সানী রায় ও আর্থিকা দত্ত, সময় কলকাতা,৩১ মার্চ : ভোট বয়কট,বাঁধ দিন, ভোট নিন- লেখা সাইনবোর্ড, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা থেকে গোটা গ্রাম ঘুরে স্লোগান তুলে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে টাঙিয়ে দেওয়া হল ভোট বয়কটের সিদ্ধান্তের ব্যানার। জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি ব্লকের গাদং ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজী পাড়া এলাকার ১৫/২৩০ নং বুথের ঘটনা। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে লোকসভা ভোটের প্রাক মুহুর্তে ভোট বয়কটের ডাক এলাকাবাসীর। ঝাড় আলতা ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের পরে এবার গাদং। ভোট বয়কট করার ডাক দিয়েছে নদীবাঁধের দাবিতে।
এনিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল বলছে বিজেপির সাংসদ কোনও উন্নয়ন না করায় মানুষ ক্ষুব্ধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে বিজেপি প্রার্থী ডক্টর জয়ন্ত রায় কে বয়কট করে তৃণমূল কংগ্রেস মনোনীত করার আহ্বান তৃণমূল কংগ্রেসের। তৃণমূল প্রার্থী তথা ধুপগুড়ির বিদায়ী বিধায়ক প্রফেসর নির্মল চন্দ্র রায় কে জয়ী করলে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবিকে বাস্তবায়ন করবে তৃণমূল কংগ্রেস, এমনটাই প্রতিশ্রুতি জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অরূপ দের। পাল্টা আক্রমণ জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র রায়ের প্রশ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা গণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করে ভোট বয়কটের মত সিদ্ধান্তে সীলমোহর দেয় কি করে? বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে,ভোট বয়কট করে কোন লাভ নেই বরং এবারের বিজেপি প্রার্থী ডক্টর জয়ন্ত রায় কে বিপুল ভোটে জয়ী করাই সঠিক গণতান্ত্রিক পথ। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, বারবার প্রতিশ্রুতি মিলেছে। ভোট আসে, ভোট যায়। তাদের দুর্দশা দূর হয় না।
কথায় আছে, ভোট বড় বালাই। হোক না সে পঞ্চায়েত কিংবা কোন বিধানসভার উপনির্বাচন কিংবা লোকসভা নির্বাচন। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা ঝুলি হাতে বেরিয়ে পড়েছেন ভোটের আশায়। প্রতিশ্রুতি তাদের সম্বল। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে তারা কী পাচ্ছেন, কতটুকু পাচ্ছেন। জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি ব্লকের গাদং ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষ বলছেন তারা পেয়েছেন শুধুই প্রতিশ্রুতি। কিন্তু এবার কথায় আর চিড়ে ভিজতে দিতে নারাজ তাঁরা। এবার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাইছেন তাঁরা।
গাদং-য়ের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অত্যন্ত খরস্রোতা ডুডুয়া নদীর পাড়ের মানুষদের যন্ত্রণার ছবি নতুন নয় । নদী ভাঙ্গনের ফলে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি এমন কি বসত ভিটে টুকু জলাঞ্জলি দিতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষদের। তাঁরা বলছেন,তাঁদের যন্ত্রণার কথা সর্ববিদিত – সবাই জানে , রাজনৈতিক মহলের নেতা নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিকদের অফিস সমস্ত জায়গাতেই তাদের যন্ত্রণার কথা লিখিত আকারে আবেদন স্বরূপ দেওয়া রয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচন, ধুপগুড়ি উপ নির্বাচন, এমনকি আগামী ১৯ তারিখ এই লোকসভা কেন্দ্রেই লোকসভার ভোট। তবুও যন্ত্রণার অবসান নেই।
অবশেষে চরম পথ নিয়েছে মানুষ। ডুডুয়া নদী সংলগ্ন এলাকার মানুষজন রীতিমতো ব্যানার পোস্টার ছাপিয়ে বিভিন্ন স্লোগান তুলে গোটা গ্রাম মিছিল করে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দাবি,আগে হোক বাঁধ নির্মাণ। তারপরই ভোট দেওয়ার কথা তাঁরা ভাববেন । স্লোগান উঠছে “বাঁধ দিন, ভোট নিন”। তাঁরা চরম পথ বেছে নিয়েছেন যদিও তাঁরা নিশ্চিত নন যে এতেও যন্ত্রণার অবসান হবে। তবুও তাঁরা বলছেন তাদের হাতে বিকল্প নেই অন্য পথ খোলা নেই।।
#electionboycott


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী