Home » সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল মানিক ভট্টাচার্যের জামিন মামলার শুনানি

সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল মানিক ভট্টাচার্যের জামিন মামলার শুনানি

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ জানুয়ারিঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। সুপ্রিম কোর্টে ফের পিছিয়ে গেল  প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের জামিন মামলার শুনানি। দু’সপ্তাহ পর ফের এই মামলার শুনানি হবে বলেই জানা গিয়েছে। এদিন মানিক ভট্টাচার্যের আইনজীবী জানান, মানিকবাবু দীর্ঘদিন ধরে জেলে পরে থাকলেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে না। ফলত তাঁকে জামিন দেওয়া হোক। যদিও এর বিরোধিতা করেন ইডির আইনজীবী জানান, শীর্ষ আদালতে তাঁদের কিছু হলফনামা জমা দেওয়ার আছে।

আরও পড়ুন  ফের ইডির তলব এড়িয়ে গেলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রাথমিক শিক্ষা পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছিলেন ইডি। দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর এর আগেও জামিনের আরজি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মানিক। তবে, এই তদন্ত শেষ করার জন্য ডিসেম্বরের মধ্যে সময় বেঁধে দিয়েছিল আদালত। কেননা বিচারাধীন অবস্থায় জামিন মঞ্জুর হলে তার প্রভাব তদন্তের ওপর পড়তে পারে বলেই মনে করছে আদালত। কার্যত সেই কারণেই এদিন মানিক ভট্টাচার্যের জামিন মামলার শুনানি পিছিয়ে যায়। প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই তদন্তে নেমে মানিকের বিপুল সম্পত্তির হদিশ পান ইডি। এরপরই নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ায় মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্য এবং ছেলে শৌভিক ভট্টাচার্যের। এরপর ২০২৩-এর ২২ ফেব্রুয়ারি ব্যাঙ্কশাল আদালতে আত্মসমপর্ণও করেন মানিকের স্ত্রী ও পুত্র।

 

জানা গিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে ২০বার বিদেশ সফরে গিয়েছে মানিক ভট্টাচার্যের পরিবার। বিদেশ সফরের তালিকায় ফ্রান্স, নাইজেরিয়া, মালদ্বীপ, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনামের মতো একাধিক দেশ রয়েছে। প্রতিটি সফরে খরচ হয়েছে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। নিয়োগ দুর্নীতির টাকাতেই কি বিদেশ সফর? সেসব কিছু জানতেই তদন্ত শুরু করে ইডি-র আধিকারিকরা। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, শৌভিক ভট্টাচার্য বেশ কয়েকবার লন্ডন যাত্রা করেছেন। কিন্তু,২০১৭ সালের মে এবং জুলাই মাসে দু’বার লন্ডন যাত্রা করলেও সেই তথ্য সম্পূর্ণ গোপন করে গিয়েছেন তিনি। যা পরবর্তীতে ইডি-র তদন্তে উঠে আসে। অন্যদিকে, মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়েছিল ইডি-র তরফে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মানিক ভট্টাচার্যের সঙ্গেই জড়িত ছিলেন তাঁর স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্য। নিয়োগ দুর্নীতির একাধিক তথ্য মানিকের স্ত্রীর কাছে রয়েছে।

About Post Author