকা এখন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। ভয়ে, সন্ত্রস্ত আমরা। ফিলিস্তিনির মুক্তি বাহিনী হামাস হঠাৎ আক্রমণ হানে ইজরাইলের উপরে । হামাসকে ফান্ডিং করছে ইরান সহ মুসলিম দেশগুলো । অস্ত্র-সস্ত্র, গোলা-গুলি দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছে এই যুদ্ধে । ইজরায়েলও তৎক্ষণাৎ জবাব দেয় তাদের অত্যাধুনিক, মারণ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে। এই যুদ্ধের পটভূমি গাজা ভূখণ্ডের দখল নিয়ে। এই ভূখণ্ডের একদিকে মরু নদী আর অন্য দিকে ভূমধ্যসাগর । ১৯৪৮ সালে ইজরায়েল নামক ওই রাষ্ট্রের জন্ম থেকে আরব দুনিয়া চোখ রাঙাতে শুরু করে । তারা চায় না এতোগুলো মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে একটা আব্রাহামিক রাষ্ট্রের জন্ম হোক। ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ খোমেনী ইসলাম দুনিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন- ‘Boycott anything and everything that originates with the Jewish of people’.তাই তারা ঠিক করেছিল ‘নো পিস,নো রিকগনিশন,নো নিগোশিয়েশন ‘। ডেসট্রয় দ্য স্টেট অফ ইজরায়েল। আরব দেশগুলো ১৯৬৯ সালে Three Nos – উপর ভিত্তি করে এইভাবে রেজোলিউশন পাশ করেছিল। তার জবাবে ইজরায়েল বলেছিল ‘If we were to lay down our arms today,there will no Israel tomorrow.’
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল নাশের সহ চার পাঁচটা আবর দেশ মিলে আক্রমণ শানায়। মিশর সহ তাদের সহযোগী দেশগুলোর শোচনীয় পরাজয় হয়। সেই যুদ্ধ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ছয় দিন। দুই অক্টোবর ১৯৭৩ সালে আরব দেশগুলো এক জোটে আক্রমণ করে ইজরায়েলের উপর ইহুদীদের এক পবিত্র দিনে ‘ইয়ম কিপ্পুর’। স্থায়ী ছিল মাত্র দুতিন দিন যা ইতিহাসে ‘ইয়ম কিপ্পুরে’র যুদ্ধ নামে পরিচিত।
৩৩০০ বছরের এক প্রাচীনতম জনজাতি ইহুদী । ৩৩০০ বছর পর তারা ফিরে আসে জেরুজালেমে এবং তাদের মাতৃভূমির দখল নেয়। From land of Israel to the state of Israel.এর থেকে দুঃখের আর অভিশপ্ত জনজাতি কে হতে পারে!
এক অভিশপ্ত ইহুদী জাতি। জার্মানির চ্যান্সেলর হিটলারের গ্যাস চেম্বারে কয়েক লক্ষ ইহুদীকে প্রাণ ত্যাগ করতে হয়ে ছিল। আ্যনা ফ্রাঙ্কার ডাইরি সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্যের এক উল্লেখযোগ্য দিন লিপি বলা যায়। তখন মূলতঃ লড়াই খ্রীষ্টান বনাম ইহুদী ছিল। ইহুদীরা যেমন যীশুকে মানে না তেমনি হজরত মুহাম্মদকে নবী বলে স্বীকার করে না। ইহুদীরা মুসলমানদের মতো শুয়োরের মাংস খায় না।
ইহুদী রাষ্ট্র গঠনের শুরু থেকেই মুসলিম রাষ্ট্রগুলো বিদ্বেষী এবং বিদ্রোহী হয়ে ওঠে ধর্মের নামে। তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় যতক্ষণ না ওই রাষ্ট্রের পতন হচ্ছে। কতগুলো ধর্মের জন্ম সেখানে! ইহুদী, খ্রীষ্টান, মুসলমান , সামারিটানিজম,দ্রুজ,বাহাই। এমন পবিত্র দেবভূমি অপবিত্র হয়ে ওঠে করাল যুদ্ধের রণহুংকারে। শান্ত সুন্দর মরুভূমি হাজার হাজার বছর ধরে আবর্তিত হচ্ছে শুধু যুদ্ধের পটভূমিকা তৈরি করে ।
এই যুদ্ধে ভারত ইজরায়েলের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে। তাই সেখানে যুদ্ধাস্ত্র পাঠাচ্ছে। সেখানকার ভারতীয়দের উদ্ধারের জন্যে ‘অপেরেশন অজয়’ চালু করেছে।কার্গিল যুদ্ধের সময় ইজরায়েল আমাদেরকে অত্যাধুনিক রাডার এবং স্যাটেলাইট দিয়ে সাহায্য করেছিল। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যিনি প্রথম ইজরায়েল সফর করেছিলেন। গাঁজা (গাজা ভূখণ্ড) ফুঁকছে ইজরায়েল, ধোঁয়া ছাড়ছে প্যালেস্টাইনে , নেশা ধরছে ভারতের সেকুলার সহ বামপন্থীদের । এখন দেখ কেমন লাগে। হামাস ইসলামিক ব্রাদারহুড,তারা কখনো ব্রাদারহুড অফ হিউম্যান বিং নয় । হামাস একটা আইএসআই র মতো আতঙ্কবাদী সংগঠন যারা অনবরত ভারতের শান্তি ,শৃঙ্খলাকে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ধর্মের নামে জল্লাদের মতো শিশু , নারী, পুরুষ নির্বিশেষে তাদের হত্যার শিকার হয় । হিটলার যদি জেনোসাইড করে, তারা করে হলোকাস্ট। এই যুদ্ধে ধর্মের নামে মনুষ্যত্বকে ধ্বংস করা তাদের একমাত্র এবং প্রধান লক্ষ্য।
ধর্মের জয় হোক। এই যুদ্ধে মনুষ্যত্বের জয় হোক। মানবতার জয় হবেই হবে। ধর্ম বেঁচে থাকুক শান্তি নিয়ে।


More Stories
নাবালক ছাত্রের সঙ্গে যৌ*ন মিলন , গ্রেফতার হাইস্কুল শিক্ষিকা
পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান খ*তম , কে এই হামজা?
সীমান্তে চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু মাপজোক