Home » আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়াতে দেশজুড়ে ‘রেল রোকো’ অভিযান শুরু কৃষকদের, চরম ভোগান্তি যাত্রীদের

আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়াতে দেশজুড়ে ‘রেল রোকো’ অভিযান শুরু কৃষকদের, চরম ভোগান্তি যাত্রীদের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ মার্চঃ নিজেদের দাবিদাওয়া পূরণে ফের আন্দোলনের ডাক কৃষকদের বিভিন্ন সংগঠনের। কৃষকদের জন্য পেনশন, ফসলের জন্য ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের গ্যারান্টি দেওয়ার আইন, শস্য বিভাগ এবং তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিলের দাবিতে রবিবার ‘রেল রোকো’ অভিযানের ডাক দিয়েছে কৃষকরা। আজ দুপুর ১২ টা থেকে দেশেজুড়ে রেল অবরোধ শুরু করেছেন কৃষকরা। এর কারণে বেশ কিছু দূরপাল্লার ট্রেনের পরিষেবাও বিপর্যস্ত হতে পারে। এমনকী লোকাল ট্রেন পরিষেবাও বন্ধ  করে বিভিন্ন প্রান্তে রেল অবরোধ শুরু করেছে কৃষকেরা। এই অবরোধ চলবে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। মূলত পঞ্জাব ও হরিয়ানার ৬০টি জায়গায় রেল অবহতে পারে। ইতিমধ্যেই কৃষকরা জানিয়েছেন সরকারের দেওয়া প্রস্তাবে তাদের স্বার্থরক্ষা হচ্ছে না। কার্যত সেই কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব এসেছে তা খারিজ করেছে কৃষকরা। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার দুই নেতা সরবন সিংহ পান্ধের এবং জগজিৎ সিং দাল্লেওয়াল জানিয়েছেন, গত ৬ মার্চ থেকেই আবার দিল্লির অভিমুখে রওনা দিয়েছে আন্দোলনকারী কৃষকরা। যতক্ষণ না কৃষকদের দাবি পূরণ করছে কেন্দ্র, ততদিন আন্দোলন চলবে। এমনকী ট্রাক্টরে দিল্লি যেতে বাধা দিলে ট্রেন চেপে রাজধানী যাবেন কৃষকরা।

আরও পড়ুন   এই প্রথম রামনবমীতে ছুটি ঘোষণা রাজ্য সরকারের, কটাক্ষ শুভেন্দুর

উল্লেখ্য, কৃষকদের জন্য পেনশন, ফসলের জন্য ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের গ্যারান্টি দেওয়ার আইন, শস্যবিমা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিলের দাবিতে এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘দিল্লি চলো’র ডাক দিয়েছিল পঞ্জাব, হরিয়ানা সহ একাধিক রাজ্যের কৃষকেরা। কিষান মজদুর মোর্চা-সহ ২০০টিরও বেশি কৃষক সংগঠন এই আন্দোলনে শামিল হয়। কৃষক আন্দোলনের আঁচ রাজধানীতে যাতে না পড়ে, সেই কারণে গোটা রাজ্যজুড়ে জারি হয়েছিল ১৪৪ ধারা। অন্যদিকে, কৃষকদের ‘দিল্লিচলো’ রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল হরিয়ানা সরকার। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ১৩ তারিখ রাত পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিল। তবে, ভয়েস কলের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। চণ্ডীগড় থেকে দিল্লি যাওয়ার জন্যও বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কৃষকদের মিছিল রুখতে হরিয়ানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে রাস্তায় ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড বসানো হয়। অতিরিক্ত ৫০ কোম্পানি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে আন্দোলনকারী কৃষকরা কার্যত মরিয়া হয়ে উঠেছে মোদি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে। সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলিও কৃষকদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। এর আগে ২০২০ সালে কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে লাগাতার আন্দোলন চলেছে। সেই আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছিল মোদি সরকার। ‘বিতর্কিত’ কৃষি বিল প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নয়ডা এবং গ্রেটার নয়ডার প্রায় ১০০ গ্রামের হাজার হাজার কৃষক সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত জমির জন্য ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নামেন। কৃষকরা এক বছরেরও বেশি সয়ম ধরে দিল্লি তিন সীমানায় বসে লাগাতার আন্দোলন চালিয়েছিলেন কৃষকরা। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁরা তিন কৃষক আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করিয়েছিলেন। এই তিন আইনকে ‘কালা কানুন’ নামে আখ্যায়িত করেছিলেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি ক্ষমা চাওয়ায় তাঁরা আন্দোলন তুলে নিলেও সেই সময় কৃষকরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন শেষ হয়নি আন্দোলন।

#latestbengalinews

#trendingnews

#‘Rail Roko’campaign

About Post Author