Home » Kolkata Derby: ইস্টবেঙ্গলকে দুরমুশ করে যুবভারতীতে মোহনবাগানের জনগর্জন

Kolkata Derby: ইস্টবেঙ্গলকে দুরমুশ করে যুবভারতীতে মোহনবাগানের জনগর্জন

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১১ মার্চ: কলকাতা ডার্বির রং আবার সবুজ-মেরুন। রবিবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান। এই জয়ের ফলে মুম্বই ও ওড়িশাকে পিছনে ফেলে লিগ তালিকার একনম্বরে উঠে এল মেরিনার্সরা। এর ফলে লিগ শিল্ড জয়ের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হল অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের ছেলেদের।

একই দিনে শহর সাক্ষী থাকল দুটি ‘জনগর্জনের’। একদিকে সকালে ময়দানে ‘জনগর্জন’ সভা করে রাজ্যের শাসক দল। অন্যদিকে সন্ধ্যায় জনগর্জনটা নিঃসন্দেহে শোনা গেল যুবভারতীতে। যেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে পরাস্ত করল মোহনবাগান। ম্যাচের প্রথমার্ধে একচেটিয়া দাপট দেখাল তারা। যদিও দিনের শুরুটা হতে পারত ইস্টবেঙ্গলের। ক্লেইটনের পা থেকে বল কাড়ার সময় বক্সের মধ্যে ফাউল করেন বসেন বাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি তেজস নাগরেঙ্কর। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন বিশাল। ক্লেইটনের শট বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচিয়ে দেন তিনি। পেনাল্টি আদায় বাদ দিলে প্রথমার্ধে যুবভারতীর দখল নিল মোহনবাগান। লালহলুদ রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকেন জনি কাউকো, দিমি পেত্রাতোস, জেসন কামিংসরা। মাঝমাঠে অসাধারণ ফুটবল উপহার দিলেন কাউকো। দলের প্রথম গোলের ক্ষেত্রেও তার অবদান ছিল। ম্যাচের ২৭ মিনিটে তার পাস থেকে বল পেয়ে শট নিয়েছিলেন সামাদ। সেই শট ক্লিয়ার করলে বল পেয়ে যান পেত্রাতোস। পেত্রাতোসের শট মাটি ঘেঁষা শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচিয়ে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক। তবে বল তালুবন্দী করতে পারেননি তিনি। প্রভসুখনের হাতে লেগে বেরিয়ে আসা বল জালে জড়িয়ে দেন জেসন কামিংস। প্রথম গোল হজম করার পরও জড়তা কাটেনি লালহলুদ রক্ষণে। সেই সুযোগে ৩৬ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায় মোহনবাগান। পেত্রাতোসের বাড়ানো পাস থেকে গোল করেন লিস্টন কোলাসো। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে দলের হয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন পেত্রাতোস। বক্সের মধ্যে লিস্টনকে নন্দা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। স্পট কিক থেকে গোল করেন অজি ফরওয়ার্ড। প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারলে প্রথামার্ধে  ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত মোহনবাগান। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলকে ছন্নছাড়া দেখিয়েছে।

প্রথমার্ধের ছন্নছাড়া ইস্টবেঙ্গল বদলে গেল দ্বিতীয়ার্ধে। বিরতির পর দলে দুটি পরিবর্তন করেন লালহলুদ কোচ। অজয় ছেত্রী ও লালচুংনুঙ্গার পরিবর্তে নামান পিভি বিষ্ণু ও সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ফুটবল খেললেন দুজনে। একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে মোহনবাগান বক্সে। ৫৩ মিনিটে দলের হয়ে ব্যবধান কমান সউল ক্রেসপো। ক্লেইটনের পাস বুক দিয়ে রিসিভ করে ভলিতে বল জালে জড়ান স্প্যানিশ মিডিও। দর্শকের ভূমিকায় থাকা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না বিশালের। গোলের খাতা খুলে মোহনবাগানের উপর চাপ বাড়াতে থাকেন ক্লেইটনরা। বেশ কয়েকবার গোলের খুব কাছে পৌঁছে গেলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি ইস্টবেঙ্গল। ফলে ডার্বি থেকে ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে মোহনবাগান। 

আরও পডুুন: Mohun Bagan: প্লে-অফে সবুজ মেরুণ, ডার্বিতে নামার আগেই মোহনবাগানে খুশির খবর

এই জয়ের ফলে ১৭ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে এল অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের ছেলেরা। দুই ও তিন নম্বরে থাকা মুম্বই ও ওড়িশার থেকে এক ম্যাচ কম খেলেছে তারা। নিজেদের বাকি ম্যাচগুলিতে ছন্দপতন না হলে লিগ শিল্ডও এবার ঢুকতে পারে মোহন তাঁবুতে।

About Post Author