Home » রেশন দুর্নীতি মামলায় এবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হিসাবরক্ষককে তলব ইডির

রেশন দুর্নীতি মামলায় এবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হিসাবরক্ষককে তলব ইডির

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ ডিসেম্বরঃ রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতির তদন্তে এবার নয়া তথ্য ইডির হাতে। সেই তদন্তের স্বার্থেই রেশন দুর্নীতি মামলায় এবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হিসাবরক্ষককে তলব ইডির। জ্যোতিপ্রিয়র হিসাবরক্ষককে জেরা করলেই রেশন দুর্নীতির একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করছে ইডি। রেশন দুর্নীতির গোটা বিষয়টা ঠিক কীভাবে চলছিল? ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন কে কে, ইতিমধ্যেইই এসবটাই জানার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। অন্যদিকে, এদিন জেল হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় রেশন বন্টন দুর্নীতি মামলায় মূল অভিযুক্ত বাকিবুর রহমানকে নগর দায়রা আদালতে পেশ করা হয়। ইডির তরফে আইনজীবী আবারও জেল হেফাজতের আবেদন করে। বিচারক তাঁকে ১৩ই ডিসেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

আরও পড়ুন    রাজনীতি থেকে দূরে থাকুন, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন! জানুন রাশিফল

অন্যদিকে, রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ইডির জানতে পেরেছে রাজ্যের একাধিক সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির চাবিকাঠি প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানের হাতে। সমিতিগুলির আইডি ও পাসওয়ার্ড জানতেন বাকিবুর! এমনকী সেগুলির নিয়ন্ত্রণও ছিল এই ব্যবসায়ীর হাতে। সেই সুবিধা নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ভুয়ো কৃষকদের নাম ঢোকানো হত সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির তালিকায়। এই পদ্ধতিতে রেশন বণ্টনের নামে কোটি কোটি টাকা তছরূপ করেছেন বাকিবুর ও তাঁর সঙ্গীরা, এমনই অভিযোগ ইডির। সূত্রের খবর, ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর একাধিক চালকল ও গমকলে তল্লাশি চালানো হয়। ইডির হাতে উঠে আসে, বাকিবুরের প্রত্যেকটি চালকলই রাজ্য সরকারের নথিভুক্ত ছিল। এই মিলগুলিতে আসত রেশনের চাল। বিপুল পরিমাণের সেই চাল সরিয়ে বাজারে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা হত। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় বাকিবুরের একটি চালকলে তল্লাশি চালিয়ে ১০৯টি স্ট্যাম্প ও সিল উদ্ধার হয়। সেগুলির মধ্যে যেমন খাদ্য দফতরের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সরকারি সংস্থার আধিকারিকদের স্ট্যাম্প রয়েছে, তেমনই রয়েছে বিভিন্ন জেলার বেশ কয়েকটি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির স্ট্যাম্প আর সিল। ওই সমিতিগুলি নিয়ে ইডি তদন্তে নামে।

 

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ব্যাপারে সমিতির কয়েকজন কর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তের পর ইডির গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন যে, রাজ্যের বেশ কয়েকটি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড বাকিবুর রহমানের দখলে ছিল। বাকিবুর নিজের প্রয়োজনে ইচ্ছামতো তাঁর কর্মচারীদের দিয়ে সমিতিগুলির কম্পিউটার ব্যবহার করতেন। সেই সূত্রেই ইচ্ছামতো ওই সব সমিতির ফাইলে ভুয়ো কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হতো। ইডির তদন্তে প্রকাশ, বহু কৃষক নিজেদের ফলানো শস্য সরাসরি সরকার পরিচালিত সমবায়কে না দিয়ে বাধ্য হতেন এজেন্টদের হাতে তুলে দিতেন। সরাসরি অথবা লোক মারফত এই এজেন্টদের পরিচালনা করতেন বাকিবুর রহমানই। এমনই অভিযোগ ইডির। যদিও সমবায়ের রেকর্ডে দেখানো হত, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হয়েছে। এই ক্ষেত্রেই ভুয়ো কৃষকদের নামের তালিকা তৈরি করা হত। কোন কৃষকের নামে ধান বিক্রির কত টাকা অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে, সেই তথ্যের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ থাকত সেই বাকিবুরের হাতেই। বেশ কিছু তথ্য ইডির পক্ষ থেকে আদালতে পেশ করা হয়েছে। কাদের মদতে বাকিবুর এত ক্ষমতার অধিকারী, তা জানার চেষ্টা করছেন ইডির তদন্তকারীরা।

About Post Author