Home » স্কিল ডেভেলপমেন্ট দুর্নীতি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন চন্দ্রবাবু নাইডু

স্কিল ডেভেলপমেন্ট দুর্নীতি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন চন্দ্রবাবু নাইডু

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩১ অক্টোবর: স্কিল ডেভেলপমেন্ট দুর্নীতি মামলায় সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই গ্রেফতার হয়েছেন অন্ধপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি প্রধান এন চন্দ্রবাবু নাইডু। তাঁর বিরুদ্ধে অন্ধপ্রদেশ সরকারের স্কিল ডেভেলাপমেন্ট স্কিমে ৩৭১ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তারপর থেকেই জেলে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে মঙ্গলবার সকালে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন এন চন্দ্রবাবু নাইডু। এদিন অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট চন্দ্রবাবু নাইডুর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছে। জানা গিয়েছে, চন্দ্রবাবু নাইডুর চোখে অস্ত্রোপচার করা হবে। কার্যত সেকারণেই আগামী চার সপ্তাহের জন্য মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে চন্দ্রবাবু নাইডুকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, এদিন সন্ধ্যায় তিনি জেল থেকে মুক্তি পাবেন। অন্যদিকে, নাইডুর সাধারণ জামিনের আবেদন আগামী ১০ নভেম্বর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন   আবগারি দুর্নীতি মামলায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে তলব ইডির

প্রসঙ্গত, স্কিল ডেভেলপমেন্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৯ সেপ্টেম্বর ভোরেই অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুকে গ্রেফতার করে সিআইডি। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চন্দ্রবাবুকে বিজয়ওয়াড়ার অ্যান্টি- কোরাপশন ব্যুরো কোর্টে পেশ করা হয়। এরপর আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। ওইদিন রাতেই তড়িঘড়ি তাঁকে রাজামুন্দ্রি সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনে ৩৭১ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছিল। এই দুর্নীতির মূল চক্রী ছিলেন চন্দ্রবাবু নাইডু। এরপর ২০২১ সালে স্কিল ডেভলপমেন্ট দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, অসততা, অসাধুভাবে সম্পত্তি বিতরণ সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনেও অভিযোগ আনা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

এরপরই গত মার্চ মাস থেকে সেই দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে অন্ধ্রপ্রদেশের সিআইডি। জানা গিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪, ৩৭, ১০৯, ১২০(৮), ১৬৬, ১৬৭, ২০১, ৪০৯, ৪১৮, ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৭১ নং ধারার অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারির পর থেকেই তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তেলুগু দেশম পার্টির সমর্থকরা। আদালত চত্বরেও শুরু হয়েছিল বিক্ষোভ। চন্দ্রবাবু নাইডুর গ্রেফতারির প্রতিবাদে গোটা অন্ধ্রপ্রদেশ জুড়ে বনধের ডাক দিয়েছিল তেলেগু দেশম পার্টি। রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে গোটা দেশে রাজনৈতিক মহলেও চন্দ্রবাবুর গ্রেফতারের প্রভাব পড়েছিল ব্যাপক। এরপরই তেলেগু সম্প্রদায়কে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন টিডিপি নেতা তথা চন্দ্রবাবু নাইডুর ছেলে নারা লোকেশ। এমনকী চন্দ্রবাবুর গ্রেফতারিকাণ্ডে সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, অভিনেতা তথা জনসেনা পার্টির সভাপতি পবন কল্যাণের দলও এই বনধে সমর্থন করেছিলেন।

About Post Author