সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ ডিসেম্বরঃ উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তুঙ্গে। তারই মধ্যে কিছুদিন আগে ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। যদিও রাজ্য-রাজভবন সংঘাত নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন ইস্যুতে এর আগেও একাধিকবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের মতানৈক্য হয়েছে। এসবের মাঝেই সোমবার বিধানসভা থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা চলে যান রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে। শীতকালীন বিধানসভা অধিবেশনে বেশ কয়েকটি বিল আটকে রয়েছে। সেগুলির সমাধানের সূত্র খুঁজতেই এদিন রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক শেষে রাজভবনের বাইরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানিয়েছেন বৈঠকে আলোচনা হয়েছে এবং দু’পক্ষই মধ্যস্থতায় রাজি। আগামী দিনে বিল পাস করতে অসুবিধা হবে না।
আরও পড়ুন বিদেশযাত্রার সম্ভাবনা, কর্মক্ষেত্রে সফলতা! পড়ুন রাশিফল
উপাচার্য-নিয়োগ বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতেই সোমবার রাজভবনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছিলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও। রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিশেষ উপহার হিসেবে মুখ্যমমন্ত্রীর হাতে বিশেষ মিষ্টির ডালা তুলে দিয়েছেন রাজ্যপাল বোস। মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার দেওয়ার জন্য আগেই তিনি তা অর্ডার করেছিলেন। কলকাতার নাম করা মিষ্টির দোকান থেকে অর্ডার দেওয়া হয়েছিল এই বিশেষ ডালা। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো আলোচনা করার জন্য এখানে এসেছিলাম। এক ঘণ্টা ধরে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমরা মনে হয় আজকের এই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। এর বেশি আমি আর বাইরে বলতে পারব না। সব কিছু বাইরে বলা যায় না।’

প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ মামলায় কিছুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিলেন রাজ্যের আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপরই উপাচার্য নিয়োগ মামলায় রাজ্যপালের কাছে জবাব তলব করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ। সিভি আনন্দ বোসকে নোটিস পাঠাল দেশের শীর্ষ আদালত। এই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলেন, উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন। কার্যত সেকারণেই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, এই মামলায় পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আর কোনও নিয়োগ করতে পারবেন না রাজ্যপাল। এরপর বিচারপতিরা জানিয়ে দেন, যাঁদের অন্তর্বর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁরা নিজেদের বেতন পাবেন, কিন্তু উপাচার্য হিসেবে কোনও বাড়তি সুযোগ-সুবিধা, বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাবেন না।


More Stories
বাঙালিদের ভন্ড বলার অভিযোগে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
তৃণমূল ও সিপিএম প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রীর শপথবাক্য ও মন্ত্রগুপ্তি