সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩১ ডিসেম্বর: \\পেয়েছি ছুটি বিদায় দেহ ভাই\\সমরেশ মজুমদার লিখেছেন, “মৃত্যু কি সহজ, কি নিঃশব্দে, আসে। অথচ মানুষ চিরকালই জীবন নিয়ে গর্ব করে যায়।” – এবং তিনি বাস্তব লিখেছেন। মৃত্যু জীবনের চরম সত্য। এবং যার ফলশ্রুতি প্রতিদিন বহু মানুষ প্রয়াত হন। সারাবছরে বহু নক্ষত্রপতন ঘটে। মানব জীবনে ও নক্ষত্রপতন হয়। প্রতিবছরের মত ২০২৩ সালেও দেশে – বিদেশে বহু বিখ্যাত মানুষ প্রয়াত হয়েছেন, এমনকি যার উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করে আমরা মৃত্যুর এপিটাফ নিয়ে আলোচনা করতে বসেছি সেই মহান লেখক সমরেশ মজুমদার সহ বহু খ্যাতনামা মানুষকে আমরা ২০২৩ সালে হারিয়েছি। ফিরে দেখা যাক ২০২৩ সালে যে কৃতি মানুষদের আমরা হারিয়েছি, যাদের বিয়োগ ব্যাথা আমাদের নিঃস্ব করেছে – তাঁদের মধ্যে অন্যতম যে ২৩ জনের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় বলে আমরা মনে করি – দেশ ও বিদেশের সেই ২৩ জন যুগপুরুষের স্মরণিকা সময় কলকাতার পর্দায়, এই তালিকায় এই বর্ষে প্রয়াত সব স্বণামধন্য ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করা গেল না বলে আমরা দুঃখিত :
১. তবু মনে রেখো
তবু মনে রেখো ” – রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রেমীরা মনে রাখবেনই তাঁকে। তিনি যে ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের একটি অধ্যায়, তাঁর চলে যাওয়ায় যে অধ্যায়ের হল অবসান। বছরের শুরুতেই অর্থাৎ জানুয়ারির ৩ তারিখে প্রয়াত হয়েছিলেন স্বনামধন্য রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী সুমিত্রা সেন। চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রসঙ্গীতে অনন্যা সুমিত্রা সেনের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যের নানা সমস্যায় ভুগছিলেন প্রবীণ শিল্পী। ফুসফুসে সংক্রমণ ছিল। বছরের তৃতীয় দিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন সুমিত্রা সেন। সঙ্গীতশিল্পী সুমিত্রা সেনের প্রয়াণের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়েছিলেন মেয়ে শ্রাবণী সেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া সঙ্গীত জগতে। বর্ষীয়ান এই শিল্পীর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গভীর সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছিলেন, ‘ বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী সুমিত্রা সেনের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে ২০১২ সালে ‘সঙ্গীত মহাসম্মান’ -এ সম্মানিত করে। সুমিত্রা সেনের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তাঁর প্রয়াণে সঙ্গীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হল।’ ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকেই কলকাতার মিন্টো পার্কে এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সুমিত্রা সেন। সেসময় নিউমোনিয়াও ধরা পড়ে তাঁর। এরপরই পরিবারের লোকজন শেষ সময়ে তাঁকে বাড়িতেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সুমিত্রা সেনের আরেক মেয়ে ইন্দ্রাণী সেন জানিয়েছিলেন, বাড়িতে আনার পরে উনি অনেকটা শান্তি পেয়েছিলেন। শেষের দিকে কিডনি ফেল করে যায়। এরপর ৩ জানুয়ারি ভোর ৪টে নাগাদ তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। তখনই থেমে যায় তার হৃদযন্ত্রের স্পন্দন। চলে গেলেন তিনি, রেখে গেলেন তিনি তাঁর গান।।
২. বিদায় ইতালিয়ান স্ট্রাইকার
২০২২ বর্ষশেষে এসে বিদায় নিয়েছিলেন সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফুটবল তারকা পেলে। ২০২২ সালের বছরের শেষের বিদায়ের সুর বাঁশিতে ধরেই যেন এবছর শুরু। ২০২৩ সাল শুরু হতে না হতেই ফুটবল জগতে হয় আরেকটি নক্ষত্রপতন। চলে গেলেন জিয়ানলুকা ভিয়াল্লি। জাতীয় দলের হয়ে ৫৯টি ম্যাচ খেলা প্রাক্তন ইতালিয়ান স্ট্রাইকার ভিয়াল্লি চেলসির প্লেয়ার-ম্যানেজার হওয়ার আগে সাম্পডোরিয়া এবং জুভেন্টাসকে সেরি এ এবং ইউরোপীয়ান ট্রফি জিততে সাহায্য করেছিলেন। আক্রমণ ভাগে যেকোনো জায়গায় তিনি খেলতে পারতেন। ইতালির জাতীয় দলের হয়ে ১৬ টি গোল করার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। ইতালির যুব দলের হয়েও ১১ টি গোল করেছিলেন জিয়ানলুকা ভিয়াল্লি। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলেন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও বেশি সফল হওয়ার সম্পদ ও দক্ষতা ভিয়াল্লির মধ্যে ছিল। ৭-৮ বছরের বেশি সময় দেশের হয়ে খেলেন নি তিনি। সেই সময়ের মধ্যেই তিনি ফুটবলার হিসেবে তাঁর সহজাত দক্ষতা বুঝিয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর সময়কালের অন্যতম ধারাবাহিক ফুটবলারের বয়স হয়েছিল ৫৮।
৩. বিদায় প্রাক্তন রাজ্যপাল
জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখ প্রয়াত হন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠী। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৮ বছর। উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে নিজের শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ বিজেপি নেতা কেশরী নাথ ত্রিপাঠী। পরিবার সূত্রের খবর, ৮ জানুয়ারি ভোর ৫টার দিকে বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বাবার প্রয়াত হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর ছেলে নীরজ ত্রিপাঠী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছিল, গত ৮ ডিসেম্বর নিজের বাড়ির শৌচালয়ে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট লাগে বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। এমনকী তাঁর ডান হাত ভেঙেও যায়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এরপরই ৮ জানুয়ারি ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কেশরীনাথ ত্রিপাঠী।
.৪. প্রয়াত কারগিল মাস্টারমাইন্ড
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখ প্রয়াত হন কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানকে অন্যতম মদতদাতা পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জেনারেল পারভেজ মুশারফ। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ মুশারফ দুবাইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। জেনারেল পারভেজ মুশারফের জীবন বেশ ঘটনাবহুল। তাঁর জন্ম স্বাধীনতার আগে ১৯৪৩ সালের ১১ অগস্ট অবিভক্ত ভারতের দিল্লিতে। পরবর্তী সময় তাঁর পরিবার পাকিস্তানে চলে যায়। করাচির সেন্ট প্যাট্রিকস হাইস্কুলে তাঁর পড়াশোনা শুরু। এরপর লাহোরের ফোরম্যান ক্রিশ্চিয়ান কলেজে উচ্চশিক্ষার পর তিনি যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। পরবর্তী সময় ধাপে ধাপে পদোন্নতি হয়ে তিনি পাক সেনাবাহিনীর প্রধান হয়েছিলেন। এরপর দেশে অভ্যুত্থানের পর পাকিস্তানের শাসনভার নিজের হাতে নেন। ১০৯৯ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। এই সময় যেমন দিল্লি-লাহোর বাস সার্ভিস শুরু হয়। তেমনই কার্গিল যুদ্ধের সময়ও তিনি ছিলেন পাকিস্তানের মাস্টারমাইন্ড। ২০১৯ সালে পারভেজ মুশারফকে দেশদ্রোহিতার অবরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয় পাক আদালত। যদিও পরবর্তী সময় তাঁর মৃত্যুদণ্ড রদ করা হয়েছিল। দুবাইয়ের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন।।
আরও পড়ুন কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা, মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাবে! জানুন রাশিফল
৫. প্রয়াত শিবপুরের প্রাক্তন বিধায়ক
ফেব্রুয়ারি মাসের ১৬ তারিখ প্রয়াত হন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও শিবপুরের প্রাক্তন বিধায়ক জটু লাহিড়ি। নিজের বাসভবনেই মৃত্যু হয় প্রবীণ এই প্রাক্তন বিধায়কের। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন তিনি। পরিবারের তরফে জানা গিয়েছিল, গত বছরই বাথরুমে পড়ে গিয়েছিলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। এর জেরে গুরুতর চোট পেয়ে অনেকদিন ধরেই আইসিইউ-তে ছিলেন জটু লাহিড়ি। তারপর থেকেই শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়েছিল তাঁর। সে সময় জটু লাহিড়ির মাথায় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছিল বলেও জানা যায়। প্রয়াত বিধায়কের স্ত্রী অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। এক মেয়েকেও হারিয়েছিলেন তিনি। জটু লাহিড়ির রাজনীতি জীবন শুরু কংগ্রেস থেকেই। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যা য়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। হাওড়া পুরসভার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপিতা ছিলেন দীর্ঘদিন। এছাড়াও ১৯৯১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে একটানা পাঁচ বারের বিধায়ক ছিলেন। তবে ২০২-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি দলের তরফে কোনও টিকিট পাননি। তাই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ।
৬. বিদায় বলরাম
২০২৩ এর ফেব্রুয়ারি মাসে আরও এক নক্ষত্রকে হারিয়েছে কলকাতা ময়দান। ৮৬ বছর বয়সে প্রয়াত হন তুলসীদাস বলরাম। তিনি ১৯৫৬ সালের অলিম্পিক্স ফুটবলে ঐতিহাসিক ভারতীয় দলের শেষ জীবিত সদস্য ছিলেন। একসময় পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়, চুনী গোস্বামীর সঙ্গে এক নিঃশ্বাসে বলরামের নাম উচ্চারণ হত। দীর্ঘদিন ধরেই বয়সজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টো নাগাদ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে যায় ভারতীয় ফুটবলের এক গৌরবময় ইতিহাস। ১৯৬০ সালের মেলবোর্ন অলিম্পিক্সেও তিনি দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন। এশিয়াডের সোনাজয়ী ভারতীয় দলেও তিনি ছিলেন। পিকে-চুনীর মতো তিনিও ছিলেন কুশলী স্ট্রাইকার যিনি খুব ভালোভাবেই তিনকাঠি চিনতেন। পিকে-চুনীর সঙ্গে জুটি বেঁধে বহু গোলও করেছিলেন বলরাম। প্রিয় ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের হয়ে বহু ট্রফি জিতেছিলেন। ক্লাব জীবনে একটা বড় সময় কাটিয়েছেন লাল-হলুদ জার্সি গায়ে। কিন্তু শেষ জীবনে ক্লাবের প্রতি অভিমান ছিল তুলসীদাস বলরামের। তাঁর মৃত্যু ভারতীয় ফুটবলের স্বর্ণযুগের এক অসামান্য চরিত্র কে হারালেও, তাঁর অবদান ভারতীয় ফুটবলে অবিস্মরণীয় হয়েই থেকে যাবে।
৭. পান্ডব গোয়েন্দা রহস্যযুগের অবসান
একটি যুগের সমাপ্তি। চলতি বছরের মার্চ মাসের ৩ তারিখ প্রয়াত হলেন ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের একটি যুগের অবসান ঘটে। তিনি শিশু ও কিশোর সাহিত্যের জন্যই বিখ্যাত। তবে তাঁর সমধিক খ্যাতি পান্ডব গোয়েন্দার স্রষ্টা হিসেবে। ৮২ বছর বয়সে প্রয়াত হন তিনি। হাওড়ার খুরুটে জন্ম হয়েছিল তাঁর। তাঁর লেখায় হাওড়া শিবপুর অঞ্চলের কথা বারবার ফুটে ওঠে। চলে যান তিনি। পুণ্যতীর্থে ভ্রমণ, কেদারনাথ,হিমালয়ের নয় দেবী সহ একাধিক ভ্রমণকাহিনী তিনি লিখেছেন। তবুও তাঁর রহস্য, ভৌতিক গল্পের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তবুও অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গে মিশে ডিটেকটিভ কাহিনীতে পাঁচ খুদে গোয়েন্দার রহস্য উন্মোচন আলাদা মাত্রা দিয়েছিল বাংলা সাহিত্যে। এক কুকুরকে সঙ্গী করে অসাধ্যসাধন করত খুদেরা। সঙ্গী ছিল এক বুদ্ধিমান কুকুর। বাবলু-বিলু-ভোম্বল-বাচ্চু-বিচ্ছু-পঞ্চুদের আকর্ষণ থেকেছে সর্বকালীন।‘ বেস্ট সেলার থেকেছে পান্ডব গোয়েন্দা।।
৮. রহস্য মৃত্যু সতীশ কৌশিকের?
মার্চের গোড়াতেই, ৯ তারিখ বিনোদন দুনিয়ায় নক্ষত্রপতন ঘটে, প্রয়াত হন বলিউডের বিখ্যাত কৌতুক অভিনেতা সতীশ কৌশিক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৬৭ বছর। অভিনেতা অনুপম খের একটি টুইট করে তাঁর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে আসে বলিউড জগতে। বলিউডের বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি অনেক সিনেমা পরিচালনাও করেছিলেন। ১৯৫৬ সালের ১৩ এপ্রিল হরিয়ানায় জন্মগ্রহণ করেন সতীশ কৌশিক। অসংখ্য বইয়ে অভিনয় করলেও ১৯৯৩ সালে ‘রূপ কি রানি চোরোঁ কা রাজা’ ছবির হাত ধরেই বিনোদন দুনিয়ায় যাত্রা শুরু পরিচালক সতীশ কৌশিকের। এরপর ‘হম আপকে দিল মে রেহতে হ্যায়’, ‘মুঝে কুছ কেহনা হ্যায়’-এর মতো ছবি পরিচালনা করেন তিনি। প্রাথমিকভাবে জানা যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু প্রয়াত অভিনেতার মৃত্যুর পরে সতীশ কৌশিকের মৃত্যু স্বাভাবিক কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
৯. ঐতিহাসিকের নাম রনজিৎ গুহ
২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল প্রয়াত হলেন ভারতের এক অসামান্য রত্ন রনজিৎ। গুহ – ইতিহাসবিদ হিসেবে যার কাজ আকাশ ছুঁয়েছিল। প্রায় একশ বছর বয়সে তিনি তিনি অস্ট্রিয়াতে প্রয়াত হন। জন্মেছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের এবং বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত বরিশালে। ছিলেন প্রেসিডেন্সির ইতিহাস বিভাগের ছাত্র। জড়িয়েছিলেন বাম রাজনীতিতে। তাঁর রচিত Elementary Aspects of Peasant Insurgency in Colonial India গ্রন্থটি ব্যাপকভাবে ধ্রুব হিসাবে বিবেচিত।বিখ্যাত নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, তিনি হলেন “বিশ শতকের সবচেয়ে সৃজনশীল ভারতীয় ঐতিহাসিক। প্রাচীন জনগোষ্ঠী নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ, এ রুল অফ প্রপার্টি’ (১৯৬৩), প্রকৃতপক্ষে তাঁর লেখা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সূত্রপাত (১৯৫৭) নামক বাংলা প্রবন্ধের খসড়া থেকেই পরবর্তীকালে জন্মলাভ করে।
১০. কালবেলার শেষ অধ্যায়
৮১ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। উত্তরবঙ্গ থেকে উঠে আসা লেখক হিসাবে তাঁর প্রধান প্রসিদ্ধি উত্তরাধিকার কালবেলা কালপুরষ গ্রন্থে। তাঁর কিশোর অ্যাডভেঞ্চারের নায়ক অর্জুন যথেষ্ট জনপ্ৰিয়। তিনি ১৯৮২ সালে আনন্দ পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক বঙ্গবিভূষণ সহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এবছর মে মাসের ৮ তারিখে প্রয়াত হন তিনি।
১১. শকুনি মামার প্রয়াণ
মহাভারতের চরিত্র শকুনি মামার বিদায়,নক্ষত্রপতন ভারতীয় অভিনয় জগতে। গুফি পেন্টাল যাঁর প্রকৃত নাম সরবজিত সিং পেন্টাল। আর যিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে হয়ে উঠেছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে একটি অধ্যায়, তিনি প্রয়াত হলেন। গুফি পেন্টালের প্রয়াণে অবসান হল একটি অধ্যায়ের। মৃত্যুকালে গুফি পেন্টালের বয়স হয়েছিল ৭৯। প্রাথমিকভাবে একজন ইঞ্জিনিয়ার হলেও ১৯৬৯ সালে চলচ্চিত্র নগরী মুম্বাইয়ে এসে মডেলিং দিয়ে পথ চলা শুরু করেন। গুফি পেন্টালের চলচ্চিত্র জগতে ৫৪ বছরের পথ চলা শেষ হয় গত জুন মাসে। বি আর চোপড়ার মহাভারতে শকুনি চরিত্রে অভিনয় করে যার মাধ্যমে ভারত জোড়া খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন গুফি পেন্টাল। গুফি পেন্টাল মহাভারতে শকুনি চরিত্রের সাথে এতটাই মিশে গিয়েছিলেন যে শকুনি মামার কথা বললেই আমজনতার মনে পড়ে যেত গুফি পেন্টালের কথা।।
১২. তারার দেশে অভিনেত্রী-মন্ত্রী
জুন মাসে না ফেরার দেশে চলে গেলেন গ্লেন্ডা জ্যাকসন। দুবার একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী অভিনয়শিল্পী, যিনি মঞ্চ ও পর্দায় প্রশংসিত হয়েছেন বারবার আর যার দ্বিতীয় ইনিংস ছিল রাজনীতি সেই গ্লেন্ডা জ্যাকসন ৮৭ বছর বয়সে প্রয়াত হন। তবে অভিনয় থেকে দূরে সরে থাকেন নি তিনি। গ্লেন্ডা জ্যাকসনের এজেন্ট লিওনেল লার্নার জানিয়েছিলেন, জ্যাকসন লন্ডনে নিজের বাসভবনে স্বল্প অসুস্থতার পর মারা যান। লার্নার জানিয়েছেন যে, তিনি দ্য গ্রেট এস্কেপারের কাজ শেষ করেছেন, যেখানে তিনি মাইকেল কেন সহ অভিনেতা ছিলেন। গ্লেন্ডা জ্যাকসন ১৯৩৬ সালে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের বিরখেনহেডে জন্মগ্রহণ করেন। জ্যাকসন লন্ডনের রয়্যাল একাডেমি অফ ড্রামাটিক আর্টে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৬০ এবং ৭০ এর দশকের সবচেয়ে বড় ব্রিটিশ তারকাদের একজন হয়ে ওঠেন এবং ১৯৭১ সালে ওমেন ইন লাভের জন্য এবং ১৯৭৪ সালে এ টাচ অফ ক্লাসের জন্য দুটি একাডেমি পুরস্কার জিতেছিলেন।দুবার অস্কার জয় করলেও তিনি খালি অভিনয় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন নি। এরপর গ্লেন্ডা জ্যাকসন রাজনীতিতে ঢুকে পড়েন , ১৯৯২ সালে সংসদে নির্বাচনে জয়ী হন। তিনি লেবার পার্টির একজন আইন প্রণেতা হিসেবে ২৩ বছর অতিবাহিত করেন, ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের প্রথম সরকারে পরিবহন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৩. প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী
কিছুদিন বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগে আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে না ফেরার চলে যান প্রবাদপ্রতিম পরমাণু পদার্থ বিজ্ঞানী বিকাশ সিংহ। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়াত হন তিনি। মৃত্যুকালে বিকাশ সিংহের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। বিকাশ সিংহ চলে গেলেন, থেকে গেল তার বিজ্ঞান ভাবনা , থেকে গেল বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য তার কর্মকাণ্ড।পরমাণু গবেষণায় পরমাণু গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বিকাশ সিংহ। কান্দি রাজ পরিবারের সন্তান বিকাশ সিংহ রাজনীতির জগতের সঙ্গে যুক্ত পরিবারের ছেলে। তাঁর বাবা বিমল চন্দ্র সিংহ ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী। এহেন পরিবারের সন্তান বিজ্ঞান ছাড়া কোনোদিন কিছু ভাবেন নি। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তিনি পড়াশোনা করেছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যান তিনি। মুম্বইয়ে ভাবা অ্যাটোমিক রিসার্চ সেন্টারে দুর্গাপুরের ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনলজির সঙ্গে তাঁর কর্মসূত্রে যোগ ছিল। কলকাতায় ‘ভেরিয়েবল এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টারের ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তাঁর লেখা একাধিক গ্রন্থ রয়েছে। ২৭ জানুয়ারী ২০০৫ বিকাশ সিংহ এক বিরাট দায়িত্বভার পান। সেদিন থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসাবে মনোনীত হন। তিনি ২০০৯ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসাবে দ্বিতীয়বারের জন্য পুনর্নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে পদ্মভূষণ সম্মান পাওয়া বিকাশ সিংহের প্রয়াণ বিজ্ঞান জগতে এনে দেয় এক অপূরণীয় শূন্যতা।
