সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ জানুয়ারি: নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। মঙ্গলবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার যাবতীয় রিপোর্ট হাইকোর্টে পেশ করল ইডি। এখনও পর্যন্ত মোট কত সম্পত্তির হদিশ মিলেছে, তা এদিনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই মামলার সূত্র ধরে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে, তাঁদের একে একে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেই দাবি ইডির। ইডি রিপোর্ট পেশ করে জানিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার সাড়ে সাত কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া আটটি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। এগুলি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে ইডি।
আরও পড়ুন আরব সাগরে ঘনীভূত হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, ফের হাওয়া বদলের পূর্বাভাস
অন্যদিকে, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। বর্তমানে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর কন্ঠস্বরের নমুনা বা ভয়েস স্যাম্পল পেতে রীতিমতো হয়রান হতে হচ্ছে ইডি-কে। এমনকী এসএসকেএম-এ গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছে। এ কথা জেনে বিচারপতি এদিন নির্দেশ দিয়েছেন, ইডি-কে একটা টিম তৈরি করতে হবে, যেখানে একজন চিকিৎসক থাকবেন, যিনি ভয়েস টেস্ট করতে পারেন। অনলাইনেও কথা বলতে পারবেন। ইডি-র জয়েন্ট ডিরেক্টরকেও থাকতে হবে সেই টিমে। আগামী বৃহস্পতিবার ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছেন, ইএসআই-এর কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে যে, কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার জন্য কতদিন সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য, গ্রেফতার হওয়ার কিছুদিন পরই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর হার্ট অপারেশনও করা হয়। এরপর জেলে নিয়ে যাওয়া হলে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তারপর থেকে এসএসকেএম-এই রয়েছেন সুজয়কৃষ্ণ। এদিকে, প্রমাণ হিসেবে পাওয়া একটি কন্ঠস্বর ‘কাকু’র কি না, তা জানতে মরিয়া ইডি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার হিসেবরক্ষক চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁদের কাছে সংস্থার কম্পিউটারে ১৬টি নতুন ফাইল চলে এসেছিল। এই ফাইলগুলি তাঁদের কাছে নতুন। গভীর রাতে ওই ফাইলগুলি ডাউনলোড হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ২২ আগস্ট রাত ১২টার থেকে ১২ টা ১১ মিনিটের মধ্যে ওই ফাইলগুলি ডাউনলোড করা হয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীর। তিনটি ডেস্কটপ ইডি খতিয়ে দেখেছে এবং একটি ডেস্কটপের হার্ডডিস্ক বাজেয়াপ্ত করেছিল। এমনকী সংস্থার কর্মীদের প্রোফেশনাল ট্যাক্স সংক্রান্ত নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। এছাড়াও আলিপুর এবং বিষ্ণুপুরে নথিভুক্ত হওয়া বেশ কিছু জমির দলিল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর পদে ছিলেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত কালীঘাটের কাকু। তাঁরই সংস্থা এসডি কনসালটেন্সি। ইডির চার্জশিটে আগেই বলা হয়েছে, বিভিন্ন দফায় এসডি কনসালটেন্সির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস-এর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত মোট ৯৫ লাখ ১ হাজার টাকা সেই অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে বলেই সূত্রের খবর।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের