Home » ভোটের সময় : পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী, তাঁতিপাড়ায় নেই মাকুর খুটখাট

ভোটের সময় : পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী, তাঁতিপাড়ায় নেই মাকুর খুটখাট

সুজয় ভট্টাচার্য ও পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা: #ভোটেরসময় এখন। লোকসভা ভোট দুয়ারে কড়া নাড়ছে। ভোটের সময় মানুষ বহু প্রতিশ্রুতি পায়, অধিকাংশ পূর্ণ হয় না। তবুও মানুষ কিছু দাবি তুলে ধরে তাঁদের অপ্রাপ্তির ঝুলি থেকে। এবারও রয়েছে এরকমই বেশ কিছু অপূর্ণ দাবি।দেশ ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে এমন কিছু দাবি যাকে ভোটের ইস্যু হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। সময় কলকাতা মানুষের সময়ের দাবি তুলে ধরেছে বিভিন্ন প্রান্তে। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী থেকে তুলে ধরা হল এমনই এক খন্ডচিত্র।

কবিতায় ছিল,”আঁধার এসে উঠোন ঘিরে অট্টহাস্য করে
তাঁতের ধ্বনি মধ্যরাতে সারাটি গ্রাম জুড়ে “কিন্ত এখন প্রযুক্তির যুগে অনেক একদা তাঁত নির্ভর গ্রামে শূন্যতা অট্টহাস্য করে। যান্ত্রিক সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে কুটির শিল্প বিপন্ন, নেই মাকুর খুটখাট।বাপ-পিতামহের তাঁত শিল্প ছেড়ে অন্য পেশা ধরছেন মানুষ। তাঁতের ঘরে তাঁত যন্ত্রে ঝুল জমেছে, ঝুলছে আলু -পেঁয়াজ। পুরোনো ঐতিহ্য ও তার স্বপ্ন হারাচ্ছে তাঁতি পাড়া। বর্ধমানের পূর্বস্থলীর ছবি তুলে ধরা যাক। কেমন আছে পূর্বস্থলীর তাঁতিপাড়া।

নেতা বা প্রশাসন যন্ত্রণার কথা শুনেও শোনে না, অভিযোগ তুলে ভোট বয়কটের ডাক দিল জলপাইগুড়ির গাদং

এখন নয়, মন্দা কয়েক বছর ধরেই।প্রায় দু -তিন বছর আগে লকডাউনের পর থেকেই তাঁতের ব্যবসায় নেমেছে চরম মন্দা, আর তাই পেটের টানে তাঁতের কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় নিযুক্ত হয়েছেন এলাকার অধিকাংশ তাঁতি। পূর্বস্থলী দু’নম্বর ব্লকের কালেখাতলা এক পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাবুইডাঙ্গা এলাকায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস, অধিকাংশ মানুষই তাঁতের সাথে যুক্ত ছিলেন। পূর্বস্থলীর  তাঁতে নির্ভরশীল জনপদে আজ আর তাঁত নিয়ে স্বপ্ন দেখার চোখ বন্ধ।

তাঁতিপাড়ায় লকডাউনের পর থেকে ঘরোয়া ব্যবসায় নৈরাশ্য।  অধিকাংশ লোকই তাঁতের ব্যবসা ছেড়ে কেউ ধরেছেন ফুলের ব্যবসা, কেউ করছেন চাষা-আবাদ, আবার কেউবা পাড়ি দিয়েছেন ভিন রাজ্যে।

তবে সমস্ত ভোটেই রাজনৈতিক দলের নেতারা এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। প্রতিশ্রুতি ফুলেফেঁপে ওঠে।   লোকসভা ভোট আসন্ন, আর ইতিমধ্যেই আনাগোনা শুরু হয়েছে নেতাদের। বছরভর এদের দেখা পাওয়া দায় জানিয়ে এলাকাবাসীরা এলাকার তাঁত শিল্পীদের জন্য কোন ব্যবস্থাই নেই ।

পেশা হারালেও , পেশা ত্যাগ করলেও তাঁরা তাঁতি। স্বপ্ন দেখা বন্ধ হলেও বুকে জমে আছে কষ্ট । সুদিন হারানোর কষ্ট। অন্যদিকে,তাঁতের ঘরে তাঁত বন্ধ করে সেখানে ঝোলানো রয়েছে পিঁয়াজ। যেই সাংসদ হোক না কেন স্থানীয় তাঁত শিল্পীদের জন্য কিছু একটা ভাবুক এমনই চাইছেন এলাকাবাসী।

জলপাইগুড়ির ঝাড় আলতা : কেন ভোট বয়কটের ডাক?

বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তো বলেছেন, “এই রাজা আসে ওই রাজা যায়
জামা কাপড়ের রং বদলায়….
দিন বদলায় না!” – আশা আকাশে বাতাসে ভাসে। যে মুষ্টিমেয় তাঁতিরা আজও পেশায় ফেরার কথা ভাবেন, তাঁরাও যেন ভুলতে বসেছেন তাঁদের ভোটের মূল্য। যিনি জিতবেন তিনি তাঁদের কথা কতটা ভাববেন তাঁরা জানেন না। তবুও তাঁতিদের কথা ভাবার সময় এসেছে, বলছে পূর্বস্থলী ।

বহুকাল ধরেই ভোট আসছে, যাচ্ছে। তাঁতিপাড়ার স্বপ্ন দেখার চোখ আর খুলছে না। মাকুর খুটখাট কানে বাজে না, বেজে চলে নেতাদের প্রতিশ্রুতি যা পালন হয় নি আজও। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর  তাঁতিপাড়ার স্বপ্ন দেখার চোখ খুলে দিতে চেষ্টা করবে কি কোনও রাজনৈতিক দল? ভোটের সময় ওঠা অপূর্ণ দাবির বাস্তবায়ন কি হবে ? সময়ই কথা বলবে।

#ভোটেরসময়

#latestbengalinews

About Post Author