সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ ফেব্রুয়ারিঃ একশো দিনের কাজের দুর্নীতির তদন্তে তেঁড়েফুড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি। গত মঙ্গলবার একযোগে রাজ্যের ছ’টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। একশো দিনের কাজের দুর্নীতির তদন্ত ইতিমধ্যেই ডাব্লুবিসিএস অফিসার সহ ডেপুটি কালেক্টর এবং নির্মাণ সহায়কের কর্মীদের বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি। এবার তাঁদেরই তলব করা হল সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে। জানা গিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ডেপুটি কালেক্টর সঞ্চয়ন পানকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে। ওই দিনই আবার সিজিওতে নির্মাণ সহায়ক কর্মী সন্দীপ সাধু খাঁ-কে ডেকে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারি তলব করা হয়েছে ডব্লুবিসিএস অফিসার শুভ্রাংশু মণ্ডলকে। বেশ কিছু ব্যাঙ্কের নথিপত্র নিয়ে তাঁদেরকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ইডি জানতে পেরেছে ১০০ দিনের কাজ করেননি, এমন অনেক প্রাপকের নামে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের টাকা সরানো হয়েছে। ইডির গোয়েন্দাদের দাবি, একশো দিনের কাজে ১.৭৯ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তেড়েফুঁড়ে তল্লাশিতে নেমেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। কলকাতার সল্টলেক, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর, হুগলির ধনেখালিতে একযোগে হানা দিয়েছেন তদন্তকারী দল। সেইসঙ্গে ঝাড়গ্রামে এক প্রাক্তন ডব্লুবিসিএস অফিসারের বাড়িতেও তল্লাশি চলে বলে ইডি সূত্রে খবর। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, হুগলির ধনেখালিতে একশো দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেখানে অভিযুক্ত হিসেবে নাম ছিল এক প্রাক্তন বিডিও-র। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার সাত সকালে সল্টলেকের বিদ্যাসাগর নিকেতনে ওই প্রাক্তন WBCS অফিসারের বাড়িতে ইডির চিরুনি তল্লাশি বলেই সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে জালিয়াতিকাণ্ডের অভিযোগেই চালানো হয় এই তল্লাশি। এদিন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের একটি টিম বাছুরডোবায় ওই আধিকারিকের বাড়িতে হাজির হয়। গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হয় কড়া নিরাপত্তায় চাদড়ে। আবাসনের বাইরে মোতায়েন করা হয় বাহিনীর জওয়ানদের।
এছাড়া চুঁচুড়ার ময়নাডাঙায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও হান দেয় ইডি। অন্যদিকে, একশো দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। পঞ্চায়েত কর্মী রথীন দে-র বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর নেতৃত্বে ১০০ দিনের কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। রথীন দে নওদার পঞ্চায়েতের সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নওদা ও বেলডাঙার বিডিও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। দোষী প্রমাণিত হতেই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে জেলও খেটেছেন তিনি। বর্তমানে সাসপেন্ডেড রথীন দে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত, একশো দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ অনেক দিন আগেই তুলেছিল বিরোধীরা। এরপর কেন্দ্রের পক্ষ থেকে একশো দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বস্তুত, ২০১৯, ২০২০, ২০২১ সালে বেলডাঙায় দু’টি, ধনিয়াখালিতে ১টি, এছড়াও অন্যান্য ২ টি থানায় মামলা দায়ের হয়। মোট ৫ টি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসিআইআর দায়ের করে ইডি।


More Stories
অভিষেকের দুয়ারে ইডি
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
রথীন ঘোষ ফিরলেন ইডি দফতর থেকে