সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ মার্চঃ নির্বাচনী বন্ড নিয়ে ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ তথ্য দেয়নি। এই বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এহেন পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে নোটিসও জারি করা হয়। এসবের মাঝেই সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নির্বাচনী বন্ডের নম্বর সংক্রান্ত তথ্য ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জমা দিতেই হবে। এদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের তরফে এসবিআইকে আগামী ২১ মার্চ, বিকেল ৫টার মধ্যে নির্বাচনী বন্ডের নম্বর প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। বন্ড সংক্রান্ত কোনও তথ্য লুকোতে পারবে না এসবিআই। ব্যাঙ্ক বন্ডের তথ্য জমা দিলে, তা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের তরফে।
আরও পড়ুন Building Collapsed in Kolkataঃ মধ্যরাতে গার্ডেনরিচে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ বহুতল,মৃত ২, জারি উদ্ধারকাজ
এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, ‘ রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে সমস্ত তথ্য প্রকাশ করতে হবে, এক্ষেত্রে বাছাই করে তথ্য প্রকাশ করা চলবে না।’ উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া গত মঙ্গলবার নির্বাচনী বন্ডের তথ্য জমা দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। গত বৃহস্পতিবারের মধ্যেই সেই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছিল নির্বাচন কমিশন। এমনকী সেই বন্ডের ক্রেতা এবং প্রাপক দলের লম্বা তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছিল কমিশন। কত তারিখে কোন সংস্থা কোন দল কত টাকার বন্ড কিনেছিল, তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল। তবে এই তথ্য অসম্পূর্ণ, এমনই পর্যবেক্ষণ ছিল সুপ্রিম কোর্টের। জানা গিয়েছে, নির্বাচনী বন্ডে কোন সংস্থা থেকে কোন দলে চাঁদা গিয়েছে, তার পৃথক উল্লেখ ছিলনা।
প্রসঙ্গত, স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার থেকে দেওয়া তথ্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক ওয়েবসাইটে আপলোড করে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই তথ্য অনুযায়ী, ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে বিজেপির ঘরে ঢুকেছে ৬ হাজার ৬১ কোটি টাকা।এই তালিকা থেকে আঞ্চলিক দলও কিন্তু পিছিয়ে নেই। জাতীয় নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশ্যে আনা তথ্যের হিসেব অনুযায়ী, দ্বিতীয় সবথেকে লাভবান দল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনী বন্ডের থেকে তৃণমূলের লাভ হয়েছে ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বাধিক লাভবান দল কংগ্রেস। কংগ্রেসের ঘরে নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে ঢুকেছে ১ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। এই গেল সবথেকে বেশি লাভবান তিন দলের কথা। এছাড়া আরও বেশ কিছু আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলও দারুণভাবে লাভবান হয়েছে। যেমন, হাজার কোটির গ্রুপে রয়েছে তেলেঙ্গানার কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের ভারত রাষ্ট্র সমিতিও। কেসিআরের দলের নির্বাচনী বন্ড থেকে লক্ষ্মীলাভ হয়েছে ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। পিছিয়ে নেই ওড়িশার নবীন পট্টনায়েকের দলও। নবীন পট্টনায়েকের বিজু জনতা দল ইলেক্টোরাল বন্ড থেকে পেয়েছে ৭৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া, ডিএমকে, শিবসেনা, তেলুগু দেসম পার্টি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, এনসিপি, জেডিইউ, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলিও নির্বাচনী বন্ড থেকে কম-বেশি লক্ষ্মীলাভ করেছে।
# SConElectoralBond
#SupremeCourt
#electoralbondnumbers


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর