সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ মার্চ: ইডির উপর হামলার ঘটনায় শেষমেষ গ্রেফতার সন্দেশখালির ‘বাঘ’ শেখ শাহজাহানের ভাই আলমগীর সহ তিন জন। শনিবার বেলা ১১টা নাগাদ শেখ আলমগীর-সহ তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজাম প্যালেসে তলব করেছিল সিবিআই। সেই মত এদিন সিবিআই অফিসে পৌঁছন আলমগীর। দীর্ঘ নয় ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদের পর আলমগীর সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে সিবিআই। ইতিমধ্যেই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শুধু সিবিআই নয় ইডির তরফে শেখ শাহজাহানের ভাই শেখ আলমগীরকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ২১ মার্চ সিজিও কমপ্লেক্স ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে শেখ আলমগীরকে। সিবিআই মূলত ৫ জানুয়ারি ইডি আধিকারিকদের মারধরের ঘটনায় ডেকে পাঠিয়েছিল শেখ আলমগীরকে। এদিকে, আগামী ২১ মার্চ শেখ আলমগীরকে টাকা লেনদেনের বিষয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে ইডি। এর আগে গত ১৪ মার্চ শেখ শাহজাহানের ভাই শেখ আলমগীরের নিজাম প্যালেসের হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই হাজিরা তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন সিবিআই দফতরে হাজিরা দিলেন শেখ শাহজাহানের ভাই শেখ আলমগীর
প্রসঙ্গত, ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার অভিযোগে গত মাসেই শাহজাহানকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। বর্তমানে সিবিআই হেফাজতে সন্দেশখালির বেতা বাদশা। ইতিমধ্যেই শেখ শাহজাহানের (Shahjahan Sheikh) দুটি বিলাসবহুল গাড়ির হদিশ পেয়েছে ইডি। সূত্রের খবর, এক ঘনিষ্ঠের গোডাউনের লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এই গাড়ি। বৃহস্পতিবার ইডি আধিকারিকরা সরবেড়িয়ার একাধিক জায়গায় হানা দেয়। সেইসঙ্গে শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মোসলেম শেখের বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। তাঁর গোডাউনেই শাহজাহানের একাধিক বিলাসবহুল গাড়ির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। যা দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ ইডি আধিকারিকদের। জানা গিয়েছে, ওই গাড়িগুলো লোক করা ছিল। লোক খোলার জন্য মেকানিক ডাকা হয় ইডির তরফে। এরপর লক ভেঙে গাড়ি দুটিকে বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কলকাতায়।
শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত একটি মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। সেই সূত্র ধরেই গত বৃহস্পতিবার ধামাখালির কাছে একটি মাছের পাইকারি বাজারে তল্লাশি চলে। এই বাজারের অন্যতম অংশীদার নজরুল মোল্লার বাড়িতেও হানা দিয়েছিল ইডি আধিকারিকরা। শাহজাহানের ইটভাটা ও মাছের বাজারে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর,এদিন সকাল ৬.৩০ নাগাদ সন্দেশখালি পৌঁছে যায় ইডির দুটি দল ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর দুটি দলে বিভক্ত হয়ে তল্লাশি শুরু করেন গোয়েন্দারা। জানা গিয়েছে, সন্দেশখালিতে নদীর পারেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। শাহজাহানের ইটভাটাতেও তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। ইডির দাবি, চিংড়ি ব্যবসা এবং ইটভাটার কারবারের আড়ালে রেশন দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। সম্প্রতি আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত ব্যবসায় ‘অনিয়ম’ নিয়ে নতুন একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার ভিত্তিতেই শুরু হয় তদন্ত। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলার তদন্তে হাওড়া, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ মোট ছ’জায়গায় হানা দেন ইডি আধিকারিকেরা।
#latestbengalinews
#Sandeshkhali


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা