Home » নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের কুন্তল ঘোষের ফ্ল্যাটে ইডির হানা

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের কুন্তল ঘোষের ফ্ল্যাটে ইডির হানা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ নভেম্বর:  নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যতই এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার ধৃত কুন্তল ঘোষের রাজারহাটের ফ্ল্যাটে হানা দিল ইডি। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের হুগলি জেলার তৎকালীন সভাপতি কুন্তল ঘোষ। ফ্ল্যাটের মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখতেই মঙ্গলবার ইডির আধিকারিকরা ওই ফ্ল্যাটে যান। বর্তমানে ফ্ল্যাটে যিনি আছেন তিনি কি আসল মালিক? কবে কিনেছিলেন এই ফ্ল্যাট? কার কাছ থেকে কিনেছিলেন এবং কত টাকার বিনিময়ে? কোনও ভাবে কুন্তল ঘোষের বেনামি সম্পত্তি সুকৌশলে বিক্রি করা হয়েছিল ফ্ল্যাটটি? এসব যাবতীয় বিষয়ই খতিয়ে দেখতে চায় তদন্তকারীরা। সে কারণেই ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন ইডি।

আরও পড়ুন  রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে তল্লাশি চালিয়ে ফের উদ্ধার ১ কোটি

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কিছুদিন আগেই সিবিআই অফিসার স্নেহাংশু বিশ্বাসকে ‘স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম’-এ যুক্ত করেছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। স্নেহাংশু বিশ্বাসকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে কলকাতায় বদলি করে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে কর্মরত রয়েছেন। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিবিআই অফিসার স্নেহাংশু বিশ্বাসকে বদলি করা যাবেনা বলেই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ডিআইজি সিবিআই অশ্বিন সেনভিকে সিট পুনর্গঠনের নির্দেশ কার্যকর করতে বলেন। এরপর আইনজীবী দিব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত দাশগুপ্ত এদিন আদালতে জানান, রাজ্য প্রাথমিক কাউন্সিল সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। এরপরই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ‘আদালতকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিরক্ত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে প্রাইমারি বোর্ড অফ এডুকেশন।’

আরও পড়ুন   মিলল না জামিন, ফের ৭ দিনের ইডি হেফাজত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের

উল্লেখ্য,নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ইডি গ্রেফতার করেছিল হুগলির যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষকে। তাঁকে জেরা করেই নিয়োগ দুর্নীতিতে বাজার থেকে তোলা টাকার কিছু হিসেব পান ইডির তদন্তকারীরা। কুন্তলের ব্যাঙ্ক নথি খতিয়ে দেখে জানা যায় টলিউড অভিনেতা বনি সেনগুপ্তকে তিনি ৪০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। এরপরই বনিকে তলব করে ইডি। সল্টলেক সিজিও কমপ্লেক্স হাজিরা দিয়ে বনি জানিয়ে দেয় একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার জন্যই তিনি ওই টাকা নিয়েছিলেন। তাঁর কাগজপত্রও আছে। সেই সঙ্গে দাবি করেছিলেন নিয়োগ দুর্নীতিতে তিনি কোনও ভাবেই জড়িত নন। একইসঙ্গে বনি দাবি করেছিলেন, ২০১৭ সালে কুন্তলের দেওয়া সেই টাকা তিনি সরাসরি নেননি। পরিবর্তে সেই টাকা পাঠানো হয়েছিল গাড়ির শো-রুমে। বনি আরও দাবি করেছিলেন, তিনি গাড়ি কেনার জন্য টাকা নিলেও পরে কুন্তল আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এবং তার জন্য কোনও পারিশ্রমিক না নিয়ে তিনি ওই টাকা ধৃত যুবনেতাকে শোধ করে দিয়েছিলেন। যদিও তিনি ওই ৪০ লক্ষ টাকা সরাসরি ইডিকে ফেরত দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

About Post Author