সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ নভেম্বর : “দেশে দেশে গ্রামে গ্রামে তবু নাম সুধা পানে / মাতুক যত নর নারী, আমি দেখে শুনে প্রাণ জুড়াই “- উৎসবমুখর বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের উন্নতম প্রধান উৎসব কালীপুজো। আর বর্তমানে বঙ্গের মানচিত্রে কালীপুজোর দিক থেকে বারাসাতের রয়েছে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান। বারাসাতে যে কয়েকটি মেগাবাজেটের কালীপুজো হয় তারমধ্যে প্রাচীনতম না হলেও আকারে-আয়তনে, জাঁকচমকে তাক লাগানোর মত পুজো আয়োজন করে ” আমরা সবাই “। পুজো থিম- নির্ভর হয়ে ওঠার পর থেকেই থিন হিসাবে দর্শনীয় স্থান বা মন্দির অথবা স্থাপত্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন কালীপুজোর আয়োজকরা। এবছর আমরা সবাই-এর থিম ইলোরার কৈলাশা। ইলোরার ১৬ নম্বর গুহা কৈলাশা মন্দির থিম হলেও আমরা সবাই- ক্লাব তাদের সপ্তম বর্ষে এবছর পুজোমণ্ডপে ইলোরার কৈলাশা সহ মোট দুটি মন্দির (গুহা ১০ ও ১৬) -কে বাইরে এবং ভেতরে ফুটিয়ে তুলেছে সুনিপুন দক্ষতা- সহকারে। এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটির সম্পর্কে কিছু কথা খুবই উল্লেখযোগ্য।
উল্লেখ্য,মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ শহর থেকে ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত একটি ইলোরা।শিলা কেটে নির্মাণশৈলীর প্রাচীন প্রতিরূপ স্থাপত্যটি এখানে অণুসৃত হয়েছে। এখানে শতাধিক গুহা থাকলেও মোট ৩৪টি গুহা রয়েছে যেগুলি প্রবেশযোগ্য। চরনন্দ্রী পাহাড়ের অভ্যন্তর থেকে খনন করে উদ্ধার করা হয়েছে এই গুহাগুলিকে। গুহাগুলিতে হিন্দু, বৌদ্ধ এবংজৈন ধর্মের মন্দিরের স্বাক্ষরবাহী । ৫ম থেকে ১০ম শতাব্দীর মধ্যে এই ধর্মীয় স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছিল। এখানে বৌদ্ধ ধর্মের ১২টি হিন্দু ধর্মের ১৭টি এবং জৈন ধর্মের ৫টি মন্দির রয়েছে।১৬ নাম্বার গুহা, যা কৈলাশা, কৈলাশ অথবা কৈলাশনাথ মন্দির নামেও পরিচিত, যা অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে ইলোরা’র অন্যতম প্রধান দর্শন কেন্দ্র। এর ডিজাইনের জন্য একে কৈলাশ পর্বত নামে ডাকা হয়। যা শিবের বাসস্থান, দেখতে অনেকটা বহুতল মন্দিরের মত কিন্তু এটি একটিমাত্র পাথরকে কেটে তৈরী করা হয়েছে। যার আয়তন এথেন্সের পার্থেনন এর দ্বিগুণ।১০ নাম্বার গুহা যা একটি চৈত্য (চন্দরশালা) যার মধ্যে ভিশভিক্রাম গুহা, যা “কারপেন্টার’স কেভ” নামে সর্বাধিক পরিচিত। এই গুহাটি অনেকটা গির্জার মত একটি বিশাল গৃহ যাকে বলা হয় চৈত্য, যার ছাদ এমন ভাবে খোদাইকৃত যে দেখতে অনেকটা কাঠের বিমের মত। এই গুহার ঠি মধ্যখানে একটি ১৫ ফুট লম্বা আসনকৃত বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে। রামেশ্বর (২১ নাম্বার গুহা), ধুমুর লিনা (২৯ নাম্বার গুহা) রাভন কি খাই (১৪ নাম্বার গুহা) এবং নীলকণ্ঠ (২২ নাম্বার গুহা) কুম্ভারব্দা (২৫ নাম্বার গুহা) এবং গোপেলিনা (২৭ নাম্বার গুহা)তে স্থাপত্যের কম বেশি নিদর্শন থাকলেও আমরা সবাই এবার তাদের পুজোয় তুলে ধরছে ১০ ও ১৬ নম্বর গুহার প্রতিরূপ। আমরা সবাই পূজা মন্ডপের ভেতরের নির্মাণ শৈলী ভিশভিক্রম গুহার মত হলেও আমরা সবাই বাহ্যিকভাবে ফুটিয়ে তুলছে ১৬ নম্বর গুহা ইলোরার কৈলাশার রূপ।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ১৩০০থেকে ১৮০০ বছরের পুরোনো ইলোরার প্রাচীন রক-কাট টেম্পল এবার উপস্থাপিতহচ্ছে দর্শকদের সামনে।ইলোরার যে দুটি গুহা সবচেয়ে বিখ্যাত সে দুটির একটিকে বাইরে ও একটি ভেতরে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন এখানের প্রধান কর্ণধার অরুন ভৌমিক। বারাসাতের মেগা বাজেটের পুজোয় স্বল্প দিনের মধ্যে একেবারে সামনের সারির পুজো হয়ে উঠেছে অরুণ ভৌমিকের পুজো নামে খ্যাত আমরা সবাই। বারবার চমক লাগিয়ে দেওয়ার মত পুজোমণ্ডপ, প্রতিমা, আলোকসজ্জা উপহার দিয়েছে আমরা সবাই।এবারও যে অন্যথা হবে না পুজোর সামান্য কয়েক দিন বাকি থাকতে তাদের শেষ পর্বের প্রস্তুতি অন্তত সে কথাই জানান দেয়। সাজো সাজো রব পুজো ঘিরে। পুজোর তিনদিন আগেই ৯ তারিখ দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে মূল এন্ট্রান্স।।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
দোল উৎসব : রাঙিয়ে দিয়ে যাও