স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৫ অক্টোবর: এএফসি কাপে আটকে গেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস। মঙ্গলবার ওড়িশার কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ হল ২-২ গোলে। ডি গ্রুপের ম্যাচে এই প্রথম পয়েন্ট নষ্ট করল সবুজ মেরুন শিবির। বসুন্ধরা কিংস যে শক্তিশালী দল ম্যাচের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন মোহন কোচ জুয়ান ফেরান্দো। জুয়ানের বিপক্ষের দল সম্পর্কে সমীহ যে সঠিক ছিল মঙ্গলবার টের পাওয়া গেল। দশমীর দিন নিরাপত্তার কারণে কলকাতার বদলে ম্যাচ আয়োজন করা হয় ওড়িশায়। বঙ্গোপসাগরের তীরে গঙ্গাপারের দলকে কড়া টক্কর দিল পদ্মা পারের দল।

যদিও এদিন ম্যাচের শুরুটা ছিল মোহনবাগানের পক্ষে। খেলার ২০ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত মোহনবাগান। লিস্টনের গোল বাতিল করা হয় অফসাইডের জন্য। যদিও রিভিউতে দেখা যায় অফসাইডের সিধান্তটি ভুল ছিল। এএফসি কাপে VAR- না থাকায় গোল বাতিলের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। প্রথম গোলের জন্য মোহনবাগানকে অপেক্ষা করতে হয় ২৯ মিনিট পর্যন্ত। হুগো বুমো ডান প্রান্ত থেকে বসুন্ধরার ৩ জন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বল দেন কামিংসকে। তিনি বল ধরে পাস দেন বক্সের মধ্যে থাকা পেত্রাতোসকে। প্রথম ছোয়ায় বল জালে জড়ান পেত্রাতোস। এগিয়ে যায় মোহনবাগান। ৩২ মিনিটে ফের গোলের সুযোগ পেয়ে যায় মোহনবাগান। সাহালের ক্রস ঠিক মত মাথায় লাগাতে পারেননি মোহনবাগানের ফরওয়ার্ড।
আরও পড়ুন ‘কিং কোহলি’কে পিছনে ফেললেন অবসর ঘোষণা করা কুইন্টন ডি’কক
এর ঠিক এক মিনিট পর খেলায় সমতা ফেরায় বসুন্ধরা। রোবিনহোর থ্রু বল ধরে গোল করেন ডর্টিলটন। এক্ষেত্রে মোহনবাগান রক্ষণভাগ দায় এড়াতে পারে না। রোবিনহো ও ডর্টিলটনের সামনে ন্যূনতম প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারেননি মোহন ফুটবলাররা। সমতা ফিরিয়ে মোহনবাগানকে বেশ চেপে ধরে বসুন্ধরা। ৩৫ মিনিটে রোবিনহোর শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। প্রথমার্ধে খেলার স্কোরবোর্ডে আর কিছু পরিবর্তন হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ফের আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ায় দুটি দল। ৪৮ মিনিটে ফের ডর্টিলটনের শট ক্রসবারে লাগে। মোহনবাগান রক্ষণে চাপ বাড়ান রোবিনহো, ডর্টিলটনরা। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে খেলার গতির কিছুটা বিপরীতে গিয়ে গোল পেয়ে যায় মোহনবাগান। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে পেত্রাতোসকে বাড়ান গ্লেন মার্টিন্স।
সেই বল পেত্রাতোস সাজিয়ে দেন ডান প্রান্তে অরক্ষিত আশিস রাইকে। ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান আশিস। ফের রক্ষণের ভুলে ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি মোহনবাগান। ৬৯ মিনিটে রোবিনহোকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন আশিস। পেনাল্টি পায় বসুন্ধরা। পেনাল্টি থেকে গোল করেন রোবিনহো। বলের দিকে অনুমান করে ঝাঁপ দিলেও বলের নাগাল পাননি মোহন গোলরক্ষক। ২-২ হওয়ার পর ফের দুটি দল মরিয়া হয়ে ওঠে ব্যবধান বাড়ানোর জন্য। দ্বিতীয়ার্ধে কামিংসের পরিবর্তে সাদিকুকে নামান মোহন কোচ। যদিও তিনিও গোলের মুখ খুলতে পারেননি। ৭৩ মিনিটে পেত্রাতোসের ফ্রি-কিক অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের শেষে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মোহনবাগান ফুটবলার আনোয়ার আলি। মোহনবাগান, বসুন্ধরা আর কোনও দল গোলের দেখা পায়নি। এর আগে সাতটি ম্যাচ জিতেছিল মোহনবাগান। এই ম্যাচ ড্রয়ের ফলে সেই তাল কিছুটা কাটল সবুজ মেরুনের।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার