Home » রাজ্যপালের ভাষণ ছাড়াই বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন, কী থাকছে মমতার ‘খেরোর খাতা’য়?

রাজ্যপালের ভাষণ ছাড়াই বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন, কী থাকছে মমতার ‘খেরোর খাতা’য়?

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ ফেব্রুয়ারিঃ কেন্দ্রের অন্তর্বর্তী বাজেটের পর এবার রাজ্য বাজেটের পালা। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ রাজ্য বিধানসভায় চলতি অর্থ বছরের বাজেট পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই বাজেট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিন বেলা তিনটে থেকে বাজেট পেশ করবেন তিনি। এরপর আগামী ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ে আলোচনা হবে বিধানসভায়। রাজ্যের আর্থিক ঘাটতি মেটাতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, রাজ্যের একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়বে কিনা, সেই সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী। তবে এদিন রাজ্যপালের ভাষণ ছাড়াই শুরু হবে বাজেট অধিবেশন। কেননা বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন না রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।  

আরও পড়ুন   বঙ্গে তাপমাত্রার ওঠানামা কতদিন? জেনে নিন হাওয়া অফিসের বড় আপডেট

জানা গিয়েছে, এবার রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ভাষণ ছাড়াই। সোমবার অধিবেশনের প্রথম দিনই বিধানসভার স্পিকার জানিয়েছিলেন,রাজ্যপালের ভাষণ ছাড়াই কী ভাবে বাজেট অধিবেশনের সূত্রপাত হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দেবেন তিনি। সেই মতোই বুধবার অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘ রাজ্যপালের ভাষণ ছাড়া বাজেট অধিবেশন হওয়া বেআইনি নয়। এর আগেও সংসদে এইরকম ঘটনা ঘটেছিল। ১৯৬২ সালে সংসদে একইভাবে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ছাড়াই সংসদের বাজেট অধিবেশন বসেছিল। ২০০৪ সালেও একই ঘটনা ঘটেছিল। যে অধিবেশন এখন চলছে, তা গত বছর শীতকালীন অধিবেশনেরই ধারাবাহিকতা। এটিই বছরের প্রথম অধিবেশন নয়। তাই রাজ্যপালের ভাষণ দিয়ে এই বাজেট অধিবেশন শুরু করতে হবে এমন কোনও মানে নেই।’ তবে, রাজ্যপালের ভাষণ বাদ দিয়ে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হলেও এই নিয়ে রাজভবন এখনও পর্যন্ত কোনও আপত্তি জানায়নি।

 

প্রসঙ্গত, ৮ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আজ রাজ্য বাজেট পেশ হবে। ফলে মমতা সরকারের বকেয়া বঞ্চনার তোপের মাঝে সেদিকেই নজর সকলের। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই বাজেট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ধর্ণা মঞ্চ থেকে সম্প্রতি মমতা বন্দোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন মজুরি বাবদ ২১ ফেব্রুয়ারি ২১ লক্ষ শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে ৩৭৩২ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এই ঘোষণা মেনেই রাজ্য বাজেটে ১০০ দিনের জন্য টাকা বরাদ্দ হচ্ছে। অনেক প্রকল্পেই কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের টাকা প্রাপ্য। বকেয়ার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে এখন প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজারে পৌঁছেছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানিয়েছেন মমতা। নবান্ন থেকে ছয় সচিব গিয়ে দিল্লিতে বৈঠকও সেরে এসেছেন। কিন্তু এখনও কোনও আশ্বাস মেলেনি। এদিকে ক্যাগ রিপোর্টকে সামনে রেখে রাজ্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব গেরুয়া শিবির। নবান্ন সূত্রের খবর, আবাস প্রকল্পে ১১ লক্ষ নথিভুক্ত আবেদনকারীর টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। এই খাতে বকেয়ার পরিমাণ ৬৬০০ কোটি টাকারও বেশি। এই পরিস্থিতিতে একশো দিনের পাশাপাশি আবাসন প্রকল্পেও টাকার আংশিক সংস্থান থাকছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্তত মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার সূত্র ধরে এমনই আশা জেগেছে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এই টাকাও রাজ্যের তরফে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে এক দফায় তা দেওয়া হবে না।

About Post Author