Home » সন্দেশখালিকাণ্ডে ইডি-র ডেপুটি ডিরেক্টরকে তলব সিআইডি-র

সন্দেশখালিকাণ্ডে ইডি-র ডেপুটি ডিরেক্টরকে তলব সিআইডি-র

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ মার্চ: সন্দেশখালিকাণ্ডে এবার ইডি-র ডেপুটি ডিরেক্টরকে তলব রাজ্য গোয়েন্দা দফতরের। রবিবার অর্থাৎ আজই ভবানী ভবনে ইডি কর্তা গৌরব ভারিলকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সিআরপিসির ১৬০ ধারায় সিআইডি-র অফিসে ডাকা হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের ডেপুটি ডিরেক্টরকে। জানা গিয়েছে, সিআরপিসি-র ৯১ ধারায় অভিযোগ সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি নিয়ে ইডি-র ডেপুটি ডিরেক্টরকে হাজির হতে বলেছে ইডি। উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে রেশন দুর্নীতি মামলার তল্লাশি অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। ইডি-র হাতে গ্রেফতারির আশঙ্কায় শাহজাহান তাঁর অনুগামীদের হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকী তাঁদের জিনিসপত্রও লুঠের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওইদিন ভাঙচুর করা হয় গাড়ি কাচ। মাথা ফাটে ইডির অফিসারদের। এমনকী আহত হন নিরাপত্তারক্ষীরাও। হাসপাতালেও ভর্তি থাকতে হয় তাঁদের। এরপরই ইডি কর্তা গৌরব ভারিল শেখ শাহজাহান ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইডি কর্তার বয়ান ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন সিআইডি আধিকারিকরা। কার্যত সেই কারণেই গৌরব ভারিলকে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন    ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিপত্তি, শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় ব্যাহত ট্রেন চলাচল

প্রসঙ্গত, সন্দেশখালিকাণ্ডে দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ৫৬ দিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানকে। মিনাখাঁ থানায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর এদিনই শাহজাহানকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত শেখ শাহজাহানের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যেই সন্দেশখালির মূল মাস্টারমাইন্ড শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ১১টি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তার মধ্যে যেমন রয়েছে জামিন অযোগ্য ধারা, তেমনই রয়েছে মানবপাচার ও দেহব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগ। জানা গিয়েছে, মিনাখাঁ থানার পুলিশ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ১৪৭/ ১৪৮/ ১৪৯/ ৩৪১/ ১৮৬/ ৩৫৩/ ৩২৩/ ৪২৭/ ৩৭০/ ৫০৬/৩৪- মোট ১১ টি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলার রুজু করে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে। এদিন পুলিশ শাহজাহানের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়েছিল। তবে বসিরহাট মহকুমা আদালত শেখ শাহজাহানের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এদিন সাদা কুর্তা পাজামা পরে আদালতে হাজির হতে দেখা গিয়েছিল সন্দেশখালির ‘বাঘ’কে।

গোটা আদালত চত্বরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি শাহহাজানের বাড়িতেও প্রচুর পুলিশ ও RAF মোতায়েন করা হয়েছিল। এদিন, শাহজাহানের মামলাটি ‘স্পেশাল কেস’ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। এজলাসে এদিন শেখ শাহজাহান জেরায় তাঁর নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। রাজ্য পুলিশ আদালতে সেই নথিই জমা দিয়েছে। আদালতে জমা পুলিশের নথিতে শাহজাহানের স্বীকারোক্তির উল্লেখ রয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ পেয়েছে। পুলিশ শাহজাহানের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। পুলিশের কাছে সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি, অর্থাৎ যেদিন রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালিয়েছিলেন, সেদিন ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন শেখ শাহজাহান। ইডি আধিকারিকরা সিআরপিএফ জওয়ান নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছিল, ইডি তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে। ইডি-র হাতে গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি অনুগামীদের হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকী তাঁদের জিনিসপত্রও লুঠের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে পুলিশি জেরায় শেখ শাহজাহান স্বীকার করে নিয়েছেন।

About Post Author