Home » অভিনেত্রী হ্যালি বেরি মেনোপজের সময় যৌনতা নিয়ে বিভ্রান্তি কাটিয়ে ওঠার পথের পেয়েছেন সন্ধান

অভিনেত্রী হ্যালি বেরি মেনোপজের সময় যৌনতা নিয়ে বিভ্রান্তি কাটিয়ে ওঠার পথের পেয়েছেন সন্ধান

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ ফেব্রুয়ারি : রজঃস্রাব বা মাসিক ঋতুচক্র শুরু হওয়ার পরে একজন নারী স্বাভাবিকভাবেই জেনে যান একদিন না একদিন তাঁর ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে যাবে। এতসব জানা সত্ত্বেও ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে  অনেকক্ষেত্রেই নারীজীবনে বিপত্তি নেমে আসে কারণ তাদের দীর্ঘ যৌন জীবন এসময় এলোমেলো হয়ে যায় । আর এরকম যে হয় এবং বিভ্রান্তি এনে দেয়  তা খোলসা করেছেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসাবে ২০০২ সালে অস্কার বিজয়ী হ্যালি বেরি। আর তা তিনি কিভাবে কাটিয়ে উঠেছেন তাও জানাতে ভোলেন নি হ্যালি বেরি ।

১৯৬৬ সালে জন্ম মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী যিনি অতীত দিনের মডেল এবং বিউটি কুইন। ৫৮ বছর বয়সে এসে ঋতুচক্র বন্ধ হওয়া বা মেনোপজ নিয়ে তাঁর উপলব্ধি তিনি খোলসা করেছেন। নিউ ইয়র্ক সিটিতে সিক উইমেন্স হেলথের সিইও ফাহতি খোশরাসাহির সঙ্গে আলাপচারিতায় বিষয়টিকে বিশদে জানিয়েছেন। তিনি এও জানিয়েছেন, তিনি তিনবার বিবাহ বিচ্ছেদ করার পরে প্রকৃত জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছিলেন। অথচ মেনোপজ বিষয়টি বেডরুমে আমার যৌন জীবনে অন্যবার্তা বয়ে নিয়ে আসে। তিনি জানিয়েছেন, ঋতুচক্র বন্ধ হওয়ার পরে তিনি যৌনতার জন্য আগ্রহী হয়ে সহবাস করতে চাইলেও তাঁর মনে হতে থাকে তাঁর কোথাও না কোথাও কিছু অসুবিধা হচ্ছে।  হ্যালি বেরি এভাবেই বিষয়টিকে স্মৃতি রোমন্থন করেছেন যে সেদিন তার মনে হচ্ছিল, ” আমার যোনিতে যেন রেজারের ব্লেড আছে। ”

তাঁর সঙ্গীর কথা স্মরণ করেছেন হ্যালি বেরি, “তিনি রাতে যেন কাঁচি নিয়ে আমার দিকে এসেছিলেন , এবং আমি মনে হয়েছিল বলি , ‘দূর হও!’ কিন্তু সে আমার জীবনের ভালবাসা, এবং আমি বুঝতে পারি যে কোথাও কিছু ভুল আছে।”

সেক্সের সময় ব্যথার পাশাপাশি, তিনি মস্তিষ্কের মধ্যে জমে থাকা কুয়াশার আবেশ , ঘুমের সমস্যা এবং রাগের মুহুর্তগুলিও অনুভব করতে শুরু করেছিলেন।
তিনি সেই সময়ে তার ডাক্তারকে বলেছিলেন, “আমি মনে করতে পারছি না কেন আমি ঘরে এরকম করছি।আমি সারাক্ষণ বিভ্রান্ত…রাতে আমার ঘুম আসে না। আমি ক্লান্ত হয়ে জেগে উঠি, এবং সেসময় আমি মনে করতে থাকি ‘আমার কী হচ্ছে?'”

তার চিকিৎসক তাঁকে তখন আশ্বস্ত করে বলেন যে তিনি মেনোপজের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং এই ঘটনা একজন নারীর পিরিয়ডের সমাপ্তি চিহ্নিত একটি পর্যায় (সাধারণত তাদের চল্লিশ বা পঞ্চাশ বছরের পরে , মায়ো ক্লিনিক অনুসারে)  চিহ্নিত করে।অফিস অন উইমেনস হেলথের মতে,  মেজাজের পরিবর্তনের মতো আরও সুপরিচিত উপসর্গের পাশাপাশি, বেদনাদায়ক যৌনতা হল আরেকটি সাধারণ অভিজ্ঞতা। কারণ এই সময়ে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যায়, যার ফলে যোনি টিস্যু শুষ্ক ও পাতলা হতে পারে, যার ফলে মিলনের সময় অস্বস্তি , জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হতে পারে।

যদিও তার প্রাথমিক হতাশা সত্ত্বেও, বেরি এই স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জগুলিকে তার জীবনকে লাইনচ্যুত করতে দিচ্ছে না। তিনি জানিয়েছেন তিনি এই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েই সুস্থ জীবনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবেন। তিনি জানিয়েছেন, এখানে কিছু শেষ নয় বরং নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা। হ্যালি বেরির মতে, নারীদের এসময় বুঝে নিতে হয় বাস্তবকে।।

About Post Author