শঙ্কু কর্মকার, সময় কলকাতা ,১২ নভেম্বর : ফুচকা অত্যন্ত জনপ্রিয় রসনা উদ্রেককারী খাদ্য।কোথাও বা সে গোলগাপ্পা, কোথাও বা পানি কা বাটাশা বা পতাশা, কোথাও বা গুপ চুপ, ফুলকি বা পাকোদি নামে পরিচিত কথা শুনলে অনেকেরই জিভে জল আসে। তবে এর উৎপত্তি কোথায় বলা দুরূহ তবুও বলা হয় যেটি বর্তমান পশ্চিম-মধ্য বিহার, যাকিনা এককালে গঙ্গা নদীর তীরে মগধ সাম্রাজ্য ছিল সেখানে ফুচকার উৎপত্তি । গবেষকদের অনেকেই আবার মনে করেন, ফুলকি তথা ফুচকা, সেখানেই আবিষ্কার করা হয়। তবে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে এবং ভারত ছাড়িও ফুচকার জনপ্রিয়তা রয়েছে। বহু শহরের মোড়ে মোড়ে এমনকি কিছু রেস্টুরেন্টেও ফুচকা বিক্রি হয়। সাধারণভাবে শালপাতার ঠোঙায় ফুচকা পরিবেশনের রেওয়াজ ছিল একসময় ।তবে সেদিন আর নেই তবে ফুচকা এখন আরও বেশি ব্যাপ্তি পেয়েছে জনপ্রিয় খাবার হিসেবে। তবে ফুচকার আবির্ভাব যেখানেই হোক ফুচকার নির্দিষ্ট দেশ নেই। যেমন ধর্ম পালন এবং উৎসবের কোনও সীমারেখা নেই।তাই ফুচকার দেশে যেতে হলে উৎসবের অসীম ব্যাপ্তিতে তাকে খোঁজ করা যেতে পারে। পরিবেশবান্ধব হিসেবে তাকে খুঁজে নেওয়া যেতে পারে কালীপুজোর থিমে।আর এই অভিনবত্ব থিমে ফুটিয়ে তুলেছেন উত্তরবঙ্গের এক কালীপুজোর আয়োজকরা।৪৭তম বর্ষে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের বাদামাইল বিবাদী সংঘ-এর কালীপূজোর থিম ফুচকার দেশে।
কিভাবে বহুমানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন হাজার হাজার মানুষ? কি করে তৈরী হয় এই ফুসকা? মন্ডপসজ্জায় থিমে ফুটিয়েছেন বাদামাইল বিবাদী সংঘ। কলকাতার ফুটপাতে ফুসকার পশরার আদলে সেজে উঠছে বাদামাইল বিবাদী সংঘ-র পূজো মন্ডপ। মন্ডপে ফুচকা ও শাল পাতার ব্যবহারের মতই প্রতিমার অন্যতম উপকরণ শালপাতা । সেই বিষয়টি মাথায় রেখে প্লাস্টিক – থার্মোকলের মত ক্ষতিকারক উপকরণগুলির ব্যবহার এড়িয়ে তারা পরিবেশ বান্ধব শালপাতার ব্যবহার করা হয়েছে। একদিকে পরিবেশের কথা মাথায় রেখে মন্ডপসজ্জা, অন্যদিকে প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা ছবি এবং উৎসবের বিরাট ব্যাপ্তির টুকরো কোলাজ – সবমিলিয়ে বিবাদী সংঘ অতুলনীয় এক ভাবনার রূপনির্দেশক । কালীপুজো এখানে নতুন দিশা।।
আরও পড়ুন বঙ্গ জুড়ে আলো আনছেন উত্তরের শ্যামা উমারা


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
দোল উৎসব : রাঙিয়ে দিয়ে যাও