১৪. নেই শৌচাগার আন্দোলনের জনক
ভারত জুড়ে সুলভ শৌচাগরের নেপথ্যে থাকা এক বিরাট সামাজিক কর্মকাণ্ডের কান্ডারী বিন্দেশ্বর পাঠক আর নেই। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থে এক সামাজিক বিপ্লবের জনক। সুলভ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা বিন্দেশ্বর পাঠক স্বাধীনতা দিবসের দিন,৮০ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন। হৃদরোগের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। বিন্দেশ্বর পাঠক যে কর্মকাণ্ড ভারত জুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার সুফল আধুনিক ভারত উপলব্ধি করতে পারে মর্মে মর্মে। মেথর বলে যাদের দূরে সরিয়ে রাখা হত তাদের স্বীকৃতি ও উন্নয়নের নেপথ্যে ছিলেন তিনি। পাবলিক টয়লেট নির্মাণে অগ্রগামী ছিলেন বিন্দেশ্বর পাঠক সুলভ ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠা করেন যা কিনা একটি সমাজসেবা সংস্থা, শিক্ষার মাধ্যমে মানবাধিকার, পরিবেশগত স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংস্কারের জন্য কাজ করে। সুলভ কেবল মাত্র একটি সংস্থা নয়, একটি সামাজিক উন্নয়নের নাম হয়ে উঠেছে। সুলভ যার নেপথ্যে ছিলেন যে মানুষটি, তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন দেশবাসীর স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ফাঁকে।
১৫. থেমে গেল মহাকাশযাত্রার লাস্ট কাউন্টডাউন
সেপ্টেম্বরের শুরুতেই দেশ হারাল এক বিজ্ঞানী,চলে গেলেন এন ভালরমাথি। যেকোনও মহাকাশযানের উৎক্ষেপনের লাস্ট কাউন্টডাউন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসরো (ISRO)-র চন্দ্রযান -৩ উৎক্ষেপনকালে লাস্ট কাউন্টডাউনও ঠিক ততটাই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সেদিন যাঁর কণ্ঠস্বর ভেসে এসেছিল তিনি আচমকাই প্রয়াত হলেন। চলে গেলেন মহাকাশ বিজ্ঞানী এন ভালরমাথি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪।হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন এন ভালরমাথি।
ইসরো-র সাথে নাড়ির যোগ তাঁর। ১৯৮৪ সালে ভালরমাথি যোগ দিয়েছিলেন ইসরোতে। ২০১৫ সালে তামিলনাড়ু সরকার তাঁকে আবদুল কালাম পুরস্কারে ভূষিত করেছিল। রিস্যাট ১ প্রকল্পের ডিরেক্টরও ছিলেন ভালরমাথি। ২০১২ সালে সেই স্যাটেলাইটটিকে সাফল্যের সঙ্গে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। এটা দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম রেডার ইমেজিং স্যাটেলাইট ছিল। তাছাড়াও ইনস্যাট ২এ, আইআরএস আইসি, আইআরএস আইডি, টিইএস সহ একাধিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।ইসরো-র সঙ্গে ৩৯ বছরের যোগসূত্র ছিন্ন হল তাঁর মৃত্যুতে।
১৬. লেকিন দেতা কোই নেহি
চলে গেলেন আমির খানের সুপার হিট মুভি ” থ্রি ইডিয়টস ” চলচ্চিত্রের অন্যতম অভিনেতা অখিল মিশ্র। রোগভোগ নয়, অসময়ে আচমকা চলে গেলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।অখিল মিশ্র, আমির খানের ‘ থ্রি ইডিয়টস‘-এ লাইব্রেরিয়ান দুবের ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য পরিচিত। ২১ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল। অভিনেতা তাঁর স্ত্রী এবং অভিনেত্রী সুজান বার্নার্টকে রেখে গেছেন। হায়দরাবাদে একটি প্রকল্পের শুটিং করছিলেন ৬৭বছর বয়সী অভিনেতা। সেখানে রান্নাঘরে পিছলে পড়ে মৃত্যু হয় তার। অখিল মিশ্র বছরের পর বছর ধরে বলিউডে অভিনেতা হিসেবে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।অখিল মিশ্র ‘ডন’, ‘গান্ধী মাই ফাদার’, ‘শিখর’ এবং আরও অনেক কিছুতে অভিনয় করেছেন। ‘ থ্রি ইডিয়টস ‘-এর গ্রন্থাগারিক দুবের ভূমিকায় তাঁর ভূমিকা ব্যাপকভাবে দর্শকদের প্রিয় ছিল। আমির খানের মুভিটিতে,একটি সমাবর্তন উৎসবে ভুল অনুবাদে পাঠ হওয়া ভাষ্য দর্শকদের মধ্যে তুমুল হাস্যরোল ফেলেছিল যে দৃশ্যে কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন অখিল মিশ্র। চলচ্চিত্র ছাড়াও, অখিল ‘উত্তরণ’, ‘উদান’, ‘সিআইডি’, ‘শ্রীমান শ্রীমতি’, ‘হাতিম’ এবং অন্যান্যের মতো বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় টেলিভিশন শো তাঁর অভিনয় সমৃদ্ধ।।
১৭. ঘুমের দেশে সবুজ বিপ্লবের জনক
দেশ সেপ্টেম্বর মাসেই হারিয়েছে তার এক কৃতি সন্তানকে। ভারতের সবুজ বিপ্লবের জনক এম এস স্বামীনাথন না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন। ভারতের কৃষিবিজ্ঞানকে নতুন পথ দেখাতে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে বিংশ শতকের প্রথম দশক পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে ভারতের কৃষিবিজ্ঞানে যুগান্তকারী বিপ্লব এনেছিলেন তিনি। ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি প্রয়াত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। এম এস স্বামীনাথন উচ্চ-ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে ভূমিকা রেখেছিলেন যা ভারতের নিম্ন আয়ের কৃষকদের আরও বেশি ফলন নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছিল। তিনি ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (১৯৬১-৭২), আইসিএআর (ICAR)- এর মহাপরিচালক এবং ভারত সরকারের কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা বিভাগের সচিব (১৯৭২-৭৯), কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রধান সচিব (১৯৭৯-৮০) নিযুক্ত হন। প্ল্যানিং কমিশনের কৃষি ও বিজ্ঞানের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং পরে সদস্য (১৯৮০-৮২) এবং, ফিলিপাইন্সের আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (১৯৮২-৮৮)-এর ডিরেক্টর জেনারেল। ২০০৪ সালে, স্বামীনাথনকে কৃষকদের জাতীয় কমিশনের চেয়ারম্যান হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল,সে সময় কৃষকদের উদ্বেগজনক আত্মহত্যার ঘটনার ক্ষেত্রে তাদের দুর্দশা দেখার জন্য একটি কমিশন গঠনও করা হয়েছিল।কমিশন ২০০৬ সালে তার রিপোর্ট পেশ করে এবং সুপারিশ করে যে, ন্যূনতম বিক্রয় মূল্য (MSP) উৎপাদনের ওজনযুক্ত গড় খরচের চেয়ে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ বেশি হওয়া উচিত। ১৯৮৭ সালে প্রথম বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারে ভূষিত হন যার পরে তিনি চেন্নাইয়ের তারামণিতে এমএস স্বামীনাথন রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এমএসএসআরএফ) স্থাপন করেন।স্বামীনাথন পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ এবং পদ্মবিভূষণে ভূষিত হয়েছেন।তিনি এইচ কে ফিরোদিয়া পুরষ্কার, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী জাতীয় পুরস্কার এবং ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারের প্রাপক, রেমন ম্যাগসেসই পুরস্কার (১৯৭১) এবং আলবার্ট আইনস্টাইন বিশ্ব বিজ্ঞান পুরস্কার (১৯৮৬) সহ বেশ কয়েকটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন।।
১৮. গুডবাই দ্যা ওয়াইল্ড আইরিশ
২০২০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। নোবেল প্রাপ্তির তিন বছর পরে বিখ্যাত নোবেল বিজয়ী কবি লুইস গ্লাক প্রয়াত হলেন এ বছরের ১৩ অক্টোবর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। উল্লেখ্য, আমেরিকান লুইস গ্লাক ১৬ তম মহিলা সাহিত্যিক হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। নোবেল পুরস্কার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সুইডিশ একাডেমি, একটি স্বতন্ত্র এবং কঠোর সৌন্দর্য ব্যবহার করে পরিবার এবং শৈশবের অসংরক্ষিত পরীক্ষার জন্য লুইস গ্লাকের কবিতার প্রশংসা করেছে। তাঁর কবিতাগুলি সাধারণত আকারে সংক্ষিপ্ত ছিল, প্রায়শই এক পৃষ্ঠার চেয়েও কম বিস্তৃত ছিল। নিউইয়র্কের বাসিন্দা ছিলেন কবি।অন্যান্য লেখকদের সাথে সমান্তরাল ভাবে তাঁকে তুলে ধরে বোঝাতে ও তাঁর কবিতা শৈলী আঁকতে, একাডেমি উল্লেখ করেছে যে,লুইস গ্লাকের সঙ্গে ১৯ শতকের আমেরিকান কবি এমিলি ডিকিনসনের “বিশ্বাসের সাধারণ নীতি গ্রহণের তীব্রতা এবং অনিচ্ছায়” মিল পাওয়া যায়। তাঁর জীবদ্দশায়, লুইস গ্লাক অসংখ্য প্রবন্ধের সংকলন রচনা করা ছাড়াও মোট ১২টি কবিতা সংকলন রচনা করেছিলেন।
১৯. তারার দেশে হাংরি আন্দোলনের মুখ
এবছর ২৬ অক্টোবর হাংরি জেনারেশন সাহিত্য আন্দোলনের অন্যতম প্রবক্তা তথা প্রবল বিতর্কিত কবি মলয় রায়চৌধুরী প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। কবির পুত্র তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে লেখেন, ‘গভীর শোক এবং অপরিসীম দুঃখের সাথে আমি জানাচ্ছি যে আমার বাবা, মলয় রায়চৌধুরী আজ সকালে মারা গিয়েছেন। তাঁর স্মৃতির আশীর্বাদ হোক এবং তাঁর আত্মা সদগতি লাভ করুক,” । ১৯৬৫ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০(বি), ২৯২ এবং ২৯৪ ধারায় যে ১১ জন কবির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল এবং যে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মলয় রায়চৌধুরী। বাকি সবাই পরবর্তীতে ছাড়া পেয়ে গেলেও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও সাহিত্য রচনায় অশ্লীলতার দায়ে ১৯৬৭ পর্যন্ত জেলে বন্দি ছিলেন মলয় রায়চৌধুরী। ৭০টিরও বেশি বইয়ের লেখক, মলয় রায় চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের ছাতনায় বনেদি সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যে পরিবারের সঙ্গে বাঙালির বহু ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে।তার বাবা, ছিলেন একজন চিত্রগ্রাহক এবং তার মা অমিতা রায় চৌধুরীর রক্তে ছিল উনবিংশ শতকের বাঙালি নবজাগরণের রূপকার অন্যতম প্রগতিশীল একটি পরিবারের ঐতিহ্য। ১৯৫৯-৬০ সালে ইতিহাসের দর্শন এবং মার্ক্সবাদের উত্তরাধিকার লেখা নিয়ে কাজ করার সময় হাংরি আন্দোলনের প্রয়োজন মলয় রায়চৌধুরী অনুভব করেন। ষাটের দশকে শুরু হয় আন্দোলন, যা প্রবলভাবে বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতিকে নাড়া দিয়েছিল। সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, উৎপলকুমার বসু, সুবিমল বসাক, ত্রিদিব মিত্র, ফালগুনী রায়, আলো মিত্র, রবীন্দ্র গুহ, সুভাষ ঘোষ, প্রদীপ চৌধুরী, সুবো আচার্য, অরুপরতন বসু, বাসুদেব দাশগুপ্ত, সতীন্দ্র ভৌমিক, শৈলেশ্বর ঘোষ এই আন্দোলনে মিশে ছিলেন। শক্তি চট্টোপাধ্যায় এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে এই আন্দোলন থেকে তিনি বেরিয়ে যান, আন্দোলনের অভিমুখ তার পছন্দ না হওয়ায়। পরবর্তীতে এই আন্দোলনের কবিরা এমন সব কবিতা লিখতে থাকেন যেখানে যৌনতার বর্ণনা এমনভাবে উঠে আসে যা বাংলা সাহিত্যে আগে হয়নি। অথচ সাহিত্যে মনের ভাব প্রকাশের ক্ষুধা, যথার্থ শব্দ প্রয়োগের ক্ষুধা, সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা আর অবদমিত বাসনা পূরণের ক্ষুধা থেকে এই আন্দোলন তৈরি হয়েছিল। লেখায় মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংবাদিক, প্রথাগত সাহিত্যকে আক্রমণ করা হয়েছিল।
২০. বিদায় বাঁকুড়ার প্রাক্তন সাংসদ
নভেম্বর মাসে প্রয়াত হয়েছেন বাঁকুড়ার প্রাক্তন সাংসদ সিপিএম নেতা বাসুদেব আচারিয়া। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বাসুদেব বাবু বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। হায়দ্রাবাদের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাও চলচিল সিপিএম নেতার। আজীবন কমিউনিস্ট, সাংসদ, রেলওয়ে স্ট্যাণ্ডিং কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমরেড বাসুদেব আচারিয়া লোকসভায় সিপিআইএম’র দলনেতা হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আচারিয়া সিপিআইএম’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৪ সালে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় লোকসভার অধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ার পর বাসুদেব আচারিয়াকে লোকসভার দলনেতা নির্বাচিত করা হয় দলের পক্ষ থেকে। বাঁকুড়ার ন’বারের সাংসদ বাসুদেব আচারিয়া বাঁকুড়ার মানুষের উন্নয়নের জন্য একাধিক কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে নির্বাচনে লড়াই না করলেও দলের হয়ে প্রচার করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে থাকলেও সিপিএমের এই বর্ষীয়ান প্রাক্তন সাংসদ ছাপ রেখে গিয়েছেন সংসদীয় গণতন্ত্রে।
২১. বাইবাই এলটেল
নভেম্বরের শেষে এসে ।বিশ্ব ফুটবল হারাল ইংল্যান্ড ও বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব টেরি ভেনাব্লেসকে। যিনি ফুটবলে ৪-৪-২ প্রথার সফল প্রয়োগের জন্য বিখ্যাত থেকে যাবেন। চেলসি ও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রাক্তন খেলোয়াড় এবং পরবর্তীতে ইংল্যান্ড ও বার্সেলোনার ম্যানেজার দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। টেরি ভেনাব্লেস ছিলেন ফুটবলের এমন একটি অধ্যায় যাকে তাঁর উদ্ভাবনী চিন্তার জন্য ফুটবল দুনিয়া মনে রাখবে। ফুটবল ঘিরে ভেনাব্লেসের ক্যারিশমা, তার উদ্ভাবন, তার নেতৃত্বের জন্য অবশ্যই ইংল্যান্ডে ও গোটা বিশ্ব মাঠে এবং বাইরে তার সাফল্য ও ব্যক্তিত্বের জন্য স্মরণ করবে এবং স্বাভাবিকভাবেই সমস্ত ফুটবল বিশ্ব থেকে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। কারণ তাঁর ফুটবলার এবং ম্যানেজার হিসেবে সাফল্যের গ্রাফ বেশ উঁচুতে থেকেছে বরাবরই।
টেরি ভেনাব্লেস ১৯৪৩ সালে এসেক্সে জন্মেছিলেন। কিশোর বয়সেই চেলসিতে যোগ দিয়েছিলেন, তিনি যখন চেলসিতে সই করেন তখন তার বয়স মাত্র ১৫। মাঝমাঠের দক্ষ ফুটবলার হিসেবে চেলসি সিনিয়র দলে ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন ভেনাব্লেস। চেলসির হয়ে ২০২খানি ম্যাচ খেলে ২৬ টি গোল করেছিলেন টেরি ভেনাব্লেস। টটেনহামের হয়েও ফুটবল জীবনের বেশ কিছুটা সময় কাটান তিনি।ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে সেভাবে সুযোগ পাননি তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। তবে টেরি ভেনাব্লেস বিখ্যাত থেকে যাবেন তাঁর ম্যানেজার হিসেবে অসামান্য দক্ষতার জন্য। ম্যানেজার হিসেবে বার্সার ওপরে প্রভাব ছিল অসামান্য। তাঁর ব্যক্তিত্বের জন্য “এল টেল ” নাম অর্জন করা বার্সা-র ম্যানেজার ভেনাব্লেস ১৯৮৪ সালে স্প্যানিশ ক্লাবটিতে বেশ কিছু চমক আনেন।
২২. কিসিঞ্জার বিতর্ক থেকে যাবে
নভেম্বর মাসের ২৯ তারিখ ১০০ বছর বয়সে মার্কিন কূটনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জারের জীবনাবসান হয়েছে। হেনরি কিসিঞ্জার বারবার বিতর্ক জন্ম দিয়েছেন ভারত ও ভারতীয় উপমহাদেশে। সত্তরের দশক থেকে হেনরি কিসিঞ্জারকে ভারতের কূটনীতির ইতিহাসে এক বিতর্কিত ও ঘৃণ্য ব্যক্তিত্ব বলে ধরা হলেও মোদীর প্রধানমন্ত্রীত্বর আমলে এসে তিনি মোদীর চোখে রাতারাতি মহান হয়ে ওঠায় নতুন বিতর্ক দানা বাঁধে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে স্বাধীন করার সহযোগিতা দিতে চাওয়া ভারত ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সময় সরাসরি সংঘাত বাঁধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খোলাখুলি পাকিস্তানকে সমর্থন জানালেও কৌশলী ও বাগ্মী ইন্দিরা গান্ধীর ব্যক্তিত্ব, কূটনৈতিক কুশলতা, বাকনৈপুন্যের কাছে থেমে যেতে হয় নিক্সন – কিসিঞ্জারকে। বিতর্কিত নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী হেনরি কিসিঞ্জারকে “সুপার সেক্রেটারি অফ স্টেট” হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল। কিসিঞ্জার ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন এবং জেরাল্ড ফোর্ডের অধীনে বিশ্বব্যাপী নীতিকে রূপ দিয়েছিলেন। স্নায়ুযুদ্ধের সময় ভারতীয়দের এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে বিচ্ছিন্ন করতে তৎপর ছিলেন। তবে ইন্দিরা গান্ধীকে দমিয়ে রাখতে পারেননি নিক্সন-কিসিঞ্জার। শেষ বয়সে এসে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভক্ত হয়ে ওঠেন বলে জানা যায়। তাঁর সম্পর্কে মোদীকেও বেশ চমৎকার কিছু বিশেষণ ব্যবহার করতে দেখা যায়। তবে কিসিঞ্জার চিরকালই ছিলেন বিতর্কিত। উল্লেখ্য,ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসানে প্যারিস শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, চিলিতে নির্বাচিত সরকারের পতন বা কম্বোডিয়ার ওপরে হামলায় তাঁর ভূমিকা সামনে এসেছিল। একথাও প্রকাশ পায় পাকিস্তানকে সমর্থন করতে চিনকে উৎসাহিত করতে তিনি চিন সফরও করেছিলেন। চিন ও পাক -ভারত যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয় নি, অন্যদিকে বাংলাদেশও স্বাধীন হয়ে যায়।
২৩. এক যে ছিল রাজা
সত্যজিৎ রায়ের গুপী বাঘা সিরিজের প্রধান মুখ গুপী বাঘা – রবি তপেন জুটি আগেই ইহলোকের মায়া কাটিয়েছেন। তিন যুগ হতে চলল -নেই আরেক মহারাজা সত্যজিৎ রায়। এই তিনজন ছাড়া গুপী বাঘাকে নিয়ে সিনেমা বলতে মানুষ সৌমিত্র – উৎপল দত্ত বা সন্তোষ দত্তের চেয়েও বেশি বুঝত যে মানুষটিকে তাঁর নাম অনুপ ঘোষাল। ‘এসে হীরক দেশে, তোরা যুদ্ধ করে করবি কি তা বল’- এই গান গুলি সত্যজিৎ রায় অনুপ ঘোষালের কথা ভেবেই বেঁধেছিলেন। ৭৮ বছর বয়সে মানুষটি মহাপ্রস্থানের পথে পাড়ি দিলেন। রেখে গেলেন তাঁর মহারাজা তোমারে সেলাম,আহা কী আনন্দ বা দ্যাখো রে গানের মত গুপী বাঘার অমর গান, বেশ কিছু চলচ্চিত্রের বা বাংলা আধুনিক ও পুরাতনী গান এবং অবশ্যই নজরুলগীতি। রেখে গেলেন তার সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা – তিনি যে বৃত্তে একেবারেই সাবলীল হয়ে ওঠেননি। তাঁর সংগীতময় সফরের অবসান হলেও তিনি যেন রাজা ছিলেন, রাজার মতই ছিলেন। তাঁর জন্যই যেন তাঁর নিজের গাওয়া গান – ” এক যে ছিল রাজা রাজার ভারী দুখ “
আরও পড়ুন বেপরোয়া গতির জের, বিড়লা মন্দিরের সামনে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা
এই ২৩ জন মানুষের পাশাপাশি আমরা হারিয়েছি অসংখ্য আরও মানুষকে যারা ছিলেন খ্যাতির অরিন্দে, যারা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে ছিলেন অন্যতম সেরা। সেই অগণিত অসংখ্য নাম উল্লেখ না করতে পারলেও আমরা ২০২৪ সালে পদার্পণের সময় – সময় কলকাতায় একাধিকবার যার আশীর্বাদ ও ছবি ভেসে উঠেছে সেই সর্বজনশ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অমল মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শোক মিশ্রিত শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে আমাদের স্মরণিকার ডালা আমরা শেষ করছি।।


More Stories
দিল্লির রাজস্থান বধ
হাতির হামলায় যুবকের মৃত্যু
গোঘাটে তৃণমূল নেতা খু*ন