সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ নভেম্বর: রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে ইডির হাতে। রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে ম্যারাথন তল্লাশিতে এবার উদ্ধার হল বিপুল অঙ্কের টাকা। অঙ্কিত ইন্ডিয়া লিমিটেডের অফিস থেকে ১ কোটি টাকা উদ্ধার করলেন ইডি আধিকারিকরা। অন্যান্য জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে আরও ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে রাজ্যের একাধিক জায়গায় ২৭ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তল্লাশি চালায় ইডি। নদিয়া, বনগাঁর পাশাপাশি কলকাতার একটি অফিসে ও উলুবেড়িয়ার একটি মিলে। অঙ্কিত ইন্ডিয়ার যে অফিস ও মিল থেকেই এই ১ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। বাকি জায়গাগুলি থেকে আরও নগদ ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। একইসঙ্গে প্রচুর নথিও উদ্ধার করেছে ইডি। কোনও অপরাধমূলক পথই এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস বলে মনে করছে ইডি। সেই টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন ছত্তিশগড় ও মিজোরামে শুরু ভোটগ্রহণ, নির্বাচনের শুরুতেই বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ছত্তিশগড়
এদিকে, রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে আপাতত ইডি হেফাজতেই থাকতে হবে। সোমবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে আদালত ফের ৭ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। সূত্রের খবর, আগামী ১৩ নভেম্বর ফের কোর্টে পেশ করা হবে মন্ত্রীকে। সোমবারই ছিল ইডি হেফাজতের শেষদিন। এদিন আলিপুর কম্যান্ড হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর আদালতে পেশ করা হয় মন্ত্রীকে। সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরনোর সময় জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ‘ ভালো নেই আমি। যা করেছে এরা অন্যায়, অনৈতিক কাজ করেছে। কোর্ট আমাকে নিশ্চয়ই মুক্তি দেবে। আমি নির্দোষ।’ কিন্তু দিন শেষে দেখা গেল, এদিন আদালতে জামিনই চাননি মন্ত্রী। সওয়াল শেষে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে আরও ৭ দিন ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে আসছে ইডির। বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক অভিজিৎ দাসের বাড়ি থেকে পাওয়া মেরুন ডায়েরি থেকে একের পর এক তথ্য উঠে আসছে। এছাড়া তিনটি নোটবুকও তদন্তকারী সংস্থার অফিসারদের হাতে এসেছে বলে সূত্রের খবর। কার্যত সেকারণেই রেশন দুর্নীতি মামলায় সোমবার ফের ইডির অফিসে তলব করা হয়েছিল বনমন্ত্রীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ককে। মেরুন ডায়েরির লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ইডির অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যে মেরুন ডায়েরিটি উদ্ধার হয়েছে তাতে লেখা আছে ‘বালুদা’র নাম। সেখানে তারিখ ধরে ধরে কোন দিন কার থেকে কত টাকা এসেছে, সেই টাকা কোথায় জমা রাখা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত হিসেব লেখা রয়েছে। এছাড়া আর্থিক হিসেব সংক্রান্ত তিনটি নোটবুকও পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।


More Stories
অভিষেকের দুয়ারে ইডি
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা