সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ নভেম্বর: রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে ইডির হাতে। তদন্ত যতই এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতি মামলায় ৬ নভেম্বর অর্থাৎ আজ ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হবে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। এদিন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ‘কোর্ট প্রোডাকশন’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা, দুদিন আগেই কমান্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন,, ৬ তারিখ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন। মুক্ত হবেন তিনি। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। সোমবার আদালতে কোন বোমা ফাটান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের, সবার নজর সেদিকেই। আদালত কক্ষে নাকি সেখানে যাওয়ার পথেই কোনও নতুন কোনও বিস্ফোরক তথ্য সামনে রাখবেন জ্যোতিপ্রিয়, নজর সেদিকেই।
আরও পড়ুন ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা বেহালার ঠাকুরপুকুরে, একের পর এক গাড়িকে পিষে দিল বাস
এদিকে, বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক অভিজিৎ দাসের বাড়ি থেকে পাওয়া মেরুন ডায়েরি থেকে একের পর এক তথ্য উঠে আসছে। এছাড়া তিনটি নোটবুকও তদন্তকারী সংস্থার অফিসারদের হাতে এসেছে বলে সূত্রের খবর। কার্যত সেকারণেই এবার রেশন দুর্নীতি মামলায় ফের ইডির অফিসে তলব করা হল বনমন্ত্রীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ককে। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার তাঁকে ইডির অফিসে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। মেরুন ডায়েরির লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ইডির অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে মেরুন ডায়েরিটি উদ্ধার হয়েছে তাতে লেখা আছে ‘বালুদা’র নাম। সেখানে তারিখ ধরে ধরে কোন দিন কার থেকে কত টাকা এসেছে, সেই টাকা কোথায় জমা রাখা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত হিসেব লেখা রয়েছে। এছাড়া আর্থিক হিসেব সংক্রান্ত তিনটি নোটবুকও পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। যদিও মন্ত্রীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক অভিজিৎ দাস নোটবুকের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলেই এর আগে সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন ভাপা নয়, স্বাদ বদলাতে মধ্যাহ্নভোজে বানিয়ে ফেলুন ইলিশ মাছের দো পেঁয়াজা
প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নথি তদন্তকারী অফিসারদের হাতে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। সেই তালিকায় অভিজিৎ দাসের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় উদ্ধার হওয়া মেরুন ডায়েরিও ছিল। সেখানে প্রচুর লেনদেনের হিসেব লেখা রয়েছে। কোন তারিখে, কার থেকে কত টাকা এসেছে, কোথায় সেই টাকা জমা হয়েছে, সেই সব তথ্য উদ্ধার হওয়া ওই ডায়েরিতে তুলে রাখা আছে বলে ইডি সূত্রের দাবি। ইতিমধ্যেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা দুটি কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। দু’টি কোম্পানি বাঁকুড়ার ঠিকানায় রেজিস্টার্ড বলেই জানা গিয়েছে। গত শুক্রবারই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের আপ্তসহায়ক অমিত ইডিকে জানিয়েছিলেন, ওই সংস্থা দুটি থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নির্দেশে ২০ কোটি টাকা সরানো হয়েছিল। এরপরই দুটি কোম্পানির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬ কোটি টাকা ফ্রিজ করে ইডি।


More Stories
অভিষেকের দুয়ারে ইডি
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